শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। সেই সাথে আগামীতে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন না রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি। এদিকে নির্বাচনের তিন মাস আগে সংসদ বিলুপ্ত করে ভোটের একসপ্তাহ আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। খেলাফত আন্দোলনের পক্ষ থেকেও সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক মতবিনিময় সভায় দল দু’টি উক্ত দাবি জানায়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনাররা ছাড়াও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট দলটির নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ। এ পর্যন্ত ২০টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পক্ষ থেকে নাস্তিক, দুর্নীতিবাজ, দেশদ্রোহী, কালো টাকার মালিক,ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িত পরিবার, ইসলাম বিদ্বেষীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে নতজানু না হওয়ার দাবি জানানো হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো ইসির অধীন আনার দাবি জানান তারা। এছাড়া নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানায় দলটি।

এছাড়া দলটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচন সংক্রান্ত সব আইন বাংলায় করা, প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা, নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকার মধ্যে আনা, সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা নেয়া, প্রবাসীদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

এদিকে নির্বাচনের তিন মাস আগে সংসদ বিলুপ্ত করে ভোটের একসপ্তাহ আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে ২৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে দলটি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনাররা ছাড়াও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

১৮ সদস্য বিশিষ্ট দলটির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের। 

দলটির দাবির মধ্যে রয়েছে- ইসিতে নিবন্ধিত প্রত্যেকটি দলের একজন প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, কাস্টিং ভোটের পরিমাণ ৫০ শতাংশের কম হলে পুননির্বাচন, ইভিএম ব্যবহার না করা, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, না ভোটের ব্যবস্থা না রাখা, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও দলের নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করা বাধ্যতামুলক করা, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়া, রিটানিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলা জজদের নিয়োগ দেওয়া।

একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। ২৪ অগাস্ট থেকে দলগুলোর সঙ্গে মত বিনিময় শুরু হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক হয়।

৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ইসি। ২৪ আগস্ট থেকে দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করল ইসি।

এর আগে ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে মত বিনিময় করেছে ইসি। অক্টোবরের মধ্যে সবার সঙ্গে সংলাপ শেষ করার কথা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ