সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মাধবদীতে যুবক অপহরণ করে খুন মেঘনা নদী থেকে লাশ উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ২

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদীতে এক যুবককে অপহরণ ও মুক্তিপন আদায়ের পর খুন করে মেঘনা নদীতে লাশ ফেলে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ আগস্ট বুধবার বিকেলে। ঐদিন বিকেলে মাধবদীর দক্ষিণ বিরামপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে আঃ রহমান (৩০)কে তার বন্ধু ছোট গদাইরচর (গাংপার) এলাকার মৃত আঃ মোতালিব ও তাদের পালক পিতা মৃতঃ ছামাদ হাজীর ২ ছেলে আরিফ (২৯) ও রাকিব (২৪) নৌকা করে মেঘনা নদীতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।  সেখান থেকে আরিফ ও রাকিবের খালতো ভাই শাহ আলমের মাধ্যমে মাঝি বিহীন একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ৩শ টাকায় ভাড়া করে মেঘনা নদীতে ঘুরতে নিয়ে যায় আঃ রহমানকে। ঘটনার দিন রাত ১০ টায় রহমান তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে তার বোন নাসিমার মোবাইলে ফোন দিয়ে কান্না জড়িত অবস্থায় বলে ‘আমি খুব বিপদে আছি আমাকে যদি দেখতে চাও তবে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে’ বলে ফোন রেখে দেয়। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে রহমান একটি বিকাশ নাম্বার দেয়। এই করুন অবস্থায় নাসিমা তার ভাই মনির সহ আত্মীয় স্বজনকে ঘটনাটি জানায়। এবং রহমানের দেয়া বিকাশ নাম্বারে ১৫ হাজার টাকা পাঠায় ও পাঠানো টাকা রহমান পেয়ে বাড়িতে আসছে বলেও জানায়। পরে রাত যতই গভীর হতে থাকে আঃ রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর অপেক্ষার পরদিন ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানা পুলিশকে মৌখিক ভাবে অবগত করলে থানা পুলিশ বিকাশ নাম্বারে ফোন করে জানতে পারে এ দোকানটি মাধবদী থানার খিলগাঁও বাজারে অবস্থিত এবং খিলগাও গ্রামের টুকু মিয়ার পুত্র শাহ আলম(২৫) টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। পুলিশ বিকাশের দোকানি মোঃ জাকারিয়া (৩০) কে সাথে নিয়ে শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে শাহআলমের বৃদ্ধ মা বাবাকে থানায় নিয়ে এলে মাধবদী পৌর মেয়র সহ ব্যবসায়ীদের সুপারিশ ও  শাহ আলমকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার শর্তে তারা থানা থেকে ছাড়া পায়।  তবে এখনো পর্যন্ত শাহ আলম পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। পরে পুলিশ তাদের গোপন সংবাদে পাওয়া তথ্যমতে মাধবদীর নুরালাপুর ইউনিয়নের শ্যামতলীতে অপহরণকারী আরিফের আত্মীয়র বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে আঃ রহমানের ছোট ভাই মনির বাদী হয়ে পরদিন ২৫ আগস্ট মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে মামলা নং-৩৪, তাং-২৫/০৮/২০১৭ইং। ধারা ৩৬৪/৩৮৬/১০৯/১১৪/৩৪ দন্ডবিধি মতে। আসামী আরিফের দেয়া তথ্য মতে ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর অপহরণকারী আরিফ ও রাকিব নৌকায় আঃ রহমানের হাত পা বেধে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে লাশের সাথে ভাড়ী কিছু বেধে নদীতে ফেলে দেয় যাতে লাশ ভেসে উঠতে না পারে। আরিফকে সাথে নিয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ২৫ আগস্ট বিকেল থেকে সন্ধা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ ১৭ জনের ডুবুরি দল নিয়ে মেঘনা নদীতে খোঁজা খুঁজি করে লাশ না পেয়ে ফিরে আসে। ঐ দিনই আরিফের ভাই রাকিবকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর খুনি রাকিবের দেয়া তথ্য মতে পরদিন ২৬ আগস্ট শনিবার পুনরায় আরিফ ও রাকিবকে সাথে নিয়ে ডুবুিড় দল সহ মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের উদিংদিয়া এলাকার মেঘনা নদী তীরে দুপুর থেকে দীর্ঘ ৪/৫ ঘন্টা চেস্টা চালিয়ে বিকেল পৌনে ৪ টায় হাত পা বাঁধা অবস্থায় কচুরীপানার নিচ থেকে আঃ রহমানের মৃত দেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। অপহরণকারীরা পরিকল্পিত ভাবে অপহরণ ও হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে পলিশ সূত্রে জানাগেছে। এ ঘটনায় পুরো মাধবদীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ