শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে ॥ ৬০ ভাগই শিশু

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গারা ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬০ ভাগ শিশু। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন তুলে ধরেন ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্থনি লেক ও ইমারজেন্সি রিলিফ কো-অর্ডিনেটর মার্ক লোকক। 

জাতিসংঘের এই দুই প্রতিনিধি বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬০ ভাগ শিশু। এদের মধ্যে আবার ৩০ ভাগের বয়স ৫ বছরের নিচে আর ৭ ভাগের ১ বছরের নিচে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩ ভাগ নারী সন্তানসম্ভবা আর ৭ ভাগ নারী নবজাতক শিশুর মা।

নতুন আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি ৫টি পরিবারের মধ্যে একটিতে কোন পুরুষ না থাকায় কর্তৃত্ব করছে নারী। ৫ ভাগ পরিবার রয়েছে শিশুপ্রধান। ২ লাখ রোহিঙ্গা শিশুই কোন শিক্ষার আলো পায়নি। অর্ধেক রোহিঙ্গার জন্যই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ দরকার।

 রোহিঙ্গাদের ৯০ ভাগ বলেছে তারা দিনে একবার করে খেতে পাচ্ছে। ফলে তারা চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। ৫ বছরের নিচে প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অপুষ্টিতে ভুগছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ ভাগ রোহিঙ্গা বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে। গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৭৯০ জন ডায়রিয়া রোগী পাওয়া গেছে ক্যাম্পগুলোতে। এ অবস্থায় যে কোন মুহূর্তে কলেরা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের জন্য মাসে গড়ে ১৫ মিলিয়ন করে ত্রাণ দরকার। দেড় লাখ নারী-শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার দরকার। ৩ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য জরুরি ভিত্তিতে স্যানিটেশন ও

বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। যার মধ্যে প্রতিদিন দরকার ৩ হাজার ঘন লিটার বিশুদ্ধ পানি। এরই মধ্যে জাতিসংঘ ৪০০ টিউবওয়েল ও ৩ হাজার স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন করেছে।

জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের মিয়ারমারে ফেরত পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। তবে যতদিন রোহিঙ্গারা যাচ্ছে না ততদিন তাদের মৌলিক অধিকার পূরণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘ এক হয়ে কাজ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ