বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রিদা

হাঁটতে হাঁটতে পা’টা ভারী হয়ে উঠছে রিদার। একে আজ শরীরটা বেশ খারাপ তার উপর ক্লাসের সবার সামনে এই ঘটে যাওয়া ঘটনা। সব মিলিয়ে নানান চিন্তা ভর করেছে তাকে। কি হবে! এখানে কি ও কাজ করতে পারবে?
নাকি স্যার ঝামেলা করবে! কি জানি খোদা তোমার উপর ছেড়ে দিলাম আমি আর কিছু জানি না।
বাসায় এসে মায়ের মন ঠিকই বুঝে ফেললো মেয়ের উপর বয়ে যাওয় ঝড়।
-কিরে কি হয়েছে!তোকে অমন দেখাচ্ছে কেন! মুখটাও শুকনো। জ্বরও কি বাড়লো নাকি মাথা ঘুরাচ্ছে?
-না আম্মু আমি ঠিক আছি ...তুমি ওষুধ খেয়েছো তো!  
-হ্যাঁ বাবা খেয়েছি.তুই যা হাত মুখ ধুয়ে খেতে আয় বেলা কয়টা বেজেছে খেয়াল আছে?
-হুম মামনি যাচ্ছি...।
রুমে ঢুকেই দেখে নাবিলা চলে এসেছে ক্লাস থেকে।এসেই পড়তে বসে গেছে।বসবেই তো মেডিকেল স্টুডেন্ট বলে কথা।জীবনের ফাঁকে পড়াশুনা নয় যেন জীবনটাই পড়াশুনা।যাক ওসব ভেবে কাজ নেই,গোসল করলে মনে হয় ফ্রেস লাগবে, ভাবে রিদা।
শাওয়ারের নিচে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে সে। যেন এটা ওর ভাবার সময়। ইচ্ছেমত পানি ঢেলে মাথা টা ঠাণ্ডা হবে, ভাবেও।
বেড়িয়ে আসতেই নাবিলাকে সুধায়, কিরে খেয়েছিস?
না আপু তোমার জন্য ওয়েট করছিলাম... চল অনেক ক্ষুধা পেয়েছে।-কাতর কণ্ঠে বলে নাবিলা।
নাবিলা একমনে চলে যাচ্ছে , তবে হঠাৎই পই করে ঘুরে দাঁড়ায় সে।
-আপনি তোর কি হয়েছে? চোখ লাল ফুলে আছে!! কি ব্যপার!!
-না কিছুনা তো! গোসলে ছিলাম এজন্য হয়তো হবে।
রিদা খেয়াল করেনি শাওয়ারে নানান ভাবনায়, অপমানে ও কতক্ষন কেঁদেছে!
-না না... কিছুই তুই আমার কাছ থেকে লুকোতে পেরেছিস বল তো!
-আর বলিস না... আজ  কি যে হল রিসার্চ ক্লাসে। শুনেছিলাম  স্যারটা অন্যরকম বাট এমন যে হবে ভাবতেও পারিনি। চল খেতে খেতে বলছি।
খেতে বসে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো রিদা।
যথারিতি সময়ে ক্লাস শুরু হলো। রিদা বুঝতেই পারছিলো স্যার ওকে বারবার দেখছে।কারণ, নিকাবী বলে সব জায়গাতেই সবার থেকে আলাদা করে দেখা যায় কারণ ক্লাসে ও একমাত্র নিকাব পড়ে।
স্যার যা প্রশ্ন করার তাও ওকে পয়েন্ট আউট করে জিজ্ঞেস করছে।আরে বাবা ক্লাসে এত স্টুডন্টস রেখে ওকেই কেন জিজ্ঞাসা!
যা হোক রিদা উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎই স্যার বলে উঠলো, এই মেয়ে মুখের কাপড় নামিয়ে কথা বলো। রিদা চুপ করে রইলো কারন ও জানে এখানে তর্ক করে আসলে কোন লাভ হবে না। কিন্তু স্যার তো দমবার পাত্র নন। বলেই যাচ্ছেন। কিন্তু তবুও ও খুলেনি।এক পর্যায়ে স্যার বললেন, এই মেয়ে তুমি এক্ষুনি বের হয়ে যাও মুখ বাধা ডাকাত।আমার এখান এ মুখ বাধা কোন দস্যু অপরিচিত কাউকে আমি রির্সাচ করতে দেব না।এই বলে অনেকটা গলা ধাক্কা দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দিলো স্যার।এত গুলো স্টুডেন্টস দের সামনে।
-আমি বুঝিনা এরা এতো বড় শিক্ষিত হয়ে সত্য কিভাবে চিনে না! অথচ ওনারা আমাদের শিক্ষক! ৯৯% মুসলিমের দেশে ওরা ইসলাম এর মৌলিক নির্দেশ প্র্যাক্টিস করা একজন মেয়েকে মুসলিম হয়ে কিভাবে ক্লাস থেকে বের করে দেয় আপু! নাবিলা চোখ পাকিয়ে বলে।
-এখন কি হবে স্যার এর ওখানে যদি ক্লাস না করতে পারিস! তোর নাম্বার যদি কেটে নেয়! আঁতকে পাশ থেকে বলে উঠেন আম্মু।
ঘটনাটা মাকে শোনাতে চায়নি রিদা কারণ সবসময়ের মত তার পড়ালেখার ব্যপারে ভয়াবহ রকমের সিরিয়াস।
-আমি অনেক ভাবলাম আম্মু। কিন্তু ৫০/১০০ নম্বরের জন্য তো আমি আমার ঈমানকে বিকোতে পারবোনা মা! আমি এখনও ভাবিনি কি হবে। ভবিষ্যত খোদার হাতে ছেড়ে দিয়েছি।
কিন্তু বিষয়টা আসলে অন্যভাবে আমি ভাবছিলাম দেখো,একটা মেশিন যে তৈরি করে সে তো জানে এর ভালো কোথায় খারাপ কোথায়
সেরকম যিনি সৃষ্টির স্রষ্টা তিনিই জানেন সৃষ্টির কল্যান কোথায় আর কিভাবে চললে প্রতিটি বিষয় ওয়ার্কআউট করবে। পড়াশুনা  থেকে যত ধর্মকে দুরে আনা হচ্ছে ততই অবনতি হচ্ছে। এজন্যই বহু শিক্ষিত মানুষ অনৈতিক কাজ কর্ম করছে। দুর্নীতি, চুরি, অশালিনতাও শিক্ষা ক্ষেত্রে চলে আসছে কেন? কারন নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত না।
আর ইসলাম ধর্ম ছাড়া নৈতিকতার চরম শিক্ষা কেউ দিতে পাওে না। কেউ না। মানুষের মত-অভিমত সময় সময় বদলায় কারন এটা মানুষের মাথা থেকে আসে। সফলতার সংজ্ঞা টা তাই বর্তমানে কি দেখো? অর্থ,ফেইম,সম্মান এই তো? কিন্তু এটার পরিধি কেবল ইহলোকেই সীমাবদ্ধ।
পরলৌকিকতাকে হাশরকে তো এখন মানুষ ভাবেই না,ভাবে না সেই সীমাহীন পরিধির জীবনের কথা। যার জন্যই পৃথিবীতে আমার বিচরণ! 
আর স্রষ্টা মহান প্রভুর কথা হলো চিরন্তন চরম সত্য। এই চরম সত্য যারা মানবে তারাই সফল হবে। সেটাই সফল জীবনের পরিচয় হবে।
হা করে নাবিলাও বড় আপুর কথা শুনে।ও অনেক ছোট সবে মাত্র ১ম বর্ষ, তবে আজ বুঝে গেছে কোনটা সফল জীবন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ