শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কয়রায় দক্ষিণ বেদকাশির ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস: সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার প্রত্যন্ত জনপদ দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ পোল্ডারের জোড়শিং, আংটিহারা, গোলখালি, ঘড়িলাল, মাটিয়াভাঙ্গা, মেদেরচর এলাকার ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীবেষ্টিত দক্ষিণ বেদকাশির সাড়ে ২৭ কিলোমিটার পাউবোর বেড়িবাঁধ টানা বর্ষণে ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, যে কোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পুরো দক্ষিণ বেদকাশি লোনা পানিতে নিমজ্জিত হতে পারে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জোড়শিং লঞ্চঘাটের পশ্চিম দিকের ওয়াপদা বাঁধের একশ’ ফুটের বেশী শাকবাড়িয়া নদীর ভাঙনে সিংহভাগ বিলীন হয়ে গেছে।
কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন মাটিয়াভাঙ্গা বেড়িবাঁধের প্রায় পাঁচশ’ ফুট, দক্ষিণ বেদকাশির খালের গোড়া বাঁধের প্রায় একশ’ ফুট, মেদের চরের দেড়শ’ ফুট, আড়পাঙ্গসিয়া নদী সংলগ্ন গোলখালির প্রায় ২শ’ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ সকল বাঁধ ভেঙে চুরে এতই সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে যে মানুষের চলাচলেও বিঘœ ঘটছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম দিকের খালের গোড়ার বেড়িবাঁধের তলা দিয়ে পাইপ বসিয়ে স্থানীয় বুলবুল, আলাউদ্দিন ও মোজাফফরের চিংড়ি ঘেরে কপোতাক্ষ নদ থেকে অব্যাহতভাবে লোনা পানি ওঠানামায় বাঁধের তিন-চতুর্থাংশ বিলীন হয়ে গেছে।
দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামসুর রহমান বলেন, তার ইউনিয়নের সাড়ে ২৭ কিলোমিটার ওয়াপদা বাঁধের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার বাঁধের অবস্থা একেবারে নাজুক।
জোড়শিং, মাটিয়াভাঙা, আংটিহারা ও ঘড়িলালের বাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়টি এ বছরের শুষ্ক মওসুম থেকে জোরালোভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোন কাজ হচ্ছে না। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ রক্ষায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে নকশা, ডিজাইন তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষ বরাদ্দ মিললে বাঁধের কাজ করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে গোটা বটিয়াঘাটা উপজেলার ভৌগলিক মানচিত্র দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে চলেছে।
বছরের পর বছর এ নদী ভাঙ্গনে নদীর কূলবর্তী মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহারা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধে কার্যত দীর্ঘমেয়াদী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গৃহহারা মানুষের যেমন বেড়েছে ক্ষোভ, তেমনি এখনো যারা টিকে আছে তাদের মাঝে বেড়েছে আতংক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ