বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কেন হজ্বযাত্রীদের এত দুর্ভোগ ও অবমাননা?

‘হজ্বযাত্রীদের কান্না শুনছে না কেউ’ শিরোনামে একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে দৈনিক সংগ্রামে। ২৬ আগস্ট মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকশ’ যাত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। কিন্তু তাদের এ কান্না শুনছে না কেউ। রাজধানীর আশকোনার হজ্বক্যাম্পে প্রতারণার শিকার হজ্বযাত্রীদের অভিযোগ আর অভিযোগ। অভিযোগের যেন আর শেষ নেই। কোন কোন হজ্ব এজেন্সির মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগী দালালরা তাদের টাকা নিয়ে পালিয়েছে। কারো ভিসা হয়েছে তো টিকিট হয়নি, আবার কারো ভিসা-টিকিট কোনটিই হয়নি। এ পর্যন্ত হজ্বক্যাম্পে ৬৪টি এজেন্সির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর মৌখিক অভিযোগের তো কোন অন্ত নেই। এসব অভিযোগের কোন সুরাহা করছেন না কেউ। এদিকে এখনও (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) প্রায় ১ হাজার হজ্বযাত্রীর ফ্লাইট নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ বিমান।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ বছর ভিসা হওয়ার পরেও বিমানের টিকিট না পাওয়া হজ্বযাত্রীদের সংখ্যা বেশি। অনেকেই ভিসা নিয়ে ১০-১৫ দিন ধরে হজ্বক্যাম্পের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আজ না কাল, কাল না পরশু- এভাবে অপেক্ষার প্রহর গুণে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এখন শেষদিকে এসে হজ্ব এজেন্সির মালিক যাত্রীদের সাথে যোগাযোগ তো দূরে থাক, অফিসে তালা দিয়ে পালিয়েছেন। আবার অনেক এজেন্সির মালিক মাঝে মাঝে মোবাইল করে ওইসব হজ্বযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। এদিকে হয়রানির শিকার হজ্বযাত্রীদের কোন মৌখিক অভিযোগ নিচ্ছে না হজ্ব অফিস। লিখিত অভিযোগ জমা নিলেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি তারা। এদিকে আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট হজ্ব ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এখনও অনুমতি পায়নি বিমান। এ দু’দিন ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যাত্রী প্রতি ১ হাজার রিয়াল দিতে হবে। অতিরিক্ত এ অর্থ মওকুফ করার চেষ্টায় রয়েছে বিমান। এতে করে প্রায় ১ হাজার হজ্বযাত্রীর ফ্লাইট অনিশ্চিত রয়েছে। তবে শীঘ্রই এর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন হাব মহাপরিচালক এম শাহাদাত হোসাইন তাসলিম। তিনি বলেন, আশা করছি অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ফ্লাইটের অনুমতি পাওয়া যাবে। আর অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর সাথে সালিশ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যে সকল এজেন্সি প্রতারণা করেছে তাদের বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে হাবের আইনগতভাবে কিছু করণীয় নেই।
হজ্বযাত্রীদের দুর্ভোগ ও অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন বলেন, আমরা অভিযোগ জমা নিচ্ছি। আমরা অভিযোগের বিষয়ে বৈঠকে বসবো। সকলের সমস্যার সমাধান করা হবে। তিনি আরো বলেন, এখন ৬৪টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আমরা প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তবে দেশে ১৪শ’ হজ্ব এজেন্সির কোন প্রয়োজন আছে কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, হজ্বযাত্রীদের দুর্ভোগের মাত্রা যেন সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলেছে। গত বছরও আমরা প্রতারক হজ্ব এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা শুনেছি, হজ্বযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস শুনেছি। কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। তাই মৌখিক আশ্বাসের পরিবর্তে এখন প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত এবং সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ। এক্ষেত্রে অনুরাগ-বিরাগ কিংবা দলীয় মনোভাব প্রশ্রয় পেলে হজ্বযাত্রীদের দুর্ভোগ কমার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যায় না। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে হজ্বযাত্রীদের নিয়ে এমন অন্যায় ও অবমাননামূলক আচরণ লক্ষ্য করা যায় না। হজ্বযাত্রীদের দেশ থেকে সৌদি আরব পাঠানোর বিষয়টি কোন দুরূহ কাজ নয়। হজ্ব ছাড়াও বছরের অন্য দিনগুলোতে তো বাংলাদেশ থেকে প্রচুর যাত্রী সৌদি আরব গিয়ে থাকেন। সে সময় তো এতো দুর্ভোগ লক্ষ্য করা যায় না। ফলে প্রশ্ন জাগে, হজ্বযাত্রীদের ব্যবস্থাপনায় কি যোগ্য ব্যক্তিরা কাজ করছেন না, সক্ষম হজ্ব এজেন্সির পরিবর্তে কি অক্ষম ও অযোগ্য হজ্ব এজেন্সিগুলো হজ্বের কাজে যুক্ত হয়ে গেছে? এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রশ্রয় কতটা আছে তাও পরখ করে দেখা দরকার। এসব বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন কি?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ