শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পদ্মা-মহানন্দা বিধৌত জনপদ চারঘাট

চারঘাট (রাজশাহী): পদ্মা (গঙ্গা)- মহানন্দা-নারদের পলি দ্বারা এই অঞ্চলের মাটি গঠিত হয়েছে বলে জানা যায়। আর তাই এই অঞ্চলের মাটি বেশ উর্বর। পূর্বে জঙ্গল আর হিংশ্র জীব-জানোয়ারে পরিপূর্ণ ছিল চারঘাটের মাটি। ‘ঝিকড়া’, ‘শাহপুর’কে (প্রাচীন শাহপুর নদীর গর্ভে নিমজ্জিত)  চারঘাটের আদি গ্রাম বলা হয়। সুলতানী আমল থেকে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। আস্তে আস্তে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। নওয়াবী আমলে রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় ‘সরদহ’ ( মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ-আখেরীগঞ্জ, সরদহ, চাপিলা ও নাটোর) দিয়ে যেতে হত। মুর্শিদাবাদ হতে রজশাহী ভুখন্ডে দুইটি লঞ্চ পথের প্রথমটি ছিল মুর্শিদাবাদের আখেরীগঞ্জ হয়ে রাজশাহীর সরদহ সোজা পথ। চারঘাট ও সরদহের ঘাট সমূহ দিয়ে নওয়ারী ও ইংরেজ আমলে রাজশাহী হতে কলকাতা ও ঢাকায় জাহাজ-লঞ্চ চলাচল করত। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ হওয়ার আগে ও পরে কলকাতা থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য চারঘাটের ঘাট ব্যবহৃত হত। ব্রিটিশ আমলে চারঘাট, সারদা ও নন্দনগাছিতে নীল ও সারদাতে রেশম কুঠি স্থপিত হয়। এখানকার পুলিশ ষ্টেশন বেশ প্রাচীন। রাজাপুর পুলিশ স্টেশন পদ্মাগর্ভে নিমজ্জিত হলে প্রথমে কিছুদিন পানি-কামড়াতে, পরে নারায়নপুরে কিছুদিন অবস্থানের পরে চারঘাটের সাথে যুক্ত করা হয়। অনেক পূর্ব হতেই চরঘাট হলুদ আর খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। পরে খয়ের শিল্পের জন্য চারঘাট উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। এই অঞ্চল প্রথম থেকেই মুসলিম প্রধান। হিন্দু ছাড়াও সাঁওতাল, খ্রিষ্টান সহ আরো বেশ কিছু সম্প্রদায়ের লোক এখানে বাস করে।
পূর্বে পদ্মা-বড়ালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল স্টীমার ঘাট, থানা ঘাট, ঠাকুর বাড়ির ঘাট ও বাবুলালের ঘাট। এই চারটি ঘাটের নামানুসারে চারঘাট নামটি এসেছে। এই ‘‘চার ঘাট’’ থেকেই চারঘাট শব্দটি এসছে। খেয়া ঘাট আর বেদের ঘাট নামে আরো দুইটি ঘাটের কথা জানা যায়। এখানে এক সময় এসএনআইজিএন সহ বিভিন্ন কোম্পানীর বড় বড় জাহাজ আসত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ