সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

বাপেক্স-পেট্রোবাংলার সঙ্গে  নাইকোর চুক্তি বাতিল

 

স্টাফ রিপোর্টার : কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে বাপেক্সের ও পেট্রোবাংলার করা চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে টেংরাটিলার গ্যসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ বাবদ নাইকোর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন। 

রায়ে বলা হয়, সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকোর গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন দুটি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না।  আর ওই দুই চুক্তির আওতায় নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশের সব সম্পত্তি এবং ৯ নম্বর ব্লকে থাকা নাইকোর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

আদালতে রায় ঘোষণার সময় সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মো.মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম। নাইকোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সালিসে (বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা) নিয়োজিত আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গনি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, এটা স্বীকৃত যে নাইকো দুর্নীতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৩ সালে যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং গ্যাস ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি করে। এ কাজে নাইকো বাংলাদেশে তাদের তৎকালীন এজেন্ট কাসেম শরীফের সঙ্গে চার মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছিল। তাকে পরে নাইকো বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এটা স্বীকৃতি যে  কাজ পাওয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে উৎকোচ দেয়া হয়েছিল। যদিও নাইকো বলেছে যে উৎকোচ নয়, উপহার হিসেবে তারা তা দিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের উপহার সামগ্রী দেয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।

পরে আইনজীবী মঈন গনি বলেন, এটি স্বীকৃত যে নাইকো দুর্নীতির মাধ্যমে এই দুটি চুক্তি করে। এ কাজে তৎকালীন নাইকোর এজেন্ট কাসেম শরীফের সঙ্গে নাইকোর চার মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল। নাইকো একজন মন্ত্রীকে ঘুষও দিয়েছিল। এসব কার্যক্রম দ-বিধির ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের লঙ্ঘন বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

২০১৬ সালের ৯ মে বাপেক্সের সঙ্গে নাইকোর করা যৌথ উদ্যোগ চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল করেছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে আদালত ওই চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই স্থগিতাদেশ ও রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দিলেন।

রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা জানান, ২০০৩ সালে বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। একটি বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের চুক্তি, অপরটি পেট্রোবাংলার সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার। চুক্তি দুটিকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম।

দেশের কয়েকটি প্রান্তিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ওই চুক্তি দুটি হয়েছিল। সেই অনুসারে ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে নাইকো গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করে এবং সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলায় কূপ খনন করতে গিয়ে দুবার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেকে পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। আর নাইকো ইকসিডে (বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালত) গিয়ে ক্ষতিপূরণ না দেয়ার জন্য মামলা করে। ২০১৪ সালে নাইকোর পক্ষে রায় আসে। সেখানে বলা হয়, নাইকোর পাওনা ২১৬ কোটি টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ