মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে খুলনায় চলছে মেডিকেল ভর্তি কোচিং

খুলনা অফিস: মন্ত্রণালয়ের নির্দশনা লঙ্ঘন করে খুলনায় মেডিকেল ভর্তি কোচিং অব্যাহত রয়েছে। গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২০ নবেম্বর পর্যন্ত দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মূলত আগামী ৬ অক্টোবর এমবিবিএস ও ১০ নবেম্বর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই এ নির্দেশনা জারী করা হয়। কিন্তু খুলনার অধিকাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং মালিকরা মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা মানছেন না। সরকারি নির্দেশনাকে ‘ড্যাম কেয়ার’ করে তারা রীতিমত প্রকাশ্যেই কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ‘স্পেশাল ব্যাচ, বায়োলজি ব্যাচ এবং ভার্সিটি ভর্তি ব্যাচ’ সহ বিভিন্ন নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রীক মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং সেন্টার বন্ধের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের বিষয়ে কোন নজরদারি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে এসব কোচিং’র মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধান ও একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে নগরীর ফুল মার্কেট সংলগ্ন ডা. তারিমের পরিচালনাধীন থ্রি ডক্টরস ভার্সিটি ব্যাচ, রয়্যাল মোড় সংলগ্ন ৪৭নং খানজাহান আলী রোডস্থ হাদিউর রহমান সিয়ামের পরিচালনায় সানরাইজ কোচিংয়ের নামে ডিএমসি স্কলার ব্যাচ, নগরীর বাবু খান রোডস্থ পাইওনিয়ার মহিলা কলেজ সংলগ্ন ডা. ফাহাদ ও জুবায়েরের পরিচালনায় বায়োলজি ব্যাচের নামে ডিএমসি মিশন পয়েন্ট প্রাইভেট মেডিকেল ব্যাচ, শান্তিধাম মোড়স্থ খুলনা ভিশন ভবনে সরফরাজের পরিচালনায় উদ্ভাস ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিংয়ের ব্যানারে উন্মেস, ডা. শাপলা ও ডা. তন্ময়ের পরিচালনায় সরকারি আযম খান কমার্স কলেজের সামনে প্রাইমেট কোচিং এবং নগরীর পিটিআই মোড়স্থ রেটিনা কোচিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও ডা. রানা, ডা. পারভেজ ও ডা. ফিরোজের পরিচালনায় নগরীর ফুল মার্কেট সংলগ্ন থ্রি ডক্টরস একাডেমি ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়, নগরীর টুটপাড়াস্থ পুরাতন ইলাক্সের মোড়ে ডা. তরুণ এবং শান্তিধাম মোড়স্থ খুলনা ভিশন ভবনের চতুর্থ তলায় ক্রিয়েটিভ কোচিং নামে ডা. আসিফ ও সিরাজ প্রাইভেট মেডিকেল ব্যাচ পরিচালনা করছেন।
সূত্র জানিয়েছে, ডা. আসিফ ৬ হাজার প্রশ্নের সমন্বয়ে করা কথিত ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ ছয়শ’ টাকা, হাদিউর রহমান সিয়ামের ডিএমসি স্কলারে তিন হাজার প্রশ্নের সমন্বয়ে করা কথিত ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ দুইশ’ টাকা, ডা. রানা পাঁচ হাজার প্রশ্ন পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ডা. তারিমের থ্রিডক্টরস কোচিংয়ে সাত হাজার প্রশ্নের সমন্বয়ে কথিত ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ তৈরির কাজ চলছে। যার মূল্য বাবদ প্রতি সেট এক হাজার টাকা করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জমা নেয়া হচ্ছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই ডা. তারিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গত বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ডা. তারিমের করা কথিত প্রশ্ন ব্যাংক থেকে ৯২টি প্রশ্ন কমন পড়েছিল- দাবি করে সে পরীক্ষার্থীদের তার কাছ থেকে প্রশ্ন কিনতে উদ্বুদ্ধ করছে।
গত ২১ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (চিকিৎসা শিক্ষা-১ অধিশাখা) উপসচিব বদরুন নাহার সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ নবেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, এ নির্দেশনা জারীর পরও খুলনার মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ হয়নি। চলছে বহাল তবিয়তে। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা রাাখা হচ্ছে কোচিং সেন্টারগুলো। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এসব কোচিংয়ে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকছে চোখে পড়ার মত। পরীর্ক্ষার্থীরাও ভাগ ভাগ হয়ে কোচিংয়ে আসা-যাওয়া করছে। এমনকি এসব কোচিং থেকে পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন নামে ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে থ্রি ডক্টরস একাডেমির পরিচালক ডা. তারিম বলেন, তিনি ৩০ আগস্ট থেকে তার কোচিংয়ে মেডিকেল ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। তবে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরম পূরণের জন্য অফিস খোলা রাখা হয়েছে। রেগুলার প্রশ্ন হলে এবার তার কোচিং’র সাতশ’রও বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫০ থেকে তিনশ’জন মেডিকেলে চান্স পাবে আর প্রশ্ন ফাঁসসহ ই-রেগুলার হলেও দুইশ’র কাছাকাছি থাকবে বলেও আশাবাদি তিনি। এছাড়া তার প্রশ্ন ব্যাংক কিনতে কোন মূল্য নয়, শুধু ফটোকপি চার্জ নেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সানরাইজ কোচিংয়ের (ডিএমসি স্কলার ব্যাচ) পরিচালক হাদিউর রহমান সিয়াম বলেন, কোচিং বন্ধ রাখতে হবে- এমন কোন লিখিত নির্দেশনা তারা পাননি। যে কারণে কোচিং চালালেও কারও কিছু করার নেই।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত মৌখিক নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি কোচিং বন্ধ রেখেছেন। এর মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রশ্ন ব্যাংক কিনতে দুইশ’ পরীক্ষার্থী কোচিংয়ে আসায় অনেকেই কোচিং খোলা বলে ভাবতে পারেন। তিনি তিন হাজার প্রশ্নের ব্যাংক দুইশ’ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান। তার করা প্রশ্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ এবং বেশি হলে ৭০ ভাগও প্রশ্ন কমন পড়বে বলে আশাবাদি তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ