বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পাবনা-সিরাজগঞ্জের হাটগুলোতে প্রচুর গবাদি পশু ॥ খামারীরা চিন্তিত

বেড়া চতুরহাটে ছোট-বড় প্রচুর দেশী গরু আমদানি হয়েছে

আবুল কালাম আজাদ, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা : দেশি গরুতে জমে উঠেছে পাবনা-সিরাজগঞ্জের পশুরহাটগুলো। হাটগুলোতে পাবনা ব্রিড, অষ্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড জাতের বড় বড় ষাঁড়সহ মাঝারি ও ছোট আকারের প্রচুর দেশি গরু আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত পথে বানের পানির মতো ভারত, ভুটান ও নেপালী গরু মহিষ দেশে প্রবেশ করছে। হাটগুলোতে ক্রেতার তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় গবাদিপশুর দামে ধস নেমেছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার গোখামারী চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
গবাদিপশু বিশেষ করে গরু ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বেড়ার সিঅ্যান্ডবি চতুরহাট, সাঁথিয়ার ধুলাউড়িহাট, আতাইকুলার পুস্পপাড়াহাট, দাসুড়িয়াহাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা, শাহজাদপুরের তালগাছি, উল্লাপাড়ার গোয়ালিয়াহাট, গ্যাসেরহাট, তাড়াশ চলনবিল এলাকার নওগাঁহাট, চৌহালীর এনায়েতপুরহাট ও বেলকুচির সমেশপুর পশুরহাটে দেশি জাতের প্রচুর গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আমদানী হচ্ছে। হাটে ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পেরে অনেক খামারী ও চাষি গবাদিপশু বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ অঞ্চলের গোখামারী ও চাষিরা কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় দুই লক্ষাধিক গরু সরবরাহ করে থাকেন। হাটে দেশি গরুর প্রচুর আমদানী হচ্ছে, পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটানের গরু-মহিষের আমদানি দিন দিন বাড়ছে। দেশি ক্রস পাবনা ব্রিড, অষ্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড জাতের গরু প্রচুর আমদানি হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে খুব কম। এই জাতের প্রতিটি গরু বিক্রি হয় এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা দামে। তবে ঢাকা, চিটাগাং ও সিলেটের ব্যবসায়ীরা এলে দেশি হাইব্রিড ক্রস জাতে গরু বিক্রি হবে। দেশি গরুর দাম কম হওয়ায় বিদেশি গরু মহিষের চাহিদা কমেছে। 
বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুরহাট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গরুর হাটে তিল ধরানোর ঠাঁই নেই। দুর-দুরান্ত থেকে গরু ব্যাবসায়ী ও খামারীরা  ট্রাক, নসিমন, করিমন ও নৌকায় করে হাজার হাজার গরু নিয়ে আসছেন। হাটের মধ্যে জায়গা না হওয়ায় প্রাণ ডেয়ারি চত্বরসহ বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাব্যাপী গবাদিপশুর হাট বসেছে। ছোট, বড় ও মাঝারি সব ধরনের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আমদানী হয়েছে। ক্রেতার অভাবে গবাদিপশু বিক্রি হচ্ছে কম। দেশি ছোট গরুর চাহিদা রয়েছে। তবে দাম গত বছরের চেয়ে বেশ কম বলে চাষিরা জানিয়েছেন।
নগরবাড়ী-বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের কোল ঘেঁষে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসষ্ট্যান্ডের পাশে ইছামতি নদী পাড়ে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাজারের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গরুর হাট। সড়ক ও নৌ-পথে যোগাযোগের সুন্দর ব্যবস্থা থাকার জন্য দেশের গরু ব্যবসায়ীদের কাছে হাটটির গুরুত্ব বেশি। শুধু এলাকার গরু ব্যবসায়ীরাই নয়, দেশের বগুড়া, টাংগাইল, ঢাকা, সিলেট ও চিটাগাংসহ বিভিন্ন জেলার গরুর ব্যাপারিরা এই হাটে গরু কিনতে আসে। এমন কি অনেকেই ভারত থেকে গরু কিনে এই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছে। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার পশুর হাট বসে। তবে এখন ঈদের দিন পর্যন্ত প্রতিদিনই গবাদিপশুর হাট বসবে বলে হাট কমিটি জানিয়েছেন।
বেড়া উপজেলার ছোট পায়না গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহ ও হাতিগাড়া গ্রামের আকরাম আলী জানান, ঢাকার গাবতলী হাটসহ অন্যান্য পশুর হাটে গরু আমদানী হলেও বেচা-কেনা তেমন জমে ওঠেনি। তারা এ বছর বিভিন্ন হাট থেকে শতাধিক বড় গরু কিনে ঢাকার গাবতলীসহ অন্যান্য পশুর হাটে পাঠিয়েছেন। রাজধানীর পশুরহাটগুলোতে দেশি বড় জাতের গরুর চাহিদা কম, ছোট জাতের গরুর চাহিদা একটু বেশি। তবে বেচা-কেনার অবস্থা এ রকম চলতে থাকলে আগের কেনা গরুগুলো নিয়েই বিপাকে পড়তে হবে। সে জন্য তারা আর গরু কিনছে না।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বড়ধনগাছা গ্রামের খামারী আখের আলী জানান, বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুরহাটে তার অস্টেলিয়ান জাতের গরুর দাম উঠেছে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা, বিক্রি না করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ গত বছর এ ধরনের গরুর দামছিল কমপক্ষে সোয়া দুই লাখ টাকা। দাম কমার কারন হিসেবে তিনি বলে দেশে বন্যায় মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের হাতে টাকা নেই। গোখাদ্যের চড়ামূল্যের কারণে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ চাষি হালের বলদ পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় গবাদিপশুর দাম কমেছে। এ জন্য তিনি বিদেশি গরু মহিষের অবাধ আমদানিকে দূষছেন। বেড়ার শহিদ নগরের আবুল হাসেম জানান, তিনি হাটে গরু এনে বিপাকে পড়েছেন। হাটে এত গরু আমদানী হয়েছে যে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। আমদানীন তুলনায় গরুর ক্রেতা কম। ক্রেতারা তার গরুর দাম ৫০ হাজার টাকা বলছে। এ দামে গরু বিক্রি করলে প্রায় ১৫ হাজার টাকা লোকসান  হবে।
বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মহসীন মল্লিক বলেন, মঙ্গলবার হাটে যত গরু আমদানী হয়েছে, এর আগে এতো গরু আর কোন দিন আমদানী হয়নি। এবছর রেকর্ড পরিমান গরু আমদানী হয়েছে। বেচাকেনা তুলনামুলকভাবে অনেক কম। দু’একদিনের মধ্যে গরু বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হবে। তাছাড়া হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের যাতে কোন রকম অসুবিধা না হয় সে জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ