বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

দক্ষিণ আফ্রিকায় কেমন খেলবে বাংলাদেশ?

নাজমুল ইসলাম জুয়েল : আবারো কঠিন এক সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আট বছর পর পূর্ণাঙ্গ সফরে এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। অনেক কারণেই এবারের সফরটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ তিনটি সিরিজে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব বাহিনী এবার অনেকটা অপরিচিত কন্ডিশনে নিজেদের প্রমাণের পালা। দু’ভাগে ভাগ হয়ে এবার প্রোটিয়া দেশে যায় বাংলাদেশ দল। তবে অনেকটা আশ্চর্যজনকভাবে শুরুতে দলের সাথে যেতে পারেনি পেসার রুবেল হোসেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার অভিযোগ আছে রুবেল হোসেন নামের একজনের বিরুদ্ধে। তার জন্ম তারিখ আবার পেসার রুবেলের সাথে মিলে গেছে। সে কারণে ভিসা থাকার পরও অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল বাগেরহাটের এই ক্রিকেটারকে। পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি। এসব ছাপিয়ে মাঠের ক্রিকেটটাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের কাছে। কারণ ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা আর অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিনটি সিরিজেই ভাল করেছে টাইগাররা। তিনটি টেষ্ট সিরিজই ড্র করেছে মুশফিকুর রহিমের দল। সে কারণে এবার কিছুটা অপরিচিত কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলকে খেলতে হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শেরে বাংলায় মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ভালো খেলার প্রত্যাশার কথা জানান টাইগার অধিনায়ক। ২০১৯ বিশ্বকাপ সরাসরি খেলা নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নতুন করে নিজেদের উন্নতিটা দেখাতে হবে ক্রিকেটবিশ্বকে। আর গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ এখন সমীহ করা দলে পরিণত হয়েছে। এই তো সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামার আগে মুশফিক একবার মজা করে বলেছিলেন- আমরা খেলতে নামলেই এখন ইতিহাস-টিতিহাস হয়ে যায়! এবারও কি তেমন কোনো ইতিহাস রচনা করতে পারবেন তারা দক্ষিণ আফ্রিকায়। ম্যান্ডেলার দেশে গিয়ে উপমহাদেশের কোনো দলই সেভাবে কিছু করতে পারেনি। এটা মেনেই বাংলাদেশ দলপতি মুশফিক বলেছেন, আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলছি তাতে বিশ্বাস আছে, আমরা তাদের ওখানে গিয়েই তাদের হারাতে পারি। সাকিবের শূন্যতা মেনেই অধিনায়ক জানিয়েছেন, ব্যাপারটি চ্যালেঞ্জিং; কিন্তু বাস্তবতা মেনেই এই সফরে তারা একটি দল হয়ে দারুণ কিছু উপহার দিতে চান। মাইলফলক স্থাপন করতে চান এবারের সফরে। দলের বোলাররা হয়তো কিছুটা অনভিজ্ঞ; কিন্তু তাদের ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছেন মুশফিক। ওখানকার পেস অ্যান্ড বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশি বোলাররাও যে ভালো করবে, সে কথা জানিয়ে গিয়েছেন দেশ ছাড়ার আগে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে মুশফিকরা। ২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে আর ২ টোয়েন্টি-২০ খেলতে যাওয়ার আগে মিডিয়ার সামনে মুশফিক তার বিশ্বাসের কথা জানিয়ে গেলেন আর অনুরোধ করে গেলেন, তার দলটির ওপর ভরসা রাখার। দলের ক্ষতি হয় এমন কিছু না করতে। সাফল্যের বিষয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের খুব একটা ভালো রেকর্ড নেই। আমাদের খুব কম খেলোয়াড়ই আছে যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছে। এটা এমন একটা জায়গা, সব দলই ওখানে স্ট্রাগল করে। আমরা যাব, আমাদেরও হয়তোবা স্ট্রাগল করতে হতে পারে। আমরা অবশ্যই ভালো খেলার চেষ্টা করব। তবে সর্বশেষ ওখানে খেলা বাংলাদেশ দলের চেয়ে আমরা এখন অনেক বেশি পরিণত। অনেক উন্নœত একটা দল। আমরা যদি আমাদের স্কিলগুলো ভালো করে বাস্তবায়ন করতে পারি, আমার মনে হয় আমাদের ভালো সুযোগ রয়েছে। সেটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়’।
বড় হারে প্রোটিয়া দেশটিতে বারবারই হোচট খেয়েছে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। শেষবার যখন বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছিল তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। দুই টেস্টের দুটিতেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ঐবার বাংলাদেশ দলে ছিলেন বর্তমান ‘বিগ থ্রি’খ্যাত মুশফিক, সাকিব, তামিম। তবে বয়সে তরুণ ছিলেন তিনজন ক্রিকেটারই। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে সফল হতে না পারলেও বল হাতে ঠিকই সফল ছিলেন সাকিব আল হাসান। দুই টেস্টেই পাঁচ উইকেট শিকার করেছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে দলের হয়ে সফল ছিলেন কিশোর মুশফিক। দুই টেস্টে করেছেন ১১৭ রান, রয়েছে ৬৫ রানের একটি ইনিংসও। প্রথম টেস্টে মাত্র ২ রান দূরে থেকে ৪৮ রানে আউট হয়েছিলেন মুশফিক। তবে সময়ের সাথে বদলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট, বদলেছে ‘বিগ থ্রি’ রাও। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিব থাকলেও, এবারে তাকে পাচ্ছেনা দল। ব্যক্তিগত কারণে টেস্ট থেকে বিশ্রাম নিয়েছেন তিনি। তবে সেবারে তরুণ তামিম, মুশফিক বর্তমানে অনেক পাকাপোক্ত ক্রিকেটার, সাথে রয়েছে অভিজ্ঞতাও। দল নিয়ে আশাবাদী মাশরাফি বলেন, ’দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের আসল চ্যালেঞ্জটা হবে ওদের পেস বোলিং। তবে পেস বোলিং সামলানোর মতো ব্যাটসম্যানও আমাদের আছে। ওয়েলিংটনেও আমরা ৬০০ রান করেছি। অবশ্য সাকিব সে টেস্টে ২০০ করেছে, ও এবার নেই। তবে অন্য ব্যাটসম্যানদেরও ভালো করার সামর্থ্য আছে। আর টেস্ট জিততে হলে আমাদের বোলারদের ২০ উইকেট নিতে হবে, এটা তো জানা কথাই।’
বাংলাদেশকে দিয়ে আবারো অনেক বছর ধরে তালা ঝুলানো ষ্টেডিয়ামগুলো সচল হতে চলেছে। এই যেমন সেনউইজ পার্ক। এই মাঠের ইতিহাসে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একটি। ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু হয় পচেফস্ট্রমের এই মাঠটির। অর্থ্যাৎ যাত্রা শুরুর পর গত ১৫ বছরে এই মাঠে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। কিংবা টেস্ট ম্যাচের জন্য ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। যদিও ২০০০ সালে ওয়ানডে ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এখানে মাঝে মধ্যে কিছু ম্যাচ আয়োজন হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড সিএসএ’র কাছে মাঠটি র‌্যাংকিংয়ে কতটা পিছিয়ে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে এই মাঠে কাদের নিয়ে সিরিজ আয়োজন করা হয় সে চিত্র দেখলে। ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ বাদ দিলে ২০০২ সালের মার্চের পর এই মাঠে প্রোটিয়াদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া, কেনিয়া, বাংলাদেশ। বড়জোর জিম্বাবুয়ে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে যে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, এর মধ্যে বাকিটির ভেন্যু ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গুয়াঙ ওভাল। সাকুল্যে এই মাঠে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ২০০৮ সালে সর্বশেষ এই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষেই কোনো টেস্ট খেলেছিল স্বাগতিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলবে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও। এই তিন ওয়ানডের তিনটি ভেন্যু হচ্ছে কিম্বার্লির ডি বিয়ারস ডায়মন্ড ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক। ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে একটি মাত্র টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটাও বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০২ সালে। এরপর এই মাঠে কোনো টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়নি। ওয়ানডে ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয় কদাচিৎ, মাঝে-মধ্যে। সর্বশেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ বছর আগে, ২০১৫ সালে। এর আগে ২০১২ সালে একটি, ২০০৮ সালে একটি। ১৯৯২ সালে ওয়ানডে ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরুর পর দীর্ঘদিন বিরতি দিয়ে দিয়ে কিছু ওয়ানডে ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসকল ভেন্যুতে খেলে বাংলাদেশ কতটা ভাল করতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়।
বদলে যাচ্ছে ক্রিকেট মাঠের নিয়ম। ব্যাটের মাপ, ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) ও ডিসিপ্লিনারি নিয়মে আসছে বদল। ২৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ক্রিকেট কমিটির অনুমোদিত নতুন এই আইনের আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ হবে শুরু। নতুন এই নিয়ম নিয়ে চিন্তিত মুশফিক। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের বড় দুশ্চিন্তাটা ব্যাটের মাপ নিয়ে। আইসিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাটের পুরুত্ব হবে ৬৭ মিলিমিটার, সেই সঙ্গে ব্যাটের প্রান্তগুলোর নির্ধারিত মাপ থাকবে ৪০ মিলিমিটার। মাঠে দায়িত্বে থাকা আম্পায়াররা বিশেষ এক ছাঁচের মাধ্যমে মাপবেন ব্যাটের পুরত্ব। মুশফিকের শঙ্কার কারণ হলো, ব্যাটগুলোর মাপ ঠিকমতো না হলে সমস্যায় পড়তে হবে। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের বক্তব্য, ‘নতুন নিয়মগুলো জানি। যে কয়েকয়টা ব্যাট দিয়ে খেলেছি, সেগুলো ঠিক হবে কিনা, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি। এটাও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়।’ শুধু তাই নয়, মাঠে খারাপ আচরণ করলে শাস্তি পেতে হবে খেলোয়াড়কে। আম্পায়ারদের দেওয়া হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। কোনও ক্রিকেটার ‘ডিসিপ্লিনারি কোড’ ভাঙলে তাকে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবেন আম্পায়াররা। যার ফলে কমতে পারে স্লেজিংয়ের মতো ঘটনা।
অনেক ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেই ইমরুল কায়েস আর সৌম্য সরকার জাতীয় দলের জন্য বোঝা হয়ে দাড়িয়েছেন বলে দাবী করেছেন। একটার পর একটা ম্যাচে সুযোগ পেলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারছেন না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু গর্বের ওই সিরিজে গর্ব করার মতো কিছু করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। চার ইনিংস মিলিয়ে মোটে ২১ রান করেছেন। সাম্প্রতিক ফর্মটাই খারাপ যাচ্ছে এই বাঁহাতির, সব মিলিয়ে গত ১৫ ইনিংসে অর্ধশতক মাত্র একটি। তার ব্যাটিং নিয়ে হচ্ছে নানা সমালোচনা। সমালোচনা হচ্ছে ওপেনার সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্স নিয়েও। ইমরুলের মতো অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যর্থ হয়েছেন তিনিও। এরপরও দু’জনেই টিকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে। দুজনেই এখন নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চান, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকেই বানাতে চান ছন্দে ফেরার মঞ্চ। ঐতিহ্যগতভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট গতিময় আর বাউন্সি। এমন উইকেটে সৌম্যর সাম্প্রতিক ফর্ম অপেক্ষাকৃত ভালো। এই বিষয়টি আশা জোগাচ্ছে বাঁহাতি ওপেনারকে। নির্বাচকরাও একই কারণে তার ওপর আস্থা রেখেছেন। ইমরুলও বাউন্সি উইকেটে সাফল্য পেয়েছেন, তাই তাকেও দেয়া হচ্ছে সুযোগ। তা ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উপমহাদেশের দেশগুলোর জন্য সবসময়ই ভীষণ কঠিন। নতুন কারও জন্য হতে পারে আরও চ্যালেঞ্জিং। তাই নতুন কাউকে এমন চ্যালেঞ্জের সামনে ঠেলে দিতে চাননি নির্বাচকরা। তবে ইমরুল-সৌম্য চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন। এখন দেখা যাক সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন এই দু’ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরসূচি
তারিখ    ফরম্যাট            ম্যাচ
    প্রস্তুতি ম্যাচ
সেপ্টেম্বর ২১-২৩    তিন দিনের     সিএসএ আমন্ত্রিত একাদশ
        বনাম বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ২৮অক্টোবর ২    প্রথম টেস্ট    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ৬-১০    দ্বিতীয় টেস্ট    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ১২    ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচ    সিএসএ আমন্ত্রিত একাদশ
        বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ১৫    প্রথম ওয়ানডে    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ১৮    দ্বিতীয় ওয়ানডে    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ২২    তৃতীয় ওয়ানডে    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ২৬    প্রথম টি-২০    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ
অক্টোবর ২৯    দ্বিতীয় টি২০    দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম বাংলাদেশ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ