শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

রায় মেনে পদত্যাগ করার পরিবর্তে সরকার প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করছে -ড. মোশাররফ

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় স্মরণ সভা আয়োজিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাসাহিত্য ও সঙ্গীতে নজরুলের অবদান শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগের ঘুম হারাম হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রায় মেনে সরকাররের পদত্যাগ করা উচিত। অথচ তারা  উল্টো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বক্তব্য কর্মসূচি থেকে প্রমাণিত হয় তারা বাকশাল কায়েম করতে চায়।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে নজরুলের অবদান’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় স্মরণ মঞ্চ।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে সরকার দেশের মূল তিনটি স্তম্ভ আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে তারা আইন ও নির্বাহী বিভাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এখন তারা বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের জন্য উঠে পরে লেগেছে। সেটা যদি সম্ভব হয় তাহলে তাদের অলিখিতভাবে বাকশাল গঠনের স্বপ্ন সফল হবে। কিন্তু বাংলাদেশে মাটিতে তাদের এই স্বপ্ন কখনও সফল হবে না।
প্রধান বিচারপতি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ এই রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্নভাবে আঘাত করে কথা বলছেন যা পৃথিবীর কোনও দেশেই হয় না। সরকার দলীয় পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি নজিরবিহীন।
তিনি আরও বলেন, যেখানে এ রায়কে মেনে নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত ছিল কিন্তু তার পরিবর্তে সরকার প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করছে। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ হলে এ দেশের বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একটা রায়ের পরে তাদের দলের প্রধানমন্ত্রী, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল এমপি মন্ত্রীরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মানববন্ধন, বাঁশের লাঠি মিছিল করছেন। কিন্তু যেকোনও রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আদালত অবমাননার সামিল।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিইউজের সভাপতি ও নজরুল গবেষক অধ্যাপক কবি আবদুল হাই শিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা ঢাবি’র শিক্ষক অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ