শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

বিচারপতি খায়রুল হক এবং বিচারপতি শামছুদ্দিন মানিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর -ডা. জাফরুল্লাহ

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিচারপতি খায়রুল হক এবং বিচারপতি শামছুদ্দিন মানিকরা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মন্তব্য করে গণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগের নীতিমালা না থাকায় হাইকোর্টে কিছু পাগলকে আমাদের দেখতে হচ্ছে। তিনি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার দাবি জানান।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মৃত্যু বার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এমন্তব্য করেন। ভাসানী অনুসারী পরিষদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন জে এস ডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, খায়রুল হক বিচার বিভাগের সঙ্গে  বেঈমানি করেছেন। বেঈমানির একটা  সীমা থাকা দরকার আছে। তার বেঈমানির কোন সীমা নাই। আর বিচারপতি মানিককে পাগল আখ্যা দিয়ে তাকে পাবনায় পাঠানোর আহ্বান জানান।
প্রধান বিচারপতির রায় লেখা নিয়ে মন্তব্য করা নিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, তিনি নিজে দুই বছরে রায় লিখতেন। ৭ জন বিচারপতি মিলে ৭০০ পৃষ্ঠার রায় লেখা অস্বাভাবিক নয় মন্তব্য করে বলেন, সাংবাদিকরা অল্প সময়েই অনেক পৃষ্ঠা লিখে ফেলেন। বিষয়টি তিনি সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাফরুল্লাহ আরও বলেন সরকার মনে করে পুলিশ র‌্যাবই হচ্ছে তাদের কাছে জনগণ। ফ্যাসিবাদি সরকারের কাছ থেকে গণতন্ত্র আদায় করতে পারলে জাফরুল্লাহর আত্মা শান্তি পাবে বলে মন্তব্য করে এই মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক বলেন, একটা সময় ছিল শেখ মুজিব ভাসানির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন আর  কাজী জাফরুল্লাহ তার পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। বর্তমান সময়ে এমনটি হলে হয় গুম করা হতো নইতো হত্যা করা হতো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সংবিধান সংরক্ষণ আর ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার সুপ্রীম কোর্টের। তাই সুপ্রীম কোর্টের রায় মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাহী বিভাগ নিয়ে অরাজকতা হলে অন্য শক্তি ক্ষমতায় আসবে। আর তা হলে দায়ী কে হবে?
আ স ম রব বলেন, অবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, প্রধান বিচারপতিকে পাওয়া গেলেই আক্রমণ করা হবে। আমরা এজন্য মুক্তযুদ্ধ করিনি। আমি বলবো প্রধান বিচারপতি আপনি পদত্যাগ করবেন না। আমরা যদি রাস্তায় নামি ফ্যাসিবাদী শক্তি পালাবার রাস্তা পাবে না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কি বলতে পারবেন যে বিচারপতিরা কোন কথাটি মিথ্যা বলছেন। যারা কথা বলছেন তারা রায় না পড়েই কথা বলছেন। একথা তাদের বোঝাবে কে? আজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কথা বলেন তুফানরা সরকার চালাচ্ছে। তারা  আবার ক্ষমতায় যেতে চান না। আপনারা কোন অপকর্মটি বাকি রেখেছেন যে, আবার ক্ষমতায় গিয়ে করবেন?
দেশের স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তেলন কারী সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন দল মত নির্বিশেষে এক কাতারে দাড়াই। ফ্যাসিবাদ এবং একদলীয় শাসন প্রতিরোধ করি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি, মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ