শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

আত্মশুদ্ধির মহান আদর্শ ইসলাম

ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ : ইসলাম হলো আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমপর্ণ। যে কেহ ইসলাম গ্রহণ করে সে সর্বাগ্রে ঘোষাণা দেয়- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। নির্ভেজাল তৌহিদের বলিষ্ঠ শপথ এই কালেমা তাইয়্যেবা। ইহার বাংলা অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোন প্রভু নেই এবং মুহম্মদ (সা:) আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূল  বা বার্তাবাহক। তাতে বান্দাহ্ মহান আল্লাহ্র দাসত্ব পরিপূর্ণভাবে মেনে নেয়।
ঈমান: মহান আল্লাহকে না দেখে সে তাঁর প্রতি পূর্ণবিশ্বাসী হয়।পুরাপুরি আস্থা ও একাগ্রতায় সব এবাদতে আল্লাহর প্রতি মশগুল হতে  পারা পবিত্র আত্মার পক্ষেই সম্ভব। সে সমস্ত শিরক আর বিদআতকে প্রত্যাখ্যান করে পুত পবিত্র একজন সুন্দর ও সেরা বিশ্বাসী মানুষে পরিণত হয়ে যায়। তার মনের মধ্যে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধতার সূত্রপাত হয়। অন্য মানুষেরা যারা নাস্তিক, কাফির, মুশরিক, বেদ্বীন বা চরিত্রহীন তাদের মত সে নয়। এমন অগ্রগামী মানুষ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে পবিত্র পানি দ্বারা গোছল ও অজু করে। তাতে তার দেহ ও আত্মার মধ্যে পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির সূচনা হয়। এভাবেই এই মানুষটি আত্মশুদ্ধির মহান আদর্শ ইসলামের মধ্যে দাখিল হয়। তাকেই মুসলিম বলা হয়। সে তখন অনুভব করে যে সে একজন মুসলমান। সে আল্লাহ্র অনুগত বান্দাহ। সে আল্লাহ্কে ভয় করে চলে। প্রতিদিনের জীবনে ন্যায় নিষ্ঠতা, সততা, আল্লাহ্র হক, বান্দাহ্র হকসহ উত্তম মানসিকতার সাথে সব কাজ করে।
সে এখন সেরা মানুষ। সব কাজেই সে আল্লাহ্কে ছাড়া কাউকে মানে না। পবিত্র দেহ ও মনের এই মানুষটি বার বার অজু করে এবং প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার ফরজ সালাতের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ্র সামনে এসে সাহসিকতার সাথে দাঁড়ায়।
সালাত: বান্দাহ্ তার আত্মশুদ্ধি তথা পুণ্য অর্জনের জন্য দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঁচবার করে সালাত আদায় করে থাকে। সালাতের শুরুতে সে রাসূল (সা:) প্রদর্শিত ছানা পাঠ করে থাকে। উক্ত ছানার বাংলা তরজমা হলো- হে আল্লাহ তুমি আমার এবং গুণাহগুলোর মধ্যে এরূপ পরিমাণ দূরত্ব কর যে পরিমাণ দূরত্ব পূর্ব দিগন্ত ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যে রয়েছে। হে আল্লাহ্, তুমি আমাকে গুনাহ্ হতে এমন ভাবে পরিষ্কার কর যেমন সাদা কাপড় ধৌত করে ময়লাবিমুক্ত করা হয়। হে আল্লাহ, তুমি আমার যাবতীয় পাপকে পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও। (বুখারী, মুসলিম ও নাসায়ী) এখানে লক্ষণীয় যে বার বার পাপ পংকিলতা থেকে মুক্ত করে নিজেকে সে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে চায়। নিজেকে নিস্পাপ করে স্বচ্ছ ও সুন্দর মানুষরূপে দেখতে চায়। আত্মশুদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর কাছে সে আন্তরিক কামনা করতে থাকে বারবার।
মহান আল্লাহ্র মহান বিধান আল-কুরআন মুখে উচ্চারণ করার পূর্বে প্রকাশ্য দুশমন শযতানের যাবতীয় কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চায়। সে আল্লাহ্র কাছে দোয়া করে বলে সর্বজ্ঞাতা, সর্বশ্রোতা আল্লাহ্ তায়ালার নিকট বিতাড়িত শয়তানের কুহক, কুমন্ত্রণা ও প্ররোচণা হতে আশ্রয় চাচ্ছি। (আবুদাউদ) এর পর সে ঘোষণা দেয় পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহ্ তা’য়ালার নামে আরম্ভ করছি। (বুখারী) এভাবে সে তার হৃদয় ক্বল্বকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পবিত্রতায় পৌঁছাতে মহান আল্লাহ্র কাছে আন্তরিক কামনা করতে থাকে। সে এক ধ্যান আর একমনে সালাতে রত হয়। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার প্রভুর অনুগত হয়ে যায়। সে বারবার সূরা ফাতিহা, কুরআনের অন্যান্য সূরা বা আয়াত, তাসবিহ, তাহলিল, তাশাহুদ আর দোয়া কালাম পড়তে গিয়ে সে আত্মশুদ্ধির এই মহান কাজে নিজেকে একনিষ্ঠ রাখতে কঠিন সংগ্রাম করতে থাকে। আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি তাসবিহ আর তাকবিরের উচ্চারের সময় উহার মর্মার্থ বুঝে সে মহান আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভের  চমৎকার সুযোগ কাজে লাগায়। সালাত থেকে বের হয়ে এসে সে ন্যায়বান ও উত্তম চরিত্রবান হয়ে উঠে। কেননা মহান আল্লাহর ঘোষণা হল- “নিশ্চয়ই সালাত যাবতীয় অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। (আনকাবুত-৪৫)।বাস্তব জীবনে এসে সে আল্লাহর বিধান মতো চলে বিশ্ব জাহানের সেরা মানুষ পরিণত হয়। ফেরেস্তাকুল ও মহান আল্লাহ তাকে সালাম আর সালাম জানায়। পরকালের জান্নাতী এই মানুষটি দুনিয়াতে  ও শান্তি আর শান্তির সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকে।
সিয়াম: রমজানে সিয়াম সাধনা অবশ্য কর্তব্য। সিয়ামের  মর্যাদা অনেক। কুরআন নাজিলের মাস রমজান। তাই রমজানের মাসে যত এবাদত করা হয় তার পুণ্যের ওজন সাতশ’ গুণ থেকেও অনেক বেশি। এমাসে একটি ফরজ এবাদত অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান। আর একটি নফল এবাদত অন্য মাসের একটি ফরজ এবাদতের সমান।রমজানের সিয়াম সাধনা হল প্রতিদিন ১৪/১৫ ঘণ্টাব্যাপী ক্ষুৎপিপাসা ও যৌন পিপাসা থেকে নিজেকে সংযত রেখে মাসব্যাপী  প্রশিক্ষণ নেয়া।এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হল তাকওয়া বা আত্মশুদ্ধি লাভ। মহান আল্লাহ বলেন- হে ঈমানদারগণ- তোমাদের উপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করে দেয়া হয়েছে যেমন পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য আশা করা যায় যে এর দ্বারা তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে। (বাকারা-১৮৩) তাকওয়া মানে খোদাভীরুতা!! তার মানে হলো আল্লাহকে ভয় করে সবকাজ  করতে করতে পরিপূর্ণভাবে আত্মশুদ্ধিতে পৌছা। সে যাবতীয অন্যায় ও পাপ চিন্তা মুক্ত হয়ে পুত পবিত্র  হৃদয়ের সেরা চরিত্রের অধিকারী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।
প্রতিটি কাজে যে আল্লাহ্কে ভয় করে চলে দুনিয়াতে সেইতো সর্বোৎকৃষ্ট মানুষরূপে গড়ে উঠে। পবিত্র আত্মার সেরা এই মানুষটি সব ন্যায়ের পক্ষে আর অন্যায়গুলির বিপক্ষে সাহসী সৈনিক হিসেবে দাড়িয়ে যায়। প্রতিদিনের সেহেরী ইফতার, তারাবীহ, যাকাত, ফিতরা আর দান খয়রাত দ্বারা সে আল্লাহ্ ও মানুষের কাছে অতি পছন্দনীয় সেরা মানুষে পরিণত হয়ে যায়। এ মাসব্যাপী  সিয়াম সাধনার মহান আমল দ্বারা মুসলমান শুধু সেরা পুণ্যবানই হয় না, সে গড়ে উঠে উন্নত মানের আত্মশুদ্ধির অধিকারী  অতুলনীয শ্রেষ্ঠ মানুষ। সে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ মাৎসর্ব ইত্যাদি রীপু মুক্ত হয়ে উঠে। সে পরম ধৈর্য্যশীল, সংযমী, সত্যবাদী, নিয়মানুবর্তি, অধ্যবসায়ী, মানবপ্রেমিক, কর্মঠ, সমায়নুবর্তি, আত্মত্যাগী, অপরকে অগ্রাধিকার দাতা, পরমত সহিষ্ণু ইত্যাদি গুণে গুণাম্বিত সেরা চরিত্রবান মানুষে পরিণত হয়। হৃদয় ক্বলবে পাপকর্মমুক্ত আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবেই সে গড়ে উঠে।
যাকাত : অর্থ ও মালের যাকাত দেয়া অবশ্যই কর্তব্য। যাকাত মানে চিন্তা, চরিত্র এবং সমাজ ও সভ্যতার পরিশুদ্ধি। আল্লাহ বলেন- এবং যারা পরিশুদ্ধি সাধনের কাজে তৎপর থাকে।  মহান আল্লাহ তার কালামে পাকে বার বার হুকুম দেন- সালাত ও যাকাত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা কর। নেছাব পরিমান মাল ও অর্থ থেকে যাকাত আদায় করে শুধু  মালের বিশুদ্ধতা ও বরকত পাওয়া যায় তা নয়, বরং যাকাত আদায়ের দ্বারা বান্দাদের হৃদয় ক্বলব পবিত্র হয়। আত্মশুদ্ধির কার্যক্রমে মাল সম্পদের যাকাত প্রদান করা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত বের করে দিয়ে উক্ত যাকাত দ্বারা অবহেলিত বঞ্চিত মানুষকে শান্তি দেয়া সহ মানব কল্যাণের আটটি খাতকে ভরপুর করা হয়।এই যাকাত ব্যক্তি থেকে নিয়ে সরকারী উদ্যোগে যথাযতভাবে অভাবীদের মাঝে বিতরণ করে দারিদ্রমুক্ত শান্তির সমাজ গঠন করা হয়, তাতে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরা সমাজ পরিশুদ্ধ হয়ে সুন্দর সমাজ গড়ে উঠে।
হজ্জ্ব: সামর্থ্যবান প্রত্যক মুসলমানের উপর জীবনে একবার হজ্জ করা অবশ্য কর্তব্য হিসেবে আইন করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ব মুসলিমের প্রাণকেন্দ্র সেরা নির্দশন কাবা ঘরের তোয়াফ, হজরে আসওয়াদ, মাকামে ইব্রাহিম, সাফা মারওয়ায় সাঈ, মীনা মুযদালিকায় অবস্থান, আরাফার মাঠে দীর্ঘক্ষণ ধরে আল্লাহ্র দরবারে দোয়া করতে থাকা, মদীনাতুন্নবীতে অবস্থানরত বিশ্বনবীর কবর যিয়ারত করা এতো সবেই আল্লাহ্কে হাজির নাজির পেয়ে এবাদতে মশগুল লাখো কোটি জিন্দাদিল মুসলমান, আত্মশুদ্ধির মহান এই ব্যাপক কর্মসূচীতে যারা অংশগ্রহণ করে তারা যেন আল্লাহ্কেই পেয়ে গেল। আল্লাহর তাজাল্লীতে মুসলমান পরিপূর্ণ নিষ্পাপ আর আত্মশুদ্ধিতে সে বলিয়ান হয়ে বলিষ্ঠভাবে মানব সমাজে পুনরায় ফিরে আসে। অতি সেরা ও নিষ্পাপ এক মানুষ হয়ে যায়।
জিহাদ: মুসলমান মানেই মুজাহিদ। সে এক আল্লাহকে মেনে নিয়ে অন্য সবাইকে প্রত্যাখ্যান করে। আল্লাহর দুনিয়াতে আল্লাহর বিধানের অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে সে সদা জাগ্রত সৈনিক। আল্লাহ পাকের দেয়া জীবন বিধানের প্রতিষ্ঠায় সে মাঠে ময়দানে সদা সর্বদা তৎপর। এজন্য ইসলাম বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সে জীবন ও অর্থ ব্যয় করে সংগ্রামে লিপ্ত। জিহাদ করা অবশ্য কর্তব্য। দাওয়াত ও তাবলীগ, প্রশিক্ষণ ও সংগঠন, সমাজ সেবা এবং অন্যায়ের প্রতিরোধ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুসলমান সর্বাত্মক জিহাদে লেগে থাকে। জরুরী সময়ে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করে সে শহীদ হয়ে যায়। আত্মশুদ্ধিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষই তার জীবন বিলিয়ে দিতে পা বাড়ায়। পাপীরা শাহাদাতের তামান্নায় নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিতে পারে না। বিনা হিসেবে জান্নাতী হতে ভাগ্যবান শ্রেষ্ঠ বান্দাগণ কখনও পিছ পা হয় না।
শবেকদর: রমজানের শেষ বিজোড় ৫ রাতে শবেকদর তালাশ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরী। শবেকদরের এক রাতের এবাদত ৮৩ বছর ৩ মাসের এবাদতের সমতুল্য। এতো বড় মর্যাদাশালী শবেকদরে মুসলমান এবাদতে মশগুল থেকে মহাভাগ্যবান হয়ে উঠে। শবেকদরের রাতে মুসলমান আল্লাহ্র এবাদত আর জিকির আসকারের মাধ্যমে আল্লাহ, তার বিধান রহস্যে ঘেরা বিশ্বজাহান, দুনিয়া ও আখেরাত এসব চিন্তা করতে করতে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভ করে। ফলে নিজেকে পুরাপুরি পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয়। একজন তাওবাকারী আবেদ হওয়ায় সে অতীত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে অগনিত পুণ্যের অধিকারী হয়। সে উচ্চ মর্যাদশালী হয়ে আল্লাহর কাছে মহাভাগ্যবান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। শবে কদরের এ মহা আয়োজন প্রতিজন মুসলমানকে নিষ্পাপ ও পরিশুদ্ধ দূর করে নব জীবন লাভে সফল করে। সে যেন জান্নাতী এক পুণ্যবান বান্দাহ।
ইতেকাফ: নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সর্বোত্তম সুযোগ হলো ইতেকাফ। যারা ইতেকাফ করে তারা মুতাকিফ। আত্মশুদ্ধির জন্যে মু’তাকিফ রমজানের শেষ দশ দিন নিজেকে মসজিদের কোনে আটকিয়ে রাখে। সে শুধু  শবেকদরই তালাশ করে না, অনবরত সে সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, আসকার, চিন্তা গবেষণায় ধ্যানতন্বয়তা আর জ্ঞান চর্চায় মত্ত থাকে। আল্লাহ্কে হাজির নাজির জেনে সে সালাত আদায়, একাগ্রতার সাথে সেহ্রী, ইফতার, তারাবীসহ তাওবাতে নিজেকে আবদ্ধ রাখে। যাবতীয় পাপ বর্জন আর পুণ্যের প্রতিযোগিতায় নিজেকে সে লিপ্ত রাখে। মহান আল্লাহ তায়ালা তার কাালামে পাকে বার বার আত্মশুদ্ধিতে সফলকাম হওয়ার কথা বলেন। সূরা আলা এর  ১৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- সফলকাম  হয়েছে সেই ব্যক্তি যেই ব্যক্তি পরিশুদ্ধি লাভ করেছে। সুরা শামস এর ৯ নাম্বার আয়াতে রয়েছে-  সফলকাম হয়েছে সেই ব্যক্তি যেই ব্যক্তি পরিশুদ্ধি লাভ করেছে।
সুরা মুমিনূরের ৪ নং আয়াতে যুগপৎ আত্মশুদ্ধি ও সমাজশুদ্ধির কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে পূর্ণ একাগ্রহতার সাথে একজন মু’তাকিফ নিজেকে এভাবে পরিশুদ্ধির কাজে ব্যস্ত রাখে। ফলে তার আত্মা পবিত্রতা আর পরিশুদ্ধতায় ভরে উঠে। নিজেকে সর্বোত্তম মানুষ হিসেবে তৈরি করতে সুযোগ পায়। ইতেকাফের মাধ্যমে এক জন মুসলমান নিজের পরিশুদ্ধি আর আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে থাকে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবত্রর্ই সে সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ। তার কথা বার্তা, চাল চলনে সবাই মুগ্ধ। তার স্ত্রীর কাছে সে আকর্ষণীয় এক সেরা স্বামী, সন্তানের কাছে সে সম্মানিত ও সেরা এক পিতা। প্রতিবেশীর কাছে সে সর্বোত্তম এক প্রতিবেশী।
ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরী বা অনান্য যে কোন কাজ কারবারে যেখানেই সে জড়িত হবে সর্বত্রই সে হবে সর্বোত্তম মানুষ। দেশের প্রধানমন্ত্রী বা শীর্ষ কর্ণধার যখন সে হয় তখন সে আল্লাহ্র অনুগত ও সান্নিধ্য প্রাপ্ত আত্মশুদ্ধির মহান ধারক হিসেবেই প্রমাণ দিয়ে থাকে। আল্লাহ্ প্রদত্ত ও রাসূল (সা:) প্রদর্শিত পথে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসহ সর্বদাই সেই আত্মসংশোধিত সর্বোত্তম মুসলমান হিসেবে পালন করে সর্বত্র শান্তি কায়েম করে। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা ও জান্নাতি সুবাস বইতে থাকে। কিন্ত তার জীবন সর্বদাই আল্লাহ্র ভয়ে ভীত। প্রতি নিয়ত সে তাওবাকারী বান্দাহ্ হিসেবে ব্যস্ত থাকে। তার ব্যবহার ও আচরণে আল্লাহ্র খালিছ বান্দাহ হিসেবে তাকে প্রকাশিত হতে থাকে। সদা-সর্বদা সে মহান আল্লাহ্র দরবারে মাগফিরাত আর নাজাতের দোয়া করতে থাকে। সে বলে-রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল লাম তাগফির লানা ওয়াতারহামনা লানা কু নান্না মিলান খাসিরীন। অর্থাৎ-প্রভু হে, আমরা আমাদের নফসের উপর যুলুম করেছি। যদি তুমি ক্ষমা না কর এবং রহম না কর তবে আমরা অবশ্য ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হব। (সূরা আল আরাফ-২২)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ