শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

তৃতীয় দিনটা ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের

রফিকুল ইসলাম মিঞা : প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনটা ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের। দক্ষিণ আফ্রিকার করা ৪৯৬ রানের জবাবে গতকাল বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছে ৩২০ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। ফলে ফলোঅন সেভ করে বাংলাদেশ ইনিংস পরাজয় এড়িয়েছে। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ৩৮ রানের মধ্যে দু’ওপেনারকে আউট করেছে। তবে তৃতীয় দিনে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ২ উইকেটে ৫৪ রান করে ২৩০ রানে এগিয়ে আছে। 

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৩২০ রানে। ৩২০ রান দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। ২০০২ সালে ইস্ট লন্ডনে ২৫২ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ স্কোর। ফলে ফলোঅন সেভ করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল ১৭৮ রানে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় আগের চার টেস্টেই ইনিংসে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার নিশ্চিত হলো, অন্তত ইনিংস ব্যবধানে হারছে না বাংলাদেশ। কারণ গতকাল ফলোঅন এড়িয়েছে তারা। ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৯৮ রান। তবে শুরুতে বিপদে পড়লেও মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় ইনিংস খেলা নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।

দ্বিতীয় দিনে করা ৩ উইকেটে ১২৭ রান নিয়ে গতকাল ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে মুমিনুল ২৮ রানে আর তামিম ইকবাল ২২ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে। এই জুটির উপরই ভরসা ছিল দলকে এগিয়ে নেয়ার। তবে তামিম ইকবাল দলকে বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি। ফলে দলীয় ১৫৮ রানে ভাংগে এই জুটি। বেশ কয়েকবার এলবি আউটের আবেদন উঠেছিল তামিমের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত অ্যান্ডিল ফেলুকোয়াইয়োর বলে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের হাতে ধরা পড়েন তামিম। তামিম আউট হওয়ার আগে করেন ৩৯ রান। ৬৭ বলে ৬ চার আর এক ছক্কায় তামিম ৩৯ রান করেন। তামিমের বিদায়ে মুমিনুল জুটি করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে। মুমিনুলের সঙ্গে রিয়াদের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে সফরকারীরা। এই জুটির উপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ দল ফলোঅন সেভ করে ৩২০ রানের ভালো একটা স্কোর গড়তে পারে। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২২৭ রানে। মুমিনুলের বিদায়ে ভাংগে এই সফল জুটি। তবে আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করে মুমিনুল নির্বাচকদের একটা উচিত জবাব দিতে পেরেছেন। ১৫০ বলে ১২ চারে মুমিনুল সাজান তার ৭৭ রানের ইনিংস। মুমিনুলের ব্যাটে ছিল অনেক দূর যাওয়ার ইঙ্গিত। কিন্তু কেশভ মহারাজের স্পিন সামনে না পিছনে খেলবেন এ নিয়ে দ্বিধায় ঠিকমতো খেলতে পারেননি। ক্যাচ চলে যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে এইডেন মার্করামের হাতে। ফলে ১৫০ বলে ১২টি চারে ৭৭ রান করে ফিরেন মুমিনুল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ও তাদের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। মুমিনুল ছাড়িয়ে গেছেন আল শাহরিয়ারকে। ২০০২ সালে ইস্ট লন্ডনে শাহরিয়ার করেছিলেন ৭১। মুমিনুল আউট হলেও সাব্বির রহমানকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন রিয়াদ। তবে দলীয় ২৯২ রানে সাব্বিরের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। ডুয়েন্নে অলিভিয়েরের বলে বোল্ড হন সাব্বির। আউট হওয়ার আগে সাব্বির করেন ৩০ রান। ফলে ৬৫ রানের জুটি ভাঙে সাব্বির আউট হলে। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মুমিনুল হকের সঙ্গে ৬৯ রানের ধীর জুটি গড়েন মাহমুদুল্লা রিয়াদ। এরপর সাব্বিরকে নিয়ে আরেকটা অর্ধশতাধিক রানের জুটি গড়েন তিনি। করেছেন ১০৭ বলে ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফসেঞ্চুরি। তবে দলকে ৩০০ রানের উপরে নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। দলীয় ৩০৪ রানে আউট হওয়ার আগে রিয়াদ করেন ৬৬ রান। মরকেলের কাছে বোল্ড হন রিয়াদ। ১২৪ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ে ৬৬ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এর পর আর বেশিদুর যেতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩২০ রানে থামে বাংলাদেশের স্কোর। মোস্তাফিজুর রহমান ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২৮ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারায় শেষ ৫ উইকেট। ৮৯.১ ওভার ব্যাট করছে বাংলাদেশ। কেশব মহারাজ ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস তিনি গুটিয়ে দেন ৩২০ রানে। এছাড়া মরকেল ও রাবাদা দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

বাংলাদেশকে ৩২০ রানে আটকে ১৭৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি দলটির। কারণ টাইগার বেলাদের বোলিং আক্রমণে ৩৮ রানেই হারায় প্রথম দুই উইকেট। দলীয় ৩০ রানে ওপেনার এলগারকে ১৭ রানে এলবি আউট করে শফিউল দলকে পথেম উইকেট এনে দেন। আর দলীয় ৩৮ রানে অপর ওপেনার মার্করামকে ১৫ রানে ফিরিয়ে উইকেট এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষ পর্যন্ত হাশিম আমলার অপরাজিত ১৭ রানে আর বাভুমার ১৫ রানের উপর নির্ভর করে ২ উইকেটে ৫৪ রান করে তৃতীয় দিন পার করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে দলটি ২৩০ রানে এগিয়ে আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ