ঢাকা, শুক্রবার 7 August 2020, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জার্মানিতে নির্বাচনের আগে আলোচনায় ‘ফেক নিউজ

সংগ্রাম অনলাইন : ফেক নিউজ জার্মান নির্বাচনে কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারে, এ আশঙ্কা অমূলক প্রমাণিত হয়েছে৷ এছাড়া রাজনীতির খেলায় অপবাদ বা অপপ্রচার নতুন কিছু নয়৷ ২০১৭ সালের জার্মান নির্বাচনে এ পর্যন্ত কোনো বড় কেলেঙ্কারি মাথা চাড়া দেয়নি ও ২৪শে সেপ্টেম্বর অবধি পরিস্থিতি সেরকমই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ নিন্দুকরা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলতে পারবেন, ‘‘নাহ, এবারের নির্বাচনে ফেক নিউজ কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারেনি৷''

ডয়েচে ভেলে জানায়, ফেক নিউজ পদবাচ্য সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনাটি ঘটেছে একটি নির্বাচনি পোস্টারকে কেন্দ্র করে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের ঐ ‘ফেক' পোস্টারে স্লোগান হিসেবে যা দেখানো হয়েছিল, ‘‘এমন একটি জার্মানির জন্য, যেখানে আমরা সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করি৷''  সেটি আদতে সাবেক পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট এসইডি দলের একটি পোস্টার থেকে নেওয়া৷ যেহেতু ম্যার্কেল সাবেক পূর্ব জার্মানির মানুষ, সেহেতু এই পন্থায় তাঁকে চিরন্তন কমিউনিস্ট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল৷ অবশ্যই সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ 

জার্মানিতে ফেক নিউজ সংক্রান্ত উদ্বেগ কোনোদিনই আতঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি – এবং সেই উদ্বেগের আদত উৎস ছিল ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ বর্তমানে জার্মানির রাজনৈতিক দলগুলি ফেক নিউজ নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়৷

সিডিইউ

সিডিইউ দলের মূল চিন্তা হল, গণতান্ত্রিক বিতর্কের ধারার উপর ফেক নিউজ কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে৷ সিডিইউ দলের মুখ্য কার্যালয় থেকে ডয়চে ভেলেকে বলা হয় যে, ইন্টারনেটে কোথায় ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে৷ একদিকে যেমন ফেক নিউজকে মাত্রাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, অপরদিকে তেমন ফেক নিউজ সংক্রান্ত গতিবিধিকে নির্দোষ বলেও গণ্য করা হচ্ছে না: ‘‘(ফেক নিউজ) অনাস্থা ছড়ায় ও নাগরিকদের মনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে৷'' তবে অপরাপর দলের মতো সিডিইউ একক ফেক নিউজগুলি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করে না অথবা পালটা পদক্ষেপ নেয় না, বলে দলীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়৷

সবুজ দল 

সবুজরা তাদের ‘ইন্টারনেট দমকলের' উপর ভরসা রাখে৷ এই ‘দমকল' হল মোট ৩,০০০ সদস্যের একটি সীমিত ফেসবুক গোষ্ঠী, যারা দলের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে দেখলেই সতর্ক করে দেয়৷ চলতি নির্বাচনি প্রচার অভিযানে তা দশ-বিশ বার ঘটেছে, বলে ক্যামপেইন পরিচালক রব্যার্ট হাইনরিশ জানালেন৷ তবে সবুজদের ‘দমকল' ইন্টারনেটে যে শুধু আক্রমণের মোকাবিলা করে, এমন নয়, তারা সবুজদের নির্বাচনি বক্তব্যও পেশ করে থাকে – বললেন হাইনরিশ৷

বামদল

ফেক নিউজের ব্যাপারে বামদলেরও কোনো আতঙ্ক নেই৷ ‘‘আমাদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ঘটে না, বলা চলে'', জানালেন টোমাস লোমায়ার, যিনি বার্লিনে বামদলের মুখ্য কার্যালয়ে জনসংযোগ সংক্রান্ত গতিবিধির দায়িত্বে৷ কেন যে বামদল ফেক নিউজের লক্ষ্য হয় না, লোমায়ার তা বলতে পারেন না৷ অপরদিকে সাদ্দাম হুসেইনের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র থাকার ‘ফেক নিউজ' থেকেই যে ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, লোমায়ার তা স্মরণ করিয়ে দিলেন৷ কাজেই ফেক নিউজকে নতুন কিছু বলা চলে না৷ 

এসপিডি

ফেক নিউজের ক্ষেত্রে এসপিডি দলের মনোভাব আধা সবুজ দল ও আধা সিডিইউ-এর সঙ্গে মেলে৷ একদিকে যেমন এসপিডি দৃশ্যত সবুজদের মতো সক্রিয় প্রতিরোধে বিশ্বাসী, অপরদিকে তেমন এসপিডি তাদের ফেক নিউজ সংক্রান্ত নীতির খুঁটিনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে রাজি নয়৷ সিডিইউ-এর মতোই ইন্টারনেটের উপর সতর্ক নজর রাখা হয় ও ক্ষেত্রবিশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফেক নিউজের বিরুদ্ধে কী করা হবে বা হবে না – দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে৷

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ