সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে ইসরাইলী আদালতের অনুরোধ

২৭ সেপ্টেম্বর, টাইমস অব ইসরাইল : ইসরাইলী সরকারকে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে দেশটির আদালত অনুরোধ জানালেও এ সম্পর্কিত চূড়ান্ত রায় প্রকাশ্যে না জানানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছে। ইসরাইলের হাইকোর্ট বলেছে, মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে চূড়ান্ত রাইর বিষয়টি জনসমক্ষে যাতে প্রকাশ করা না হয়, এজেন্য তার ওপর ‘গ্যাগ অর্ডার’ জারি করা হয়েছে। ইসরাইলী সরকারকে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে চাপ সৃষ্টি করবে কি না গত মঙ্গলবার এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করে আদালত। আদালত এমন এক সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিল যখন মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর জাতিগত নিধন চলছে এবং ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ইসরাইলের হাইকোর্টের একজন বিচারপতি দেশটির প্রতিরক্ষা ঠিকাদাররা মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখতে পারবেন কি না তা নির্ধাণের জন্যে দেশটির সরকারের কাছে আহবান জানান। ইসরাইলের মানবাধিকার এ্যাটর্নি এইতি ম্যাক সহ আরো ১০ মানবাধিকার কর্মী গত জানুয়ারি মাসে আদালতে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার আর্জিতে মিয়ানমারে গত কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যুদ্ধাপরাধের মত ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে ইসরাইলের এ্যাটর্নি জেনারেল শোশ শমুয়েল এ সম্পর্কিত পুরো মামলাটি’র বিষয়বস্তুর ওপর গ্যাগ অর্ডার জারির অনুরোধ জানান। তবে আদালত এ মামলার চূড়ান্ত রাইর ওপর গ্যাগ অর্ডার জারি করে। শশ শমুয়েল আদালতে বলেন, ইসরাইল কোন দেশে অস্ত্র বিক্রি করবে তা আদালত নয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। তবে ইসরাইলের মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন এ্যাটর্নির এধরনের বক্তব্যের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং তা পাগলের প্রলাপ সমতুল্য। কারণ ইসরাইল আইন ভঙ্গ করলে তা অবশ্যই আদালতে এখতিয়ার বলে গণ্য হবে।
গত বছর ইসরাইলের মানবাধিকার এ্যাটর্নি এইতি ম্যাক দক্ষিণ সুদানে ইসরাইলী অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করলে তারওপর গ্যাগ অর্ডার জারি করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে গত এক বছর ধরে এইতি ম্যাক মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্যে ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে মামলা করা ছাড়াও মামলার বিধি প্রণয়ন করেছেন ম্যাক। এর আগে রুয়ান্ডায় গণহত্যা চলাকালে দেশটিতে ইসরাইলী অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে আইনী লড়াই চালিয়ে ম্যাক ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু মিয়ানমারে ইসরাইলী অস্ত্র নিরীহ সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর জাতিগত নিধনে ব্যবহার হচ্ছে এবং তা যুদ্ধপরাধের পর্যায়ে পড়ে এই অবস্থান থেকে ম্যাক ফের আদালতে মামলা করেছেন।
আদালতে ম্যাক বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনারা যা করছে তা ইসরাইলের আইন বিরুদ্ধ, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নীতি বিরুদ্ধ যা ইসরাইল সমর্থন করতে পারে না। আদালতে ম্যাক জাতিসংঘের প্রতিবেদন থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ, নির্বিচারে গণধর্ষণ, শিশুদের শিরচ্ছেদ, তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। ইসরাইলের মত একটি রাষ্ট্র যা কি না একজন নবীর মতাদর্শে প্রতিষ্ঠিত সে রাষ্ট্র কিভাবে মিয়ানমারকে এধরনের কাজে সমর্থন বা দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে ইসরাইলের ৫৪ জন রাব্বি ও ইহুদি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে অবিলম্বে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানান। তারা এ ব্যাপারে এইতি ম্যাক যে বিধি প্রণয়ন করেছেন তাতেও সমর্থন দেওয়ার আহবান জানান। আদালতে ম্যাক জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ইতিমধ্যে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছে।
ইসরাইলের এক ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষক আভিদান ফ্রিডম্যান বলেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালতের উচিত মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে নৈতিক অবস্থান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। এক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের অভিন্ন অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফ্রিডম্যান।
ইসরাইল কোন দেশে অস্ত্র বিক্রি করবে তা সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আধিপত্যের মধ্যে বিশ্ব নেতা হিসেবে ইসরাইল উন্নয়নশীল বিশ্বে মিত্রদেশ তৈরি ও তা ধরে রাখার জন্যে এধরনের অস্ত্র বিক্রি করলেও তা রোহিঙ্গাদের গণহত্যায় ব্যবহার হওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না ইসরাইলের মানবাধিকার গোষ্ঠী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ