বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কবিতা

জুবাইদা বিনতু আমিন-২টি কবিতা

মমতার বন্যা

দেখল জাতি নতুন করে
মমতাদির ক্ষমতা
পাখির বাসায় মাছের বসত
আহা কিযে সমতা।

ঘর ডুবেছে উঠছি চালে
এখন ডোবে চালও
সাপের সাথে ব্যাঙের সাথে
রাত কেটেছে কালও।

ভাত খেয়েছি সেই যে কবে
পড়ছে না তো মনে
ক্ষুধার জ্বালায় ছাওয়াল মেয়ে
কাঁদছে ক্ষণে ক্ষণে।

চারিদিকে পানির তুফান
তিয়াসে বুক ফাঁটে
পানি-ভাতের স্বপ্ন দেখে
বিনিদ্র রাত কাটে।

নেতা আসে নেতা যায়
ত্রাণ নাহি আসে
বানের পানিই বুঝি মোদের
বড্ড ভালবাসে।

সবাই মোদের ছেড়ে গেলেও
বন্যা আসে ফিরে
সন্ধ্যা হলে পাখি গুলো
যেমন ফেরে নীড়ে।


“গজলডোবার অভিশাপ”

গজলডোবার সবগুলো বাঁধ
দিয়েছে বন্ধু খুলে
যখন দেখেছে বর্ষার ঢলে
তিস্তা উঠেছে ফুলে

পানির অভাবে পুড়েছে ফসল
কেঁদেছি নদীর কূলে
বন্ধু তখন আমার পানিতে
ফসল নিয়েছে তুলে।

যখন আমার ভাতের হাঁড়ি
শুন্য শিকায় ঝোলে
তখন বন্ধু নবান্ন করে
সজ্জিত হয় ফুলে।

বিশ্বাস করে মুখের অন্ন
বন্ধুকে দিছি তুলে
সুযোগ পেয়ে বন্ধু এখন
সব কিছু গেছে ভুলে।

পাহাড়ী ঢলের বন্যায় যবে
নদী ওঠে হেলে দুলে
বুন্ধুত্বের সবগুলো দ্বার
বন্ধু তখন ঠেলে খুলে।

বন্ধুত্বের বন্যার তোড়ে
জীবন তরণী দুলে
গজলডোবার অভিশাপ আজ
এসেছে আপন ভুলে।


দুর্গতি
তাসনিয়া কবির

বানের তোড়ে ধ্বংস মানবতা
ভাসছে কতক অসাড় বিকল দেহ।
শোকের তাপে ধূসর জীবন পাতা
তাজা লাশের নিচ্ছে না দায় কেহ।

শত্রুকে আজ বন্ধু ভাবে কেউ
অসম দাবী মানতে রাজি সবে।
দিচ্ছে এখন রক্ত স্রোতের ঢেউ
সুপ্ত বিবেক জাগবে আবার কবে?

ক্রোধের জোয়ার নিচ্ছে বাড়ি ঘর
কোলের শিশু যাচ্ছে ভেসে পাকে।
আপন আবাস দিচ্ছে করে পর
স্বজন ছেড়ে রাখবে ধরে কাকে?

প্রভূ তুমি দেখছো বসে দূরে
যা আমাদের নাফরমানির ফল।
বাতাস ভারি রিক্ত-করুণ সূরে
ক্ষমা করো আমরা পাপীর দল।

রাতের আঁধার দূর করে দাও আলো
আবার হাসি ফুটুক সবার মুখে।
তৌফিক চাই দলতে পাপের কালো
আসুক তোমার রহম প্রলয় রুখে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ