মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খাদ্য ঘাটতি খাদ্যমূল্য খাদ্য সংগ্রহ নিয়ে আগাম ভাবনা

জিবলু রহমান : [তিন]
বিভাগীয় পর্যায়ে এসব কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার। এসব কমিটিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতিনিধি থাকেন। বাজারে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলেও সরকার চালের অভাবে এত দিন ওএমএস শুরু করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি করে ওএমএস শুরু করা হচ্ছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্বল্প মূল্য সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারিভাবে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ৩০ টাকা কেজি দরে মোটা চাল বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা ৫ কেজি করে চাল নিতে পারবেন। সরকার মনে করছে, ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হওয়ায় খোলা বাজারে চালের দাম কমে আসবে।  মোট ৮০৬টি ওএমএস সেন্টারে পুরোদমে চাল বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত ১৭৯টি এলাকার মানুষ কম দামে এই চাল পাবেন। রাজধানীর ১০৯টি ওএমএস সেন্টারে চাল পাওয়া যাবে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) চালের দাম দ্বিগুণ করা হলো। সর্বশেষ ওএমএসে যে চাল ছিল ১৫ টাকা কেজি, এখন হয়েছে ৩০ টাকা করে। তবে আটা বিক্রি হবে আগের ১৭ টাকা কেজি দরেই। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ওএমসের চালের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। চাল বিক্রি হবে ৩০ টাকা কেজি দরে। আর আটা বিক্রি হবে আগের দরেই। আগে চালের দর ছিল ৩০ টাকা কেজি। সে সময় ১৫ টাকা কেজি দরে ওএমএসে চাল বিক্রি করা হয়েছে। এখন চালের দর ৪৫ টাকা কেজি। তাই ওএমএসে চালের দাম হবে ৩০ টাকা।
সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ করতে পারেনি। বিদেশি চালের ওপর ভরসা করে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এসব চাল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তা ছাড়া দেশের ভেতর থেকে যে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলোর দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে সরকার কম দামে কিনতে পেরেছে বলেই কম দামে ওএমএসে চাল বিক্রি করতে পেরেছে। এখন বেশি দামে কিনে একটু বেশি দামে বিক্রি করছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ওএমএসের চালের দাম ১৫ টাকা কেজিই রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে বলেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ওএমএসের চালের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছিল। সে সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ডিও লিখে ওএমএসের চাল ও আটার দাম পুনর্র্নিধারণ করার কথা বলেছিলেন।
বাজারে ১২ সেপ্টেম্বর মূল্য বেড়ে স্বর্ণা চাল ৪৩ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫১ টাকা দরে বিক্রি হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর স্বর্ণা চাল ৪৪.৫০ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫২.৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর স্বর্ণা চাল ৪৫/৪৬ টাকা ও মিনিকেট ৫৩/৫৪ এবং ১৫ সেপ্টেম্বর স্বর্ণা চাল ৪৮/৪৯ ও মিনিকেট চাল ৫৭/৫৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। ১২ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ২৪০ টন, ১৩ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ৭৫৯ টন, ১৪ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ৫৭০ টন, ১৫ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ২৭৭ টন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত এক হাজার ৫১৮ টন চাল আমদানি হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল (ইরি, গুটি স্বর্ণা) ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, বিআর-২৮ ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 
চালের দামের অস্থিরতা কাটাতে সরকার রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলাবাজারে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু করলেও এ নিয়ে প্রচার না থাকা এবং আতপ চাল বিক্রির কারণে খোলাবাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ কম দেখা গেছে। খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা প্রতি কেজি ১৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল ও আটা নিতে পারবেন।  সাধারণ মানুষের মধ্যে আতপ চাল ক্রয়ে অনীহা থাকার কারণে একদিকে দেখা দিয়েছে ক্রেতা শূন্যতা, অন্যদিকে লোকসানের কথা চিন্তা করে ওএমএসের ডিলার বা বিক্রেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
চালের বাজারের অবস্থা কেমন করুণ তা ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ দৈনিক মানব জমিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন হুবাহ তুলে ধরলেই অনুভব করা যায়। দৈনিক মানব জমিন-এর মতে, ‘...চাল কিনতেই সব শেষ। ডাল, সবজি বা মসলা কিনব সে সাধ্য নেই। চালের মতো বেড়েই চলেছে সবজির দামও। আয় নেই, রোজগার নেই। চারদিকে শুধু থৈ  থৈ পানি। প্রায় ৭ মাস সবই পানির দখলে। কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, মৎস্য খামার সব জায়গাতে পানি। এ বছর  চৈত্রের আগাম বন্যায় তলিয়ে যায় বোরো ধান। এরপর চলমান দীর্ঘ বন্যায় স্থায়ী জলবদ্ধতায় আমন আউশ দুটিই গেছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকের ঘরে নেই ধান চালের পর্যাপ্ত মজুদ। ধান চালের এমন সংকট দেখিয়ে হাওর তীরে বেড়েই চলেছে চালের দাম।
৩০ টাকার আতপ চাল এখন ৫০ টাকা। ক্ষোভে দুঃখে বোরো, আউশ ও আমন ধান হারানো হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের বাসিন্দারা এমন কথাই বলেন। তারা জানালেন প্রতিদিনই তাদের ১০-১৫ জনের পরিবারে চাল লাগে ৪-৫ কেজি। স্থানীয় বাজারে কোনো চালই ৪৫-৫০ টাকার কমে মিলছে না। এ হিসেবে প্রতিদিনই তাদের শুধু চাল কিনতে প্রয়োজন পড়ছে দুই থেকে আড়াইশ টাকা। আর এর বাইরে ডাল, মাছ সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো থাকছেই। তাদের মতো জেলার অন্যান্য ছোট বড় হাওর ও নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের একই অবস্থা। এখন বোরো ধান ও আমন ধান নষ্ট হওয়ার অজুহাতে হাওর পাড়ের ছোট খুচরা দোকানি থেকে শুরু করে উপজেলা শহরের দোকানগুলোয় চালের দাম বেড়েই চলেছে।
২৫ থেকে ২৬ দিনের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারগুলোতে খুচরা চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা। জেলা শহরসহ সবকটি উপজেলা শহর ও স্থানীয় হাটবাজারগুলোয় হু হু করে বাড়ছে চালের দর। মাস দেড় মাস আগে যে আতপ (পাইজম) চালের দাম ছিল প্রতিবস্তা ১৭ থেকে ১৮শ’ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫শ’ টাকা। হাকালুকির তীরবর্তী বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়ার স্থানীয় বাজারগুলোর চালের খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে এমন বাড়তি দাম লক্ষ্য করা যায়। একই অবস্থা কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর তীরবর্তী রাজনগর, মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাজারগুলোরও। কোথাও চালের দামের কমতি নেই। দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই তাহলে কেন এত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এমন প্রশ্নে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা মহাজনদের কাছ থেকে বাড়তি দাম দিয়ে ক্রয় করছি বলেই তা দামে বিক্রি করছি।
জেলা ও উপজেলা শহরের কয়েকজন পাইকারি চাল ব্যবসায়ী বলেন বোরো, আমন ও আউশ ধানের উৎপাদন না হওয়াতে আমাদের এলাকার অটোরাইস মিল বা চাতাল কলগুলো বন্ধ। তাই স্থানীয় পর্যায়ে নেই চালের উৎপাদন। এ কারণে এখন আমরা যাদের কাছ থেকে চাল কিনছি তারাই মূলত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান উৎপাদন না হওয়ার অজুহাতে হাওর ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বেশি দরে চাল বিক্রি করছেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের চাল দেয়া বন্ধ করার হুমকি দেন। ব্যবসা ধরে রাখার স্বার্থে ওদের কাছ থেকে ক্রয় করা চাল আমরা অনেকটা অল্প লাভেই বাজারে ছেড়ে দিচ্ছি।
 তারপরও দাম অনেক বেশি এমনটি স্বীকার করছি। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। তাছাড়া আগে যাদের চাল ও ধান মজুদ ছিল তারাও এ সুযোগে অধিক মুনাফার চিন্তায় চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। হাওর পাড়ের মুদি দোকানিরা জানালেন অন্যান্য বছর এ সময় তাদের দোকানে একবস্তা চাল বিক্রি করতে ১০-১২ দিন লাগত। কিন্তু এ বছর চালই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। ২-৩ দিনেই বিক্রি হচ্ছে এক বস্তা চাল। মৌলভীবাজার শহরের মুদি দোকানি সাকিব আহমদ, উত্তম পাল, সেলিম আহমদ, কালাম মিয়া, শরীফ আহমদসহ অনেকেই জানান, তারা এখন প্রতি কেজি আতপ (পাইজম) খুচরা বিক্রি করছেন ৪৮-৫০ টাকা।
 যা কয়েক দিন আগে ছিল ৩৫-৩৬ টাকা। কাটারি ভোগ ৫৭-৫৮ টাকা। কয়েক দিন  আগে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। বাসমতি মিনিকেট ৫৫-৫৬ টাকা। আগে ছিল ৩৮-৪০ টাকা। শাহজালাল (মধ্যম মোটা চাল) ৪৫-৪৬ টাকা। আগে ছিল ২৮-৩০ টাকা। জেলার সবকটি উপজেলায় এ বছর কমি বেশি বোরো ধান হারিয়ে যাওয়ায় হঠাৎ দাম বেড়েছে চালের। এখন এ  জেলার হাওর ও নদী পারের লোকজনের সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের লোকজনও চাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন...।’
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ দৈনিক প্রথম আলো-পত্রিকায় ‘খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চৈতন্যোদয় হোক’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়- ‘...মাত্র পাঁচ দিন আগে প্রথম আলোর সম্পাদকীয় স্তম্ভে চালের দাম আর কত বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই উদ্বেগ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে গত শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গেল, মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার মেসার্স স্বর্ণা অটো রাইস মিল ঈদুল আজহার পর প্রতি কেজি সরু মিনিকেট চাল বিক্রি করেছিল ৫৩ টাকা দরে। গত শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর)  তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা। ১০ দিনে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৬ টাকা। আর মোটা ও মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ৪ টাকা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর)  থেকে সরকার দ্বিগুণ দামে খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) শুরু করেছে। প্রতি কেজি আটা বিক্রি হবে ১৭ টাকায়। গত বছর এই চাল ১৫ এবং আটা ১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছিল। সরকারের খোলাবাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচি শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আগের চেয়ে দ্বিগুণ দাম নিলেও সরকার আতপ চাল সরবরাহ করেছে, যার প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ কম। ক্রেতারা আশা নিয়ে চাল কিনতে এসে আতপ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ অবস্থায় ওএমএসের প্রভাব বাজারে না পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে সেদ্ধ চালের ভাত খেতে অভ্যস্ত, সেখানে কেন আতপ চাল আমদানি করা হলো খাদ্য মন্ত্রণালয় সেই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে কি? মন্ত্রীরা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন, তাকে স্বাগত জানাই। তবে এ ক্ষেত্রে দলীয় লোকদের ছাড় দেওয়ার বদভ্যাস বন্ধ করতে হবে। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে।
দুর্ভাগ্যজনক হলো, শুরু থেকে চাল নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ঢিলেঢালা মনোভাব লক্ষ করা গেছে। চলতি বছর যখন চালের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছাল, তখনই আমদানি শুল্ক কমালে চালের বাজারের ঊর্ধ্বগতি ফেরানো যেত। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা বাস্তবানুগ পদক্ষেপ না নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং এখনো করছে।
যেখানে গণমাধ্যম পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম বার্তা দিয়ে সরকারকে সতর্ক করে দিচ্ছে, সেখানে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য তাদের দোষারোপ করা উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোরই নামান্তর। দেরিতে হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংবিৎ ফিরে আসুক ...।’  
বিগত ১০ বছর থেকেই চাল নিয়ে চালবাজি করছে মিলাররাই। এর ফলে কৃষকের ধান উৎপাদনের পর চাল ভোক্তাপর্যায়ে আসতে ১৩ হাত বদল হচ্ছে। ফলে ধাপে ধাপে কমিশন আর মুনাফার চাপে বাড়ছে চালের দাম। কারণ দেশে কৃষক এখন প্রায় ধানশূন্য। ফড়িয়ারা ওই ধান অনেক আগেই নামমাত্র দামে কিনে নিয়েছেন। তারা মাঠপর্যায়ের ধান সংগ্রহ করে সরবরাহ করেছেন স্থানীয় মহাজন বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে। এই মহাজনরা সংগৃহীত ধান তুলে দিয়েছেন হাস্কিং মিল মালিকদের হাতে। মিল মালিকরা সে ধান গুদামে অনির্দিষ্টকালের জন্য মজুদ হিসেবে ধরে রাখছেন। একই সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি বুঝে তারা ধান থেকে চাল উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছেন।
এ ক্ষেত্রে চালকল মালিকরাও আরও একধাপ এগিয়ে। ফলে হাস্কিং মিল, রাইস মিল কিংবা অটোরাইস মিল সর্বত্রই ধাপে ধাপে যে যার মতো মজুদ করে বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। চালের দাম বেড়ে যাওয়ার এটাই মূল কারণ। যদিও ব্যবসায়ীরা এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু খোঁড়া অজুহাত সামনে টেনে আনছেন। তারা অজুহাত দেখাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেশি। বর্তমানে সেটা ভারতের বাজারে ৫২০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। রফতানি চাল বাজারে আনতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। দেশে ধান নেই। স্থানীয়ভাবে ধানের দামও বেশি। আগামী নভেম্বরের আগে দেশে ধানের ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
অভিযোগ উঠেছে, চালের বাজার অস্থিতিশীল করতে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। সিন্ডিকেটটি ব্যবসায়ীদের মাঝে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ১০ সেপ্টম্বর ভারতের মিনিস্ট্রি অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র স্বাক্ষর বিহীন একটি ভুয়া চিঠি বন্দর এলাকায় বিভিন্ন ব্যাসায়ীদের মাঝে প্রচার করেছে। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর ভারত বাংলাদেশে চাল রফতানি করবে না। চিঠিটি মোবাইলে ছবি ধারন করে তা ছড়িয়ে দেয়া হয় ব্যবসায়ীদের মাঝে। চিঠির সূত্র ধরে পরে আমদানিকারকরা চালের মূল্য কেজি প্রতি ২/৩ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছেন। চিঠির গুজবে বাজারে চালের দাম হু হু করে বাড়াতে শুরু করে। অনেক আমদানিকারক বন্দর থেকে চাল খালাশের পর তা তাদের নিজস্ব গুদামে স্টক করতে শুরু করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ