শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চারঘাটের পাদুকাপল্লী দিচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান

চারঘাট (রাজশাহী): বাইসাইকেলের পেছনে জুতাভর্তি ঝুড়ি নিয়ে রাজশাহী শহর, বানেশ্বর, তাহেরপুর, নাটোরসহ এ-বাজার থেকে সে-বাজার ঘুরতে হয়েছে। উদ্দেশ্য নিজের কারখানায় তৈরি জুতা বিক্রি করা। আজ সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বড় দোকানগুলো পাইকারি দরে গ্রাম থেকেই সুদৃশ্য কার্টনে ভরা জুতা কিনে নিয়ে যায়। বর্তমানে এ গ্রমে ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানা গড়ে ওঠায় প্রতিযোগিতার কারণে আগের চেয়ে জুতার মানও অনেক উন্নত হয়েছে-এভাবেই বলছিলেন চারঘাটের কালুহাটি গ্রামের পাদুকা প্রস্তুত মালিক আমিরুল হক। ১৪ বছর আগে এ অঞ্চলে তিনিই প্রথম পাদুকা তৈরি শুরু করেন। এখন এ অঞ্চল পাদুকাপল্লী হিসেবেই পরিচিত। এখানকার কারখানাগুলো পুরো উত্তরবঙ্গে জুতা সরবরাহ করছে। এ শিল্পের ফলে ওই অঞ্চলে বেকারত্ব দূর হয়েছে। ন্যাশনাল সু কোম্পানির মালিক মকসেদ আলী জানান, ১৪ বছর ধরে পাদুকা প্রস্তুত শিল্পের সঙ্গে তিনি যুক্ত। প্রথমে ৫০ হাজার টাকা পুঁজি ও দু’জন কর্মচারি নিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার পুঁজির পরিমাণ ২০ লাখ এবং ১৮ থেকে ২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার কারখানায় দিনে ১৫০ থেকে ২০০ জোড়া জুতা তৈরি হয়। এই কারখানায় সাধারণত রেক্সিন দিয়েই স্যান্ডেল তৈরি হয়। তবে এখন চামড়ার জুতার দিকেও যাচ্ছে বলে জানান কারখানার মালিক মকসেদ আলী। পাদুকাপল্লীর কারখানা মালিকরা জানান, এসব কারখানায় তৈরি পাদুকা (চামড়া ও রেক্সিনের তৈরি স্যান্ডেল) রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁসহ আশপাশ জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় এসব বাজার ছাড়াও মাঝেমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয় বলেও জানান তারা। বর্তমানে এ শিল্পে সরাসরি ৪০০ থেকে ৪৫০ জন কর্মচারি কাজ করছেন, যাদের ৯০ ভাগই পুরুষ, বাকিরা নারী। কর্মচারিদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করেছেন মালিকরা। এছাড়া পরোক্ষভাবে অন্তত দেড় হাজার লোক এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। দুই ঈদের আগে বেশি বিক্রি হয় বলে মালিকরা জানিয়েছেন। শীতকাল এ শিল্পের জন্য মন্দা সময়। এ সময় একজন কর্মচারি মাসে ১৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সময় আট থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। এখানকার কারখানাগুলোতে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার জোড়া বিভিন্ন ধরনের স্যান্ডেল তৈরি হয়। কালুহাটি পাদুকা প্রস্তুত মালিক সমিতির সভাপতি নওশাদ আলী সরকার বলেন, মূলধন সমস্যার সঙ্গে অবকাঠামো না থাকায় বাড়ির সঙ্গেই ফ্যাক্টরি রয়েছে, যা এ শিল্পের জন্য বড় সমস্যা। এছাড়া মান বজায় রাখার স্বার্থে অত্যাধুনিক মেশিনপত্র, বৈদ্যুতিক, উন্নত মডেল বানানোর দক্ষতা এবং বাজারজাত করাই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করতে পারলে আরও অধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ