মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রাখাল দে ঠিকাদার, রড ছাড়া বিল্ডিং আওয়ামী লীগের উন্নয়ন

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : জীবনের প্রথম স্লোগান দিয়েছি আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘জয় বাংলা জয় হিন্দ, হারিকেন বেইচা নৌকা কিন’। প্রথম গান গেয়েছি ‘ছলে বলে চব্বিশ বছর রক্ত খাইলো চুষি, জাতিকে বাঁচাইতে যাইয়া মুজিব হলো দুষি’। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলতে কষ্ট হয় আর বলবই বা কেন? জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব যে বলেন- ‘যে টাকা কামাই করেছেন তা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে হবে, ক্ষমতায় যেতে না পারলে কেউ সালাম দিবে না, এসব কথা কি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে? না এর অর্থ হলো সতর্ক হও বা ভালো হয়ে যাও। আলেম-উলামা, ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী দলসমূহের উপর আওয়ামী লীগের নির্যাতনের স্টীম রোল নিয়ে কি তেমন কিছু লিখেছি? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা কি করেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজে ছাত্রীকে কি করলো এর ফিরিস্তি কি আমি কখনো দিয়েছি? না এসব নিয়ে আমার তেমন কোন বক্তব্য নেই। এগুলো মিডিয়ায় নিয়মিত আসে। আবার প্রতি মাসে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তালিকা সুন্দর করে তুলে ধরছেন একজন দক্ষ লেখক ওয়াসিয়ার রহমান মন্টু, মে মাসের রাজনৈতিক সন্ত্রাস জুন মাসের রাজনৈতিক সন্ত্রাস শিরোনামে। অন্যদিকে লালমনিরহাটে রাস্তায় কার্পেটিংয়ে বিটুমিন ইমালসন না দিয়ে পোড়ামবিল দিয়ে কাজ সমাধা হয়েছে, তাও আমি লিখিনি, লিখেন ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী। আমি ওনাদের মত এত বড় মাপের লেখক বা গবেষক নই। কাজেই কোন বিষয়ের গভীরে যাওয়ার যোগ্যতাও আমার নেই। যে বিষয়টি বলা দরকার তা হলো, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বা যে কোন অপকর্মের একটা সীমা থাকে এবং থাকা উচিতও। অনেক সময় দেখা যায়, অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিচার হয় না ধামাচাপা দেয়া হয়। যেমন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছেলেটি। প্রিয় পাঠক সেই ছেলেটি বলার সাথেই আপনারা বুঝতে পেরেছেন কোন ছেলেটি। তবে কি আর বিস্তারিত দরকার আছে? তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল কেবলই বহিষ্কার, তাও নাকি সাময়িক। রিলিফ পেয়ে অস্বীকার করায় সিলেটে এক ব্যক্তিকে কান ধরে উঠবস করতে হলো, সে তুলনায় কি ঐ ছাত্রের বিচার যথার্থ হয়েছিল? এবার একটু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে নিই। আমি দক্ষিণবঙ্গের মানুষ হওয়ার দরুন দলবল বুঝি না, আপনারা অখুশি হলেও কিছু আসে যায় না। যা বলার বলবই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতার সাথে বলেছেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করবো’। পদ্মা সেতুর কাজ অনেকটাই এগিয়ে, আমরা আশা করি, এ সেতু দিয়েই আমার শরীয়তপুর জেলায় প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাবো তা বেশি দূরে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরো একটি কারণে ধন্যবাদ, তিনি শামীম ওসমান ও জয়নাল হাজারীর মত সিংহ পুরুষদেরকে অনেকটাই মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছেন অর্থাৎ বাঘা নেতা বলে কোন কথা তার কাছে নেই। এখানেই শেষ নয়, কামরুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদের মুখে লাগাম দিয়ে দিয়েছেন, হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সাইজ করেছেন। চাটুকারদের কথায় কে না প্রভাবিত হন। তথাপি টাই-প্যান্ট পরা চাটুকারগণ ওনার কাছে একটু কমই ভিড়তে পারেন বলে মনে হয়। বরিশালে ইউএনওকে অপমান করার দরুন তিনি তার দলের লোককে শাস্তি দিয়েছেন। নায়িকা শাবানা চলচ্চিত্র ছেড়ে স্বাভাবিক ও ইসলামী জীবন যাপন করায় গত ক’দিন আগে তাকে আজীবন চলচ্চিত্র সম্মাননায় ভূষিত করেছেন। এ ভালো কাজগুলোর স্বীকৃতি দেয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের কিছু চাওয়া অন্যায় হবে না। তাহলো আমাদের বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন এবং এ খুশিতে তিনিও এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরও আস্থাভাজন হওয়ার জন্য বেশি বেশি কথা বলছেন। তিনি হয়তো জানেন না, কোন কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অপছন্দ করেন কাদের সাহেবকেও ঐ বেশি কথা বলায় বাবু সুরঞ্জিত সেনের মত থামিয়ে দিবেন। আমাদের রাস্তাঘাটের অবস্থা কিন্তু খুব নাজুক। যখন জনাব আবুল হোসেন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন তখন ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী লিখেছিলেন ‘ওস্তাদ সামনে আবুল’। এর মানে হলো- রাস্তা খারাপ মানেই আবুল হোসেন। এখন মানুষে বলা শুরু করেছে সামনে ‘ফাটাকেষ্ট’। এ ফাটাকেষ্ট অর্থ অনেকেই বুঝত ভারতের নায়ক একদিনের জন্য মন্ত্রী, গরীবের বন্ধু ফাটাকেষ্টকে। কিন্তু ওবায়দুল কাদের ভালোভাবেই বুঝে ফেলেছেন, ফাটাকেষ্ট অর্থ খুব ভালো অর্থ নয়, এটা মূলত একজন গুণ্ডা নায়ক। তাই তিনি বলেছেন, ‘আমাকে ফাটাকেষ্ট বলবেন না’। আমরা তাকে ফাটাকেষ্ট নাই বা বললাম, তবে তাকে অবশ্যই রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে আর একটু মুখে লাগাম দিতে হবে। এবার আসি রাখাল দে ঠিকাদার-এর কথায়। রাখাল দে সিলেটে ঠিকাদার হিসেবে একটি কলেজের ভবন তৈরি করলো, আর প্রকৌশলীরা গিয়ে দেখল, পিলারের মধ্যে কোন রড নেই। চারতলা ভবন নাকি রড ছাড়া হয় তা প্রথম শুনলাম। এখানে সরকার বা আওয়ামী লীগের দোষ কোথায়? হ্যাঁ দোষ আছে তা হলো- এসব ঠিকাদার রাখালরা ঠিকাদারী পায় ২/৩ হাত বদল হওয়ার পর। মূল ঠিকাদার ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতারা। তারা টেন্ডার বাক্স দখল করে রাখে আর নিজেদের মতো করে প্রথম লাভ খেয়ে এক ঠিকাদারকে কাজ দেয়। ২য় ঠিকাদার আবার তার লাভ রেখে ৩য় জনের নিকট কাজ বিক্রি করে। রাখাল দে হচ্ছে সর্বশেষ ঠিকাদার যার লাভ আগেই সবাই খেয়ে ফেলেছে, এখন তার পুঁজি রক্ষা করতে হলে বড় তো দূরের কথা ইটাবালু দেয়াও সম্ভব নয়, ফলে যদ্দুর সম্ভব রড়ের উপর দিয়েই তুফান চালানো হয়েছে। যুক্তি যাই হোক রাখাল দে এত বড় ধৃষ্টতার সাহস পেলো কোথা থেকে তাও দেখা উচিত। যদিও তাকে কোমরে দড়ি বেধে প্রকাশ্যে শাস্তি দেয়া হয়েছে তার পরেও কথা থাকে। যদিও চার তলা ভবনটি ভেঙে পড়তো তবে হাজার হাজার শিশু-কিশোর ছাত্র-ছাত্রীর জীবন চলে যেতো তখন খোঁজা হতো এ বিল্ডিং-এর অনুমোদন কে দিয়েছে? কে-ই বা ঠিকাদার ছিলো,  তখন কি আর রাখাল দে কে পাওয়া যেতো? রানা প্লাজার নকশা অনুমোদনকারী ও ঠিকাাদর কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে? তাই সরকার এর উন্নয়নের জোয়ারের সাথে সাথে এ দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির জোয়ার থামাতে হবে এবং রাখাল দের মতো টিকাদারদের প্রকাশ্যে দিবালোকে ফাঁসির মঞ্চে ফাঁসি দিতে হবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৪৫ বছর পূর্বের লুটপাটের অজুহাতে যেহেতু ফাঁসি দিতে পারেন, বর্তমানে এসব লুটেরাও জনগণের দুশমনদের ও তা করতে পারবেন, তাতে সন্দেহ নেই। পরিশেষে বলা যায় আসুন কেবলই রাজনীতির মধ্যে সফল জনগণকে আর নিমর্যিত না রেখে দেশটাকে সাজাই। অন্যায় জুলুম বিদায় করে ন্যায় আর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করি। অন্যের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা তৈরি করি। একটি মাত্র আশ্রয় স্থল বিচারবিভাগ তা যেন ধ্বংস না করি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি একটা কথা বলার সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হলো ‘তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন ‘আবার মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলে দিলেন “বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে রাজনৈতিক বক্তব্য দেব”। আমরা এখানে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ দিবো এজন্য যে, মানুষের ব্যথা-বেদনা দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ থেকে যদি সঠিক আচরণ পাওয়া যায় তবেই জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলেও বিচার বিভাগকে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে তাহলে আর রাখাল দে’রা রড ছাড়া চারতলা বিল্ডিং তৈরি করার সাহস পাবে না। সাহস পাবে না ছাত্রলীগ আর যুবলীগও টেন্ডারবাজী আর চাঁদাবাজি করতে। তখনই আমরা বুঝতে পারবো যে আমরা একটি ন্যায়পরায়ণ আদালতের অধীনে আছি। আমাদের দেশের সংবিধানের দোহাই দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন শাসকগোষ্ঠী। সংবিধানের কাঁধে বন্দুক রেখে ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব করেছে। অথচ পাকিস্তানের দিকে লক্ষ্য করলে আমাদের শাসক গোষ্ঠীর বুক কেঁপে উঠার কথা ছিলো। সুপ্রিম কোর্ট দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাতিল করে দিয়েছে। আর আমাদের শাসক গোষ্ঠী কিভাবে সুপ্রিম কোর্টকে কব্জায় রাখবে তা নিয়ে জল্পনা আর কল্পনায় ব্যস্ত। সবকিছুর উপরে বিচার ব্যবস্থা। এ চিরন্তন সত্যকে লালন করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আইন কানুনকে উপরে না রাখলে কোনদিনই শাসক গোষ্ঠী সঠিক পথে চলতে পারবে না। দেশ থেকে অসৎ আর দুর্নীতিবাজ সরকার ও দূর হবে না দূর হবে না রাখাল দে দের মতো দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ