বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

বাগমারায় বন্যাদুর্গত এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং ॥ মিলছে না  ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সেবা

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : বাগমারার বন্যাদূর্গত এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক লোডশেডিং। গত ৩ দিন ধরে বন্যার পানি ক্রমেই নামতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় বানভাসি মানুষেরা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তারা বাড়িতে ফিরে লক্ষ করছে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। বানভাসি মানুষেরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বাড়িঘর মেরামতের কাজে হাত দিয়েছে। এই অবস্থায় বন্যাদূর্গত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ লোডশেডিং এর কবলে পড়ে বানভাসি মানুষেরা চরম বিপাকে পড়ছে। দূর্গত এলাকাগুলোতে চব্বিশ ঘন্টায় গড়ে চার ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে বিদ্যুৎ বিহীন অন্ধকারে সাপ আতংকে রাত্রি যাপন করছে দূর্গত এলাকার লোকজন। গোরসার গ্রামের আকবর আলী (৪০) ও রমজান আলী (৩৮) জানান, দিনে রাতে দুই তিন ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। সারা রাত তাদের অন্ধকারেই কাটাতে হয়। তাদের দাবি দিনে না হোক অন্তত রাতে  থাকলে তারা সাপ পোকামাকড়ের আক্রমন থেকে বাঁচতে পারে। একই অভিযোগ করেছেন দৌলতপুর গ্রামের দেলবর আলী(৪৫)। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যার পানি প্রবেশ করার শুরু থেকেই তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ বিল পূর্বের মতই ধরিয়ে দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। অথচ এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে গেলে তা আমলে নিতে চাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি ১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের ডিজিএম রেজাউল করিম জানান, গোটা বাগামারার জন্য ১৮ মেগা ওয়ার্ট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়ার্ট। বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষের প্রতি আমাদের সহানুভুতি রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দূর্গত এলাকায় লোডেশেডিং কমিয়ে আনতে। বিদ্যুৎ বেশি নিয়ে কারো অভিযোগ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান। 

এ দিকে বন্যার পানি নামতে শুরু কারলেও দূর্গতির কমতি নেই। এলাকার কৃষকদের বিভিন্ন তরিতরকারি এবং পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে মিসিম হয়ে পড়েছে। গরীব অসহায় দিন মুজীদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কটছে। সরকারী ভাবে পর্যাপ্ত সাহায্য নেই। দেখা দিয়েছে পানি বাহিত রোগ। উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামের মেম্বর শহিদুল ইসলাম, আউচপাড়ার আলতাফ হোসেনসহ অন্তত ২৫-৩০ জানান, তাদের খেতের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বীরকয়া গ্রামের বানভাসি আবু জাফর আল মুনসুর, আলাউদ্দিন, আবুল কাশেমসহ অনেকে জানান, বাড়িঘর ছেড়ে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন এই পর্যন্ত তারা সরকারী ভাবে তেমন অনুদান পায়নি। 

বিভিন্ন গ্রামের লোকজন কোন স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে ডায়রিয়া সহ পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দূর্গত এলাকার অধিকাংশ টিউবয়েল বানের পানিতে ডুবে যায়। প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে পানিতে ডুবেছিল পশ্চিম বাগমারার নরদাশ, শুভডাঙ্গা,সোনাডাঙ্গা, দ্বীপপুর, বাসুপাড়া, কাচারীকোয়ালীপাড়া ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম। গত বৃহস্পতিবার এসব গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বন্যার ভয়াবহতা। চারিদিকের বাতাসে ভাসছে শুধুই দূর্গন্ধ। নরদাশ গ্রামের ইসাহাক আলী জানান, তাদের পরিবারে তিন সদস্য ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তার বাড়ির আশেপাশের রাস্তাঘাট এখনও চলাচলের উপযুক্ত না হওয়ায় কোথাও থেকে খাবার স্যালাইন সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি জানান, তার গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার বন্যায় আক্রান্ত। এসব আক্রান্ত পরিবারের মাত্র চার ভাগ মানুষকে সরকারি ভাবে ২/৩ কেজি হারে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের এলাকায় সীমিত আকারে কিছু ত্রান সহায়ত দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন স্বাস্থ্য সহয়তা তারা পায়নি। গোবিন্দপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিজন কুমার সরকার বলেন, তার এলাকায় এ মুহূর্তে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা দরকার। ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলার মিটিংয়ে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন।  এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবীর জানান, উপজেলায় কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে দূর্গত এলাকায় প্রতিনিয়ত মনিটরিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তার হাতে পর্যাপ্ত খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ নিত্য প্রয়োজনীয়  ওষধপত্র না থাকায় দুর্গত এলাকার লোকজনের চাহিদা মেটাতে পারছেন না তিনি জানান।    

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ