সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

গণমাধ্যম এখন অনেকটা সরকারি ভাষ্যে পরিণত হয়েছে

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আমারদেশ পরিবারের উদ্যোগে প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও সঞ্জীব চৌধুরীর স্মরণে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও সঞ্জীব চৌধুরীর স্মরণসভায় বক্তারা দেশের প্রয়োজনে গণমাধ্যমকে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, গণমাধ্যম এখন অনেকটা মৃত। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কোনো রকম চিহ্ন পর্যন্ত এখন নেই। গণমাধ্যম এখন অনেকটা সরকারি ভাষ্যে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের ক্ষতি হবে। গণতন্ত্রের জন্যই সাহসী গণমাধ্যম প্রয়োজন।
দৈনিক আমার দেশ পরিবার আয়োজিত এই স্মরণসভা গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীর স্ত্রী সীমা চৌধুরী, সাংবাদিক কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, হাসান হাফিজ, জাহেদ চৌধুরী, এম আবদুল্লাহ, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, ইলিয়াস খান, কাদের গনি চৌধুরী, মোরসালিন নোমানী প্রমুখ।
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও আমার দেশ-এর উপদেষ্টা সম্পাদক আতাউস সামাদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ২৬ সেপ্টেম্বর। একই পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান সঞ্জীব চৌধুরী পরলোকগমন করেন গত ৩১ আগস্ট।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের আজ যে অবস্থা তার সত্যনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার জন্য আতাউস সামাদ ও সঞ্জীব চৌধুরীর মত সাংবাদিকদের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ কূটনীতিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আজ আমাদের কোনো বন্ধু নেই।
তিনি বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভালো হয়েছে। তবে জেনোসাইড বা গণহত্যা শব্দটি উচ্চারণ করেননি তিনি। অথচ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে মিয়ানমারের ভয়াবহ সহিংসতাকে জেনোসাইড বলা হচ্ছে। আজ মিয়ানমারের গণহত্যার কারণেই ৫ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ভারতের বিপুল সংখ্যক লোক বাংলাদেশে চাকরি করছে। তাদের তৃতীয় বৃহত্তম আয়ের উ উৎস বাংলাদেশ। অথচ তারা আমাদের সঙ্গে নেই। বাংলাদেশের বড় সমস্যা এখন ভারত।
সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, আতাউস সামাদ ও সঞ্জীব চৌধুরী ছিলেন দেশপ্রেমিক সাংবাদিক। দেশের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট ছিল অপরিসীম। তিনি আতাউস সামাদের ‘একালের বয়ান’ বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আতাউস সামাদ লিখেছেন, জীবনের এতোটা পথ হাঁটলাম কোথাও আলোর দেখা পেলাম না। সেই আলো পেতে চাই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরাও আলোর রেখার দিকে তাকিয়ে আছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলেই দেশের মানুষ সেই আলোতে আলোকিত হবে। এজন্য গণমাধ্যমের আজ সাহসী ভূমিকা বড় প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আতাউস সামাদ আমার পড়ন্ত বেলার পেশা সাংবাদিকতার শিক্ষক ছিলেন। অন্যদিকে সহকর্মী সঞ্জীব চৌধুরী চমৎকার বাংলা লিখতেন। তার বাংলা ছিল আমার মনের মত। এই দুই সাংবাদিক সাহসীও ছিলেন। আজ দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মৃত্যু ঘটেছে। মিডিয়ায় এখন সরকারের ‘ন্যারেশন’ (ভাষ্য) ছাপা হয়। তিনি ঘোষণা করেন যে সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও সঞ্জীব চৌধুরীর লেখাগুলো সংগ্রহ করে শিগগিরই বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ