শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পত্নীতলার সুবিধাবঞ্চিত চাষিরা আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে

পত্নীতলা (নওগাঁ): নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কাশিপুর এলাকা থেকে বিলুপ্ত প্রায় আখ বোঝাই এ মহিষের গাড়িটির ছবি ধারণ করা হয়েছে

মো: মনিরুজ্জামান চৌধুরী (মিলন) পত্নীতলা (নওগাঁ): সরকারের দেয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ না-না বিড়ম্বনার কারণে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় আখচাষে ক্রমান্বয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ২০০৩ সালে ৩৫০ হেক্টর, ২০০৪ সালে ২০৭ হেক্টর, ২০০৫ সালে ৩০৭ হেক্টর, ২০০৬ সালে ২৬০ হেক্টর, ও ২০০৭ সালে ২৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে এ আখ চাষ হ্রাস পেতে পেতে গত মওসুমে মাত্র ১০৫ হেক্টরে চাষ হলেও চলতি মওসুমে মাত্র ৯৫ হেক্টর জমিতে এসে এসে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার কাশিপুর আঁখ ক্রয় কেন্দ্রের সি আই সি মো: শাহাজালাল (সবুজ) গত শুক্রবার এ প্রতিবেদককে জানায় চলতি মওসুমে মিলজোন এলাকায়  মাত্র ৩৫ একর জমিতে আঁখ চাষ করা হয়েছে। প্রতিমন আখ ১১০ টাকা দামে চাষীদের নিকট থেকে ক্রয় করা হচ্ছে। এ ক্রয় কেন্দ্রে মৌসুমে ৩২০ কুইন্টাল আখ ক্রয়ের লক্ষমাত্রা রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে নজিপুর পৌর এলাকার মোল্লাপাড়া গ্রামের চাষি আবুল কালাম, রিয়াজ উদ্দীন, মোজাফ্ফর রহমান, লুৎফর রহমান, পলিপাড়া গ্রামের সমর চন্দ্র মন্ডল, অমূল্য রতন, আয়ুব আলী, সহিদুল ইসলাম,কাশিপুর গ্রামের ইয়াকুব আলী বহবুলপুরের দিলীপ কুমার সাহা জানায় অতীতে তারা প্রতিবছর প্রতিজন পাঁচ বিঘা জমির নীচে আখ চাষ করেন নি। বর্তমানে তারা আর কেউ আখ চাষ করছেন না।
এর কারণ হিসাবে চাষিরা অভিযোগে জানায়, সরকারিভাবে ক্রয়মূল্যে চেয়ে সাধারণ মানুষ বেশী দামে আখ ক্রয় করে থাকে। নগদ অর্থ দিয়ে সরকার কোন সময় সাধারণ চাষিদের নিকট থেকে আখক্রয় করে না।
আবার বিক্রিত আখের টাকা উত্তোলন করতে অনেক সময় বিলম্ব ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আখ চাষের পর মাড়াই ও গুড় তৈরীতে চাষিদের স্বাধীনতা নেই। এ ছাড়া আখ মাড়াই করার সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে অনেককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আখ চাষ ও উত্তোলন করতে এক বছরের অধিক সময় লাগে। বর্তমানে চাষিরা একই জমিতে আখের পবিবর্তে ধান, পাট, কলা, আলুসহ একাধিক ফসল ফলিয়ে বেশী লাভবান হচ্ছে। এতে চাষিরা আখের চেয়ে অন্যান্য ফসল ফলিয়ে ব্যক্তি স্বধীনতা ভোগ করতে পারছেন বলেও দাবি করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর উভয় পার্শ্বের পলি অঞ্চলের চাষিরা আখের পরিবর্তে কলা ও অন্যান্য ফসল চাষ করে বেশী লাভবান হচ্ছে বলেও অনেক চাষিরা জানায়। সূত্র জানায়, এর আগে উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ হতো না। এখন হচ্ছে। চলতি মওসুমে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে চাষিরা কলা চাষ করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আখতারুজ্জামান এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, আখ চাষে মিলজোন ননমিল জোন এলাকা রয়েছে মিলজোনের মধ্যে আখ চাষিরা সরকার কর্তৃক দেয় সারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন কিন্তু ননমিল জোন এলাকার চাষিরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আখচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ