সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

যাত্রার অনিশ্চিতায় দিনভর বিক্ষোভ হজ্বযাত্রীদের

স্টাফ রিপোর্টার : হজ্ব ক্যাম্পে সামনে দিনভর বিক্ষোভ করেছে হজ্বযাত্রীরা। তারা অভিযোগ করেছেন এজেন্সিগুলোর প্রতারণার কারণে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও হজ্বে যেতে পারছেন না। এ দিকে আরো ১২টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।  

সৌদি আরবে হজ্বযাত্রায় পৌঁছাবার আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল শনিবার ছিল শেষ দিন। কিন্তু অনিশ্চয়তায় কয়েক হাজার হজ্বযাত্রী। এ কারণে গতকাল দুপুর দুইটার দিকে হজ্ব ক্যাম্পে সামনে বিক্ষোভ করেছেন তাদের অনেকেই।

আজারউদ্দিন নামের এক হজ্বযাত্রী বলেন, আমরা চাই সরকার যে ভাবেই হোক আমাদের হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিক। এছাড়া, আমাদের কিছু চাওয়ার নেই।

ছদরউদ্দিন নামের আরেক হজ্বযাত্রী বলেন, আমরা টাকা দিয়েছি, সরকারের নিয়ম মেনে নিবন্ধন করেছি। এখন কেন হজে যেতে পারবো না? সরকার যেন দ্রুত আমাদের হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করে এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি।

এ বছরের হজ্বযাত্রার শেষ মুহূর্তে শুক্রবার এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ নিয়ে হজ্বযাত্রীরা জড়ো হন আশকোনার হজ্ব ক্যাম্পে। এজেন্সিকে টাকা দিয়েও হজে যেতে না পারার অনিশ্চয়তায় মুষড়ে পড়েছেন তাঁরা।

গতকাল সকালে হজ্ব পরিচালকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন। তিনি বলেন, যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তারা যদি দুই দুনের মধ্যে হজ্বযাত্রী পাঠানোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জিডি থেকে মামলা করা হবে।

এ দিকে আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার সৌদি আরবে ১২টি বিশেষ হজ্ব ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার এ অনুমতি দিয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপরাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমেকে বলেন, বাংলাদেশ বিমানের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই দিনে ১২টি বিশেষ হজ্ব ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বিমান ১২টি বিশেষ হজ্ব ফ্লাইট পরিচালনায় অনুমতি পাওয়ায় প্রায় তিন হাজার হজ্বযাত্রীর সৌদি আরবে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিমান ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩০ হজ্বযাত্রী এ পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬০ হাজার ৯৯ জন এবং সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৫৫ হাজার ৬৩১ জন হজ্বযাত্রী পরিবহন করছে। 

হজ্ব ফ্লাইট শুরু হয় ২৪ জুলাই। বাংলাদেশে থেকে হজ্বযাত্রী পরিবহন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স। সৌদি অ্যারাবিয়ান হজ্ব ফ্লাইট পরিচালনা করবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর হজ্ব পালনের জন্য  বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ্বযাত্রী নিবন্ধন করেছিলেন। ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪৭ জন ভিসা পেয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স  ৬৩ হাজার ৫০০ ও সাউদিয়া ৬৩ হাজার ৬৯৮ জন হজ্বযাত্রী বহন করবে।

সূত্র জানায়, হজ্ব ফ্লাইট শুরুর পর থেকে ভিসা জটিলতায় ও হজ্বযাত্রীদের বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত কারণে বিমানের ২৪টি এবং সৌদি অ্যারাবিয়ার ৪টি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হজ্ব এজেন্সিগুলো অধিক মুনাফার লোভে দেরিতে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করেছেন।  

নিয়ম অনুসারে, হজ্ব যাত্রীদের ফ্লাইটের আগেই সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করে ভাড়ার রশিদ ও বিমানের টিকিট নিশ্চিত করে হজ্ব অফিস থেকে ডিও লেটার নিতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ