শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সরিয়ে আরেক জনকে নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রীতির পরিপন্থী

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগকে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সরিয়ে আরেক জন ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রীতির পরিপন্থী। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও একটি অনিয়মের দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।
গতকাল শুক্রবার বিকালে অনুষদ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে তার স্থলে আরও একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ পরিপন্থী’ বলেও উল্লেখ করেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ পান সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৯০ দিন বা পরবর্তী ডিন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাবিতে ‘উপাচার্য বদলের প্রেক্ষাপটে’ এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে অধ্যাপক শফিউল ভুইয়া।
সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভুইয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচন দেওয়ার কথা ভিসিকে জানিয়েছিলাম। তা সম্ভব না হলে রেওয়াজ ও রীতি মেনে আমার মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু তা করা হয়নি।
অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনও ধরনের আক্রোশের শিকার হয়েছেন কিনা, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাকে এমন সময় সরিয়ে দেওয়া হলো যখন আমি ভর্তি পরীক্ষাকে আশঙ্কামুক্ত করতে অনুষদের বিভিন্ন পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন কর্মকর্তাকে বদলি করার জন্য ভিসিকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি কি তাহলে আক্রোশের শিকার?’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও রেওয়াজ নতুন ভিসি মানছেন না বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নির্বাচিত ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে অধ্যাপক ভূঁইয়া বলেন, ‘নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, ২ জুলাই থেকে অনধিক ৯০ দিন অথবা পরবর্তী নির্বাচিত ডিন কাজে যোগদান না করা পর্যন্ত (যা আগে ঘটবে তা কার্যকর হবে) সময়ের জন্য উপাচার্য আপনাকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ করেছেন। তা স্বত্ত্বেও এভাবে নতুন করে আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসাবে নিয়োগ দেওয়া ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
এভাবে নতুন নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কিংবা একাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক ভূঁইয়া বলেন, ক্লাস বা একাডেমিক কার্যক্রমে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে এবং ভিসিকে অপসারণ করা হয়েছে। ঢাবিতেও এমন কোনও আন্দোলন হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক ভূঁইয়া বলেন, ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়, অনিয়ম ও অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতির কাছে তুলে ধরছি।
 কোনও অনুষদে একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সরিয়ে দিয়ে অন্য একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনের নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের পরিপন্থী হিসেবে অধ্যাপক ভূঁইয়া যে অভিযোগ তুলেছেন সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাবির ভারপ্রাপ্ত ভিসি মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এটা আইন পরিপন্থী নয়। আমরা সমন্বয় করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ