মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাদীর পরিবারকে নিরাপত্তা দিন

সভ্যতা আর মানবতার কথামালার মধ্যে পৃথিবী জুড়ে এখন অসভ্যতা ও অমানবিক আচরণের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। শুধু বৈশ্বিক পরিম-লে নয়, আমাদের সামাজিক পরিম-লেও এমন আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নইলে মাদরাসা সুপারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশকে আসামী করে মামলা দায়ের করায় মামলার বাদীর বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করার সাহস পাবে দুর্বৃত্তরা কেমন করে? শুধু তাই নয়, মামলা তুলে না নিলে বাড়ির সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের কাথন্ডা গ্রামে মামলার বাদীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে বাদী বজলুর রহমানের ছেলে রাকিবুজ্জামানকে বেদম মারপিট করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বাদী বজলুর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার বাড়িতে যেয়ে তাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। পরে বারান্দার গ্রীল ভাঙে। এরপর দরজায় আঘাত করে ঘরে প্রবেশ করে আমাকে না পেয়ে ছেলেকে প্রহার করে। দুর্বৃত্তরা আরো বলে, তোর বাপকে মামলা তুলে নিতে বল নইলে তোকে মেরে ফেলবো। সন্ত্রাসীদের মাথায় হেলমেট ছিল। তাদের সাথে তিনজন পুলিশ সদস্য ছিল বলে বাদীর স্ত্রী জানান। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
২৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবরটিতে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে আমাদের পুলিশ-প্রশাসন। মজলুম মানুষ কি বিচার প্রার্থী হতে পারবে না? বিচার প্রার্থী হলে বাদীর বাড়ি ভাংচুর করা হবে, হত্যার হুমকি দেয়া হবে? এসব আইনের শাসনের উদাহরণ হতে পারে না। উল্লেখ্য যে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় পুলিশের নির্যাতনে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে এক মাদরাসা সুপারের। এই ঘটনায় ২ জন এসআই ও ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন মৃত মাদরাসা সুপারের বড় ভাই বজলুর রহমান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। মৃত মাওলানা সাইদুর রহমান হঠাৎগঞ্জ দাখিল মাদরাসার সুপার ছিলেন।
প্রশ্ন জাগে, ভাইয়ের মৃত্যু ঘটনার বিচার চাওয়া কি কোনো অপরাধ? নইলে পুলিশ সাথে নিয়ে দুর্বৃত্তরা বাদীর বাড়িতে হামলা করবে কেন? শুধু হামলা ও লুটপাট করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, বাদীর ছেলেকে প্রহার করে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকিও দেয়। মামলা তুলে না নিলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। এমন আস্ফালনে প্রশ্ন জাগে, আমাদের সমাজে নিরীহ সাধারণ নাগরিকদের কি নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি নেই? পুলিশ কিংবা দুর্বৃত্তরা কি যা ইচ্ছে তাই করতে পারে? দেশের সংবিধান এবং পুলিশের বিধিবিধান কাউকে এমন অধিকার দেয়নি। তাহলে সমাজে এমন অনধিকার চর্চা চলছে কেমন করে? আসলে আইনের শাসনে দুর্বলতা আছে বলেই আমাদের সমাজে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন এমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আমরা তো জানি দেশে সরকার আছে, প্রশাসন আছে, আছে বিধিবিধানও। তাই আমরা সাইদুর রহমান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চাই বাদীর পরিবারের নিরাপত্তাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ