সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের  নথি দুদকে পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট

 

স্টাফ রিপোর্টার : আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরি, বেতন-ভাতা ও আর্থিক বিবরণীর নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট থেকে এ বিষয়ে তদন্তে নিরুৎসাহিত করা হলেও সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা হতে এসব নথির অনুলিপি দুদকে পাঠানো হয়েছে।

বিচারপতি জয়নুল আবেদীন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনার তদন্তে এক সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। তার প্রতিবেদনে বলা হয় গ্রেনেড হামলায় বিদেশী শক্তি জড়িত। এই প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয় আওয়ামী লীগ। দুদকের নথি চাওয়ার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সম্মতি না দেয়ায় গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করছেন। 

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, পাঠানো ওই নতির মধ্যে বিচারক হিসেবে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের যোগদানপত্র ও অবসর গ্রহণের তারিখ সম্বলিত কাগজপত্র, চাকরির সূত্রে বিভিন্ন বেতন-ভাতা, অবসর সুবিধাসহ বিভিন্ন খাতের আর্থিক বিবরণী রয়েছে।

২০১০ সালের ১৮ জুলাই বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাবের তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদক। ওই নোটিশের প্রেক্ষিতে তিনি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেন। এরপর দুদকের দেয়া নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন ২০১০ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। রিটের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট  বেঞ্চ বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি বিবেচনায় খারিজ করে দেন।

তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর সুষ্ঠু যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধানের স্বার্থে রেকর্ডপত্র, কাগজপত্রাদি পর্যালোচনার জন্য গত ১২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান দুদকের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। চিঠিতে বলা হয়, বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের চাকরির মেয়াদ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও চাকরি সূত্রে বিভিন্নখাতে গৃহীত অর্থের বিবরণীর কাগজপত্রাদি প্রয়োজন। এরপর আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী এ রেকর্ডপত্র দুদকে পাঠান।

এর আগে গত ২ মার্চ অনুরূপ অনুরোধ জানিয়ে রেকর্ডপত্র  চেয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক। সুপ্রিম কোর্ট থেকে গত ২৮ এপ্রিল চিঠি দিয়ে দুদককে বলা হয়েছিল, ‘বিচারপতি জয়নুল আবেদীন দীর্ঘসময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক মামলার রায় প্রদান করেন। অনেক ফৌজদারি মামলায় তার দেয়া রায়ে অনেক আসামীর ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দেয়া রায় সকলের উপর বাধ্যকর। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তার দেয়া রায়সমূহ প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনমনে বিভ্রান্তির উদ্রেক হবে। ফলে তার বিরুদ্ধে কমিশনের কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ