রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

প্রধান বিচারপতিকে বেশি  কথা না বলার আহ্বান

 

সংসদ রিপোর্টার : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং প্রধান বিচারপতির অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিলের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি সংসদে গ্রহণ করা হতে পারে। এ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধান বিচারপতিকে বেশি কথা না বলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেশি কথা বলা ভালো নয়। উনাকে নাকি মিস কোড করা হয়েছে। মিস কোড কাকে করা হয়, যিনি বেশি কথা বলেন, তাকেই মিস কোড করা হয়। তিনি বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাত থেকে সংসদের হাতে দেয়ার জন্য  আইনমন্ত্রীকে এই রায়ে রিভিউ আবেদন করার জন্য আহ্বান জানান।

গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে জাসদ (একাংশ) দলীয় সংসদ সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধি অনুযায়ী উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। 

উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়- সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায়ে ষোড়শ সংশোধনীতে ‘আল্ট্রা ভাইরাস’ ঘোষণা বাতিল ও প্রধান বিচারপতি কর্তৃক জাতীয় সংসদ সম্পর্কে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যে অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা বাতিল করতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হোক।

 নোটিশ উত্থাপন শেষে বাদল বলেন, রায়ের মধ্য দিয়ে প্রধান বিচারপতি তার চেহারাটা উন্মোচন করেছেন। যেটা আমাদের জনগণকে অনেক দুঃখ দেবে। আপনারা সামরিক আইনকে অবৈধ বলছেন আবার  সামরিক আইনের গর্বে জন্ম নেয়া জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে রাখতে চাচ্ছেন। কোন অধিকার বলে ৯৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছেন? এই সংসদে অনেক সদস্যই রয়েছেন, যারা সারাজীবন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। আপনি (প্রধান বিচারপতি) সংসদকে অপরিপক্ব বলেছেন। পরিপক্ব প্রধান বিচারপতি আপনার বোঝা উচিত এই সংসদ তার যে সীমারেখা তা অতিক্রম করেনি।

 নোটিশে বাদল বলেন, ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার পর্যবেক্ষণে অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় অবাঞ্ছিত বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অপরিপক্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা গুঞ্জন চলছে, যা সমগ্র জাতির জন্য বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চাদর (দ্যা ফেবরিক অব ডেমক্রেসি) সৃষ্টি হয়েছে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সমন্বয়ে যাতে সংবাদপত্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আমাদের সংবিধানের ৭(১) বিধিতে পরিষ্কারভাবে বলা আছে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বের কার্যকর হবে।

সংবিধানের একটি ধারা তুলে ধরে উত্থাপিত নোটিশে বলা হয়- জনগণের অভিপ্রায়ে পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্য হয় তাহলে, সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হবে। সংসদ ব্যাপক আলোচনার নিরিখে এই সমস্যার অবসান চায়। তাতে করে গণবিরোধী শক্তির ‘ঘোলা জলে মাছ শিকার’ প্রচেষ্টা গুঁড়িয়ে যায়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় ও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাত থেকে সংসদের হাতে দেয়ার অধিক গ্রহণযোগ্য আধুনিক ও বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  আইনমন্ত্রীকে বলবো এই রায়ে রিভিউ আবেদন করুন।

তোফায়েল আহমেদ প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, আমি তাকে সম্মান করি। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, কথা কম বলা ভালো। এর আগে যত প্রধান বিচারপতি ছিলেন তাদের নিয়ে কখনও এতো সমালোচনা হয়নি। আপনাকে নিয়ে হয় কেন? কথা কম বলেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে যে রায় দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি। আইনমন্ত্রী এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আলোচনায় তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে বলি, বেশি কথা বলা ভালো না, তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন, তাকে মিস কোড করা হয়েছে। মিস কোড কাদের করা হয় যারা বেশি কথা বলে। সংসদকে অপরিপক্ব বলা হয়েছে। তিনি বলেছেন, একাত্তর ছাড়া জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়নি। তিনি কি ভুলে গেছেন ’৬৯-এ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতার পর আমরা যখন এই সংবিধান প্রণয়ন করি তখন অনেক বিচারপতিই স্কুলের ছাত্র। তারা বলেন, বিচারপতিরা পরিপক্ব, আর আমরা অপরিপক্ব। দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এসব কথা বললাম।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একজন বিচারপতির দুর্নীতির তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যদি তার দুর্নীতি প্রমাণিত হয় তাহলে তিনি যে রায় দিয়েছেন তাহলে সেটা বির্তকিত হয়ে গেল। আমি সংসদ সদস্য আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে পারবে। অথচ একজন বিচারপতির দুর্নীতি তদন্ত হবে না, এটা বিস্ময়কর।

তিনি আরও বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে- দেশের সব কিছুই অকার্যকর। তার মানে কি বাংলাদেশ অকার্যকর? না, বাংলাদেশ অকার্যকর না। কখন বলেছেন? যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে আমরা অনেক পোড় খাওয়া মানুষ আছি। বিশ্বে বাংলাদেশ প্রসংশিত হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের পর নোটিশের ওপর আলোচনা করেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দীপুমনি, আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ