মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ব্যাটিং বিপর্যয়ে অস্ট্রেলিয়াও

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ২৬০/১০ (৭৮.৫ ওভার)

অস্ট্রেলিয়া : ১৮/৩ (৯ ওভার)।

রফিকুল ইসলাম মিঞা : প্রথম দিনেই শেষ বিকেলের রোমান্সে জমে উঠেছে ঢাকা টেস্ট। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ২৬০ রানে। আর শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও পড়েছে ব্যাটিং বিপর্যয়ে। শেষ পর্যন্ত ১৮ রানে প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে প্রথম দিন পার করেছে সফরকারীরা। ফলে প্রথম দিন শেষে ২৪২ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। প্রথমদিন বাংলাদেশ ৭৮.৫ ওভার আর অস্ট্রেলিয়া খেলেছে ৯ ওভার। ঢাকা টেস্টকে ঘিরে বৃষ্টির শংকা থাকলেও গতকাল বৃষ্টিতে তেমন সমস্যা হয়নি। প্রায় আধা ঘন্টার মতো খেলা হয়নি বৃষ্টির কারণে। ফলে খেলা কম হয়েছে ১.৫ ওভার। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দু-দলই ব্যাট করতে নেমে প্রথমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে ২৬০ রান করলেও আজ দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া কি করে সেটাই দেখার বিষয়। গতকাল শেষ বিকেলে বাংলাদেশ বোলিংয়ে যে চমক দেখিয়েছে তা আজ দেখাতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্টে ভালো করার আশা করতেই পারে বাংলাদেশ।

গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট হাতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা। তবে পরবর্তীতে শক্ত হাতে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে উঠেন ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। ব্যাট করতে নেমে প্যাট কামিন্সের দ্বিতীয় ওভারে শুরুতেই বাইরের বল খোঁচা মেরে গালিতে পিটার হ্যান্ডসক¤কে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ওপেনার সৌম্য সরকার। মাত্র ৮ রান করেন তিনি। এরপর চতুর্থ ওভারে ফের আঘাত হানেন কামিন্স। ক্যামিন্সের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। কিন্ত ম্যাথু ওয়েডের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল। পরের বলে আউট হন সাব্বির রহমানও। যদিও আম্পায়ার আলিম দারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সাব্বির। ব্যাট মাটিতে স্পর্শ করেছিল এমন সন্দেহ থাকায় রিভিউ নেন। কিন্তু টিভি আম্পায়ার আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। সৌম ৮ রান করে আউট হলেও ইমরুল আর সাব্বির রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ফলে ১০ রানে প্রথম তিন উইকেট হারানো দলকে টেনে তুলার দায়িত্ব ছিল তামিম-সাকিবের উপরই। নিজেদের ফিফটি টেস্টে ব্যাট করতে নেমে তারা হতাশ করেনি দলকে। দু-জনে মিলে ১৫৫ রানের জুটি গড়েই দলকে সামনের দিকে নিয়ে গেছেন। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌছে যায় ১৬৫ রানে। উভয়েরই করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। তামিম ৭১ আর সাকিব ৮৪ রান করে আউট হন। টেস্টে এটা ২২তম হাফসেঞ্চুরি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের। আর ২৩তম হাফসেঞ্চুরি বাঁহাতি ওপেনার তামিমের। দলীয় ১৬৫ রানে এই সফল জুটিটাই ভেঙে দেন ম্যাক্সওয়েল। তামিমের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। ম্যাক্সওয়েলের বলে আউট হওয়ার আগে ৭১ রান করেন তামিম। ১৪৪ বলে তিন ছক্কা আর ৫ চারে তামিম করেন ৭১ রান। এই অফ স্পিনারের কাছ থেকে বাড়তি কিছুই চেয়েছিলেন অধিনায়ক স্মিথ। টেস্টের আগেই এমনটাই জানিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। অবশেষে প্রথম টেস্টে সেই কাজটাই করে দেখালেন ম্যাক্সওয়েল। থিতু হয়ে যাওয়া ওপেনার তামিমকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি। তামিমের বিদায়ে সেঞ্চুরির প্রত্যাশা ছিল সাকিবের কাছে। সে পথেই হাটছিলেন সাকিব। কিন্তু ৮৪ রানে গিয়ে থামতে হয়েছে তাকেও। দলীয় ১৮৮ রানে বাংলাদেশ হারায় সাকিবের উইকেটটি। নাথান লিওনের বলে স্টিভেন স্মিথের হাতে ধরা পরার আগে সাকিব করেন ৮৪ রান। ১৩৩ বলে ১১ চারে সাজানো ছিল সাকিবের ৮৪ রানের ইনিংস।

তামিম-সাকিব আউট হওয়ার পর ভরসা ছিল অধিনায়ক মুশফিকের উপর। কিন্তু মুশফিক পারেননি প্রত্যাশা পূরন করতে। মাত্র ১৮ রানে মুশফিক আউট হলে দলের বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়। অধিনায়কের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় ষষ্ঠ উইকেট। দলের স্কোর তখন ২০৪ রান। ডাউন দ্য উইকেটে এসে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু অ্যাস্টন অ্যাগারের করা বল ব্যাটে না লেগে সরাসরি আঘাত করল মুশফিকুর রহিমেরে প্যাডে। যে আবেদনে আম্পায়ার নাইজেল লং সাড়া দিলে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাঠের আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন মুশফিক। তাতে অবশ্য কাজ হলো না। টিভি রিপ্লেতে ধরা পড়ে প্যাডে লাগা বলটা আঘাত করছে সরাসরি উইকেটে। ফলে ফিরে যান মুশফিক। দলীয় ২০৪ রানে প্রথম ৬ উইকেট হারানো দলের কাছে বড় স্কোর গড়ার আশা করাটা কঠিনই ছিল। তবে অলআউট না হয়ে দিনটা পার করাটা আশা করেছিল সবাই। কিন্তু সেটা আর হয়নি। বাংলাদেশ শেষ চার উইকেটে দলের স্কোরটা নিতে পরেছে ২৬০ রানে। সপ্তম উইকেটে নাসিরের সাথে ৪২ রান যোগ করেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগেরটি ছিলো ২৭ রানের। ২০০৩ সালে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭ রান করেছিলেন খালেদ মাসুদ ও খালেদ মাহমুদ। নাসির ২৩ রান, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ রান আর শফিউল ১৩ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যামিন্স, লিয়ন ও আগার নেন তিনটি করে উইকেট। বাকি একটি উইকেট নেন ম্যাক্সওয়েল।

ফলে বাংলাদেশকে ২৬০ রানে অলআউট করে প্রথম দিনেই ব্যাট করার সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়াও। কারণ ১৪ রানে অস্ট্রেলিয়া হারায় প্রথম তিন উইকেট। দলীয় ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার ওর্য়ানারকে ৮ রানে এলবি আউট করে ফিরান মেহেদী হাসান মিরাজ। দলীয় ১৪ রানে দলটি হারায় দ্বিতীয় উইকেট। এবার ওসমান খাজা রান আউট হন ১ রান করে। দলীয় ১৪ রানে আবার সফল আঘাত বাংলাদেশের। এবার লাথান লিওয়নকে শূন্য রানে এলবি আউট করে সাকিব অস্ট্রেলিয়াকে বিপদেই ফেলে দেন। কারণ ১৪ রানে দলটি হারায় প্রথম তিন উইকেট। আর ৯ ওভারে তিন উইকেটে ১৮ রান করে প্রথমদিন পার করে সফরকারীরা। দিন শেষে রেনশ ৬ ও অধিনায়ক স্মিথ ৩ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের মিরাজ ও সাকিব ১টি করে উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ