মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাসের ভাড়া নিয়ে অরাজকতা

গাবতলি থেকে যাত্রাবাড়ি রুটে চলাচলকারী ৮ নং (২১ ও ২২) মিনিবাসের একশ্রেণির হেলপার-কন্ডাক্টরকে ডাকাত বা ছিনতাইকারী বললেও অত্যুক্তি হয় না। কারণ এরা যাত্রীসাধারণের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেশি ভাড়া আদায় করে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, গাবতলি থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা। ফার্মগেট থেকে শ্যামলী ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু কল্যাণপুর পর্যন্ত গেলে ভাড়া নেয়া হয় ৮ টাকা। অথচ শ্যামলী থেকে কল্যাণপুরের দূরত্ব কোয়ার্টার কিলোমিটারেরও কম। এর ন্যায্যভাড়া ৬ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু কন্ডাক্টরদের কেউ কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ও জোরপূর্বক ৮ থেকে ১০ টাকা ভাড়া আদায় করে। যাত্রীদের কেউ ন্যায্যভাড়া ৬ টাকা দিতে চাইলে ওরা দুর্ব্যবহার করে। চড়াও হয়। এমন অরাজকতা শুধু ঢাকাতেই চলছে তা নয়। এর ভয়াবহতা সমগ্রদেশকেই গ্রাস করে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, সরকার নির্ধারিত মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা। বড়বাসের ৭ টাকা। অর্থাৎ বাসে উঠলেই ৫ ও ৭ টাকা দিতেই হবে যাত্রীদের। কিন্তু সর্বনিম্ন ভাড়া দিয়ে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ কদ্দূর যাবেন তা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া নেই। তবে এদূরত্ব ৩ কিলোমিটারের কম হওয়া উচিত নয়। আড়াই-তিনবছর আগে পরিবহনভাড়া নির্ধারণের সময় মালিক-শ্রমিকদের মর্জিমাফিক তালিকা বাস-মিনিবাসের গায়ে সেঁটে দেয়া হলেও কিছুদিন পরেই হেলপার-কন্ডাক্টররা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সে তালিকা তুলে ফেলে দেয়, যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে মর্জিমাফিক ভাড়া আদায় করা যায়। পরিবহনভাড়ার তালিকানির্ধারক কর্তৃপক্ষেরও এব্যাপারে কোনও তদারকি ছিল না। এখনও নেই।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪০ বছরের অধিককাল ধরে কল্যাণপুর ও শ্যামলীর সবধরনের পরিবহনভাড়া ছিল সমান। কিন্তু গতবারই পরিবহনভাড়া নির্ধারণের সময় বিআরটিএ ও মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা যাত্রীসাধারণের পকেট মারবার স্বার্থে শ্যামলী-কল্যাণপুরের কোয়ার্টার কিলোমিটারেরও কম দূরত্বের ভাড়া করে ৩ থেকে ৫ টাকা। আর এই সুযোগেরই যুৎসই ব্যবহার করছে একশ্রেণির পরিবহনশ্রমিক তথা হেলপার-কন্ডাক্টর। কোনও কোনও বাসরুটের হেলপার-কন্ডাক্টরতো যাত্রী বাসে উঠে মাত্র আধা-এক কিলোমিটার দূরত্বে গিয়ে নামলেও ১৫ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া নিয়ে নেয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য এরকম বাসগুলোর নাম দেয়া হয়েছে ‘সিটিং সার্ভিস’, ‘নন স্টপ সার্ভিস’ ইত্যাদি। এই কসাই হেলপার-কন্ডাক্টররা দেশটাকে যেন মগের মুল্লুক ভাবে। যাত্রীদের মানুষই মনে করে না। তবে সব হেলপার-কন্ডাক্টর ন্যায্যভাড়া প্রদানকারী যাত্রীদের ওপর চড়াও হন তা কিন্তু নয়। বিবেক অনেক হেলপার-কন্ডাক্টরেরও আছে এটা স্বীকার করতেই হয়। ঝামেলা হয় শুধু বিবেক ও বোধহীন ছিনতাইকারী মানসিকতার হেলপার-কন্ডাক্টরদের অনাকাক্সিক্ষত আচরণের জন্য।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা বিআরটিসির বাসের হেলপার-কন্ডাক্টরদেরও অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে অন্যায় আচরণ করেন যাত্রীদের সঙ্গে। ৩ বা ৫ টাকা অর্থ হিসেবে আজকাল খুব সামান্য হলেও শুধু কল্যাণপুর-শ্যামলীতে নয়, মহানগরী ঢাকার বিভিন্ন রুটসহ সারাদেশের প্রায় সব রুটের কয়েক কোটি বাসযাত্রীর কাছ থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ছিনতাই বা ডাকাতি করে নেয়া হচ্ছে। এ অবিচার ও জুলুমের প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ কে করবেন? যাত্রীসাধারণতো সংঘবদ্ধ ও সংগঠিত নন। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ। এদের অনেক ইউনিয়ন ও সংগঠন রয়েছে। এসবের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর শক্ত সমর্থনও আছে। কোনও কোনও পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকনেতাতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ও ভাগ বসাতে সক্ষম হয়েছেন। কাজেই যাত্রীসাধারণের পকেট থেকে অন্যায়ভাবে ন্যায্যভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অরাজকতা রুখবে কে? আমরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ