সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী 

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত এ মনীষা ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইচ্ছা অনুসারে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সংলগ্ন উত্তর পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।

এই ‘ধূমকেতু কবির’ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে তার অমর সৃষ্টিশীলতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এদিকে এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে সপরিবারে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ‘জাতীয় কবি’র মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি দেন। ঐ বাড়িটিতেই নজরুল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।

জাতীয় কবি নজরুল ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইতিহাস ও সময় সচেতন মানুষ ছিলেন যার প্রভাব তার লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তার সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন।

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে। এ উপলক্ষে বাদ ফজর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে কুরআনখানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সোয়া ৭টায় ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ  কবির সমাধিতে গমন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণে ভিসির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

এ উপলক্ষে সকাল ৭টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় থাকবে নজরুল সঙ্গীতের পরিবেশনা। এতে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীগণ সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

নজরুল ইনস্টিটিউট আয়োজন করেছে ‘নজরুল পদক-২০১৬’ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

খালেদা জিয়া বাণী : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখনী থেকে উব্ধুদ্ধ হয়ে দেশবাসীকে সকল রকমের অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হবার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান। 

বাণীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন কাজী নজরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাণ পুরুষ, মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সকল রকম অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার আর জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তার অনন্য সৃষ্টিতে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেননি। তিনি জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমকে বিদ্রোহ করার প্রেরণা যুগিয়েছেন। তার রচিত কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির ভান্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ। শোষণের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম তাকে ’বিদ্রোহী কবি’র খ্যাতি এনে দিয়েছে। 

খালেদা জিয়া বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সামনে চলার অন্তহীন প্রেরণার উৎস। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার কবিতা ও গান যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধা ও এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, উজ্জীবিত করেছে। আজো আন্দোলন সংগ্রামে তার কবিতা ও গান আমাদেরকে শক্তি ও সাহস জোগায়। মানব প্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মানুষকে ভালোবেসে তাদের কল্যাণে আত্মনিবেদিত হতে তার রচনা আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। তার সাহিত্যকর্ম আমাদেরকে চিরকাল স্বদেশ প্রেমে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

এদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কবি নজরুল ইসলাম তার সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে মানবতার কথা প্রকাশ করেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে লেখনীর মাধ্যমে তিনি পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফলে তিনি বৃটিশ শাসকদের চক্ষুশুলে পরিণত হন এবং কারা নির্যাতন ভোগ করেন। কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় জীবনে এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস। তার রচনা আমাদেরকে স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার স্বপ্ন পূরণে আমাদেরকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ