শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দীর অভিযোগ মিথ্যা দাবি এটর্নি জেনারেলের

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি কোথায় আছেন তা জানি না। আমার জানার কথা না। এছাড়া গত কয়েকদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই বলেও জানান তিনি। 

গতকাল মঙ্গলবার এটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এই উপমহাদেশে হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যখন অটাম ভেকেশন (শরৎকালীন অবকাশ) হতো অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের যে ছুটি সে ছুটির পরে আইনজীবীদের সাথে বিশেষ করে এটর্নি জেনারেল, বার এসোসিয়েশনের সদস্যদের সাথে বিচারপতিরা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হতেন।

তিনি বলেন, এরই আলোকে অনেকদিন বন্ধের পর নতুন করে কোর্ট শুরু হয়েছে। আমরা আইনজীবীদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছিলাম। 

চাপ প্রয়োগ করে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির এমন বক্তব্যের বিষয়ে এটনির্ জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বার একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত হয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের কথা বলে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। একজন বা দুজন বিচারপতির জন্য এদেশে কোনওদিনই বিচার বিভাগের কাজ বন্ধ থাকেনি। আপনারা জানেন, অনেকগুলো যুদ্ধাপরাধের মামলার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে। এই সমন্ত প্রচেষ্টা হীন প্রচেষ্টা।

প্রধান বিচারপতির হঠাৎ এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেছেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন, উনি কি কারণ দর্শিয়ে গেছেন। আমরা জানি উনি একজন ক্যান্সারের পেসেন্ট (রোগী)। আগেও উনার ক্যন্সারের ট্রিটমেন্ট হয়েছে। কাজেই এটা সম্পূর্ণ উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ সমস্ত বক্তব্য দিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নানারকম ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এগুলোর কোনও সারবত্তা নেই। কোনও রকম বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এগুলোকে গোচরে আনারই প্রয়োজন পড়ে না।

অবকাশোত্তর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে প্রধান বিচারপতির না থাকার বিষয়ে এটর্নি জেনারেল বলেন, উনি থাকবেন কেন? উনিতো গতকালই ছুটিতে চলে গেছেন। ছুটিতে চলে যাওয়ার প্রেক্ষিতেই গতকাল রাতেই প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার কাছে। তাহলে এক অনুষ্ঠানে কি দু’জন প্রধান বিচারপতি থাকতে পারেন? তাছাড়া এটা সম্পূর্ণ তার ব্যাপার।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে গত ৪-৫ দিন ধরে কোনও যোগাযোগ নেই বলেও জানান এটর্নি জেনারেল। প্রধান বিচারপতি কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না। আমার জানার কথা না। তাছাড়া অসুস্থ হলে যদি অনুমতি না দেন তাহলে তো জোর করে দেখতে যাওয়া যায় না। অনুমতি চেয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চেষ্টাই করিনি। দেশে থাকলে হয়তো চেষ্টা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ