সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ফার্মাসিস্টদের অগ্রণী ভূমিকায় ঔষধ শিল্প আজ রফতানি শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত

চট্টগ্রাম অফিস : গত ২৫শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম এর  উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০১৭ উপলক্ষে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের অবদান ও ফার্মাসিস্টদের বর্তমান অবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়।
১৯৮২ সালের ঔষধনীতির প্রণয়নের পূর্বে দেশের চাহিদার মোট ৮% ঔষধ নিজেরা উৎপাদন করলেও বাকী ৯২% ঔষধ আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হত। কিন্তু ১৯৮২ সালের ঔষধনীতিতে ১৩ (ক) ধারার মাধ্যমে ঔষধ উৎপাদন, বিপণন ও মান নিয়ন্ত্রণে ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান বাধ্যতামূলক করার পর এই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭% ঔষধ নিজেরা উৎপাদন করার পাশাপাশি প্রায় ১৩৫টির বেশি দেশে ঔষধ রপ্তানি করে আসছে। যা বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সকল ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ফামার্সি চর্চা প্রয়োগ করা অধিক জরুরি। সুষ্ঠু ফার্মাসি চর্চা আইন না থাকলে ঔষধের অপব্যবহার বা অতিব্যবহারের ফলে ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অঙ্গহানি ও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। ঔষধের সঠিক ব্যবহার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ফার্মাসিস্টগণ সম্যক ওয়াকিবহাল। ফলে সুষ্ঠ ফার্মাসি চর্চার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট তথা দক্ষ ঔষধবিদদের তত্ত্বাবধানে সকল স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে।
তাই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ফার্মাসিস্টদের সরাসরি অংশ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন নিম্নোক্ত দাবীগুলো সদয় বিবেচনার জন্য পেশ করেন:১। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (FIT) ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রণোদিত সুষ্ঠু ফার্মাসি চর্চা (Good Pharmacy Practice) আইন অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা। ২। পদোন্নতির সুবিধা রেখে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (ইচঝঈ) কর্তৃক ফার্মাসিকে “ক্যাডার বিষয় (Cadre Subject)” হিসাবে ঘোষণা করা হউক। তাদের নাম হবে “ফার্মাসিউটিক্যাল অফিসার (Pharmaceutical Officer)"। এরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে “হসপিটাল ফার্মাসিস্ট (Hospital Pharmacist)” হিসাবে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হবে।৩। দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধানে হসপিটাল ফার্মেসি ও ক্লিনিক্যাল ফামার্সি চালু করতে হবে। ৪। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন- ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ দিতে হবে। ৫। “ড্রাগ থেরাপিউটিক কমিটি” গঠন করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৬। জেলা পর্যায়ের সকল ঔষধ সংরক্ষণাগারে ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে করে ঔষধের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য উপরোক্ত দাবি সমূহ পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন  ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী, এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের  উত্তর দেন ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী  কায়সার, আরো উপস্থিত ছিলেন ইউ এস টি  সি ফার্মাসী বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর কিশোর মজুমদার,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহ  ইরফান,সাংগঠনিক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দত্ত, জহির রায়হান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ