শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চায় বিএনপি

রোহঙ্গিা সংকট সমাধানে আর্ন্তজাতকি র্পযায়ে আলোচনা চায় বএিনপি

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে ‘দ্বিপক্ষীয় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চায় বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, আমরা এই কথা বলতে চাই, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর মীমাংসা হওয়া দরকার। দ্বি-পক্ষীয় আলোচনা করার জন্য অনেক আলোচনা আসছে, আমার মনে হয় না দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মিয়ানমারকে তাদের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জায়গায় আনা যাবে। তাদের আমরা আহবান করলে তারা (মিয়ানমার) আসবে একথা আমরা মনে করি না। আজকে বিশ্ববাসীর কছে বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকারকে আরো বলিষ্ঠভাবে বলতে হবে  যে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের দেশে ফেরত নিতে হবে, তাদের যে অধিকার সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাসাস সহসভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির দেখে আসা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সেখানে মুসলিম-হিন্দু রোহিঙ্গারা যেভাবে দিন কাটাচ্ছে এটা মানবেতর জীবন-যাপন। এই মানবেতর জীবন-যাপনে মানুষজন থাকতে পারে না। পশুকে যেভাবে আমরা রাখি, যেভাবে যে অবস্থানে রাখি আজকে রোহিঙ্গারাও যেখানে অদম অবস্থায় দিনকাল অতিবাহিত করছে। এটার পরিবর্তন দরকার।
 রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সরকারের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। আমরা লক্ষ্য করলাম যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় নাই। নিরাপত্তা পরিষদে যে দাবি জানানো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে, সেই দাবিও জানানো হয় নাই। এই পরিষদে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহন করার যে ক্ষমতা, যেটা ম্যান্ডেটরী হচ্ছে সমস্ত সদস্য দেশগুলোর। সেই জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো বক্তব্য রাখেননি। অর্থাৎ আমাদের দেশে যে রোহিঙ্গাদের সংকটটা আজকে সৃষ্টি হয়েছে সেখানে আমাদের দেশের নেতৃত্ব খুব একটা বেশি চিন্তাভাবনা করছে না। গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে প্রথম থেকে সরকারের ভুমিকার সমালোচনা করেন নোমান। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্টোপথে গাড়ি চালানোর রোধে শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, উল্টোপথে ৪০টা গাড়ি চলার কারণে তাদের জরিমানা কর্ াহয়েছে। ওইসব গাড়ি আওয়ামী লীগের নেতা, সরকারের মন্ত্রী ও সচিবদের।একজন সচিবের কথা আজকের পত্রিকায় উল্লেখও করা হয়েছে। দেশের যে আইনের শাসন, যারা আইন রচনা করছেন, তারাই আইন মানছেন। সচিবরা হচ্ছেন এক্সিকিউটিভ ওয়ার্কে তারা প্রধান। তারা আজকে এই নিয়ম ভঙ্গ করছেন। আমি মনে করি এসবের জন্য শাস্তির বিধান প্রয়োজন। যদি শাস্তি হয় কয়েজনের তাহলে অন্যরা সেখান থেকে পেছনে চলে আসবে।
 নোমান বলেন, রাস্তায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে দোষের মুখে পড়েন বেশি। রাস্তার এদিক থেকে ওদিকে গেলে তাদেরকে পু্শলি ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু যেসব সচিবের গাড়ি উল্টোপথে গেলো তাদেরর বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহন করলো এটা আমরা জানতে চাই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া বক্তব্যে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সম্পর্কে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। সত্যকে গোপন করেছেন। এরশাদের সামরিক শাসনসহ সকল শাসনকে তিনি সমর্থন করেছেন। শেখ হাসিনা সামরিক শাসনকে পছন্দ করেন। গণতান্ত্রিক শাসন তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি সরে যান, পদত্যাগ করেন অথবা ছুটিতে যান তাহলে দেশে একটি ভাল নির্বাচন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবেন এখন ১০ টাকায় একটি খালি বস্তা পাওয়া হয়। চাল পাওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা করেন না, আর যা বলেন না তা করেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল আওয়ামী লীগের আমলে সেটা হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ সালে। তখন শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ