শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শিবগঞ্জে পদ্মার ভাঙ্গনের কবলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিবগঞ্জে পদ্মার ভাঙ্গনের শিকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জের ভাঙ্গন কবলিত পাকা ইউনিয়নে ৮৪নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মা নদীতে বিলীন হওয়ায় ১শ ৮৭জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরজমিনে দেখা ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে ১৯৮৪সালে স্থাপিত ৮৪নং পাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অনেকদিন যাবত নানাবিদ সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটানীর ন্যায় মাস খানেক আগে বিদ্যালয়ের ভবনটি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারণে ভবনটি ঝুঁকি পূর্ণ হওয়ায় প্রায় দেড় মাস থেকে পাঠদান বন্ধ আছে। ফলে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩৩জন শিক্ষার্থী সহ মোট ২শ ৮৭জন শিক্ষার্থীর পড়াশূন্য বন্ধ হয়ে যায়। সরজমিনে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙ্গারকাজ চলছে, বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী নেই। কোন শিক্ষকও নেই। বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ইসমাইল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক আছেন। তবে ১৫/২০দিন থেকে বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ থাকায় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষকরা প্রতিদিন  আসতে না পারায় মাঝে মাঝে আমি দেখা  শোনা করি। পাকা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সহ এলাকার অনেকেই জানান, এলাকাটি একদিকে দুর্গম ও আন্যদিকে ভাঙ্গন কবলিত হওয়ায় কোন শিক্ষকই স্থায়ীভাবে থাকতে চাই না। তিনি আরো জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনটি ভাঙ্গার কাজ চলছে। ফলে শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ আছে। যার ফলে বিশেষ করে ৫ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষতির সম্মখীন হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এ সব শিক্ষার্থীদের সুব্যবস্থা করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তুপক্ষের সুদৃষ্টি প্রয়োজন বলে তারা জানান। প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান,নদী ভাঙ্গনের কারণে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরানো হচ্ছে। মূল ভবনটি ১লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রী করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার কিছুটা বিঘœ ঘটছে। তবে নতুন টিন সেট চালু হবার পর বেশী বেশী করে পাঠদান করিয়ে পুষিয়ে নিব। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় অন্যত্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। যাতে শিক্ষার্থীদের কোন সমস্য না হয়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ