বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নজরুল সংগীতে ভাব-ব্যঞ্জনার  গভীরতা ও শিল্প মাধুর্যতা

 

আবু মালিহা  : সংগীতের সম্রাট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সুর, তাল, লয়, ভাব, ভাষা, ব্যঞ্জনা, গীতরস এক কথায় সংগীতের ক্ষেত্রে যত ধরনের সুরের মাত্রা আছে এসব কিছুর সমন্বয়ে সংগীত জগতে এক কিংবদন্তী গীতিকার হিসেবে বিশে^ সমাদৃত হয়েছেন নজরুল। সুরকার এবং গীতিকার এ দু’টো গুণসহ সংগীতকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ললিতকলা শিল্পে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে নজরুল ছিলেন অদ্বিতীয়। 

বর্তমান বিশে^ সংগীতকে সমাজ দর্শনের আয়না হিসেবেও অনেক সংগীতবোদ্ধা মনে করেন। শিল্পকলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সংগীত তার পরিপূর্ণতার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। যার শ্রুতিমধুরতায় নানা আবেশ ও ভাব গভীরতায় অবগাহন করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি সেই সংগীতে যদি থাকে কথামালার অনিন্দ্যতা, ভাবব্যঞ্জনার গভীরতা, সুর লালিত্যের বিহ্বলতা, চিন্তা ও মননের সুখকর উচ্ছ্বলতা, তবে সে সংগীত অবশ্যই মানবিক বোধকে অতি উচ্চে তুলে ধরে এবং সাংস্কৃতিক আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটে থাকে। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের থেকে নজরুল অনন্য।  একথা বলাইবাহুল্য। জাতীয় জাগরণে এবং গণমুক্তির আহ্বানে নজরুলের গানের অবদান অনস্বীকার্য। সেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত নজরুলের বৈপ্লবিক চেতনার সংগীত ও সুর সে ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছে। যা সহজে অন্য কোন কবির ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় না।

যাই হোক, সংগীতের আরেকটি দিক হলো তার রূপকের ব্যবহার। যা মনের আবেগ, ধ্যান ও স্বপ্ন জড়িয়ে অলংকৃত করা এবং মনের গোপন বাসনার প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষাকে প্রতিফলিত করার জন্য অনুপম প্রকাশ ভঙ্গি অন্যতম শৈল্পিক গুণ। যা মানব মনের মুকুরে স্বপ্ন বিলাসী পথিকের সুরঞ্জনা আবেশে স্বপ্নচারী হয়ে কল্প বিহারে নীলগগনে ডানা মেলে ধরে। সুখ এবং আনন্দের স্বপ্ন সাগরে ভেসে বেড়ায় এবং যন্ত্রণা ও দুঃখ জীবন থেকে পরিত্রাণের প্রয়াস পায়।

গানের ক্ষেত্রে আধুনিক গান, পল্লীগীতি, জারি-সারি, রাগ, ভৈরবী, আধ্যাত্মিক, সুফি ও ভক্তিমূলক, গজল-গীত এবং শাস্ত্রীয় সংগীতসহ সব ধরনের সুর সংযোজন ও ভাব-ব্যঞ্জনার বিকাশ ও প্রকাশ এবং লালিত্য ও সুর ঝরণার অনুচয়ন এবং হৃদয়তন্ত্রীতে ভাব বিহ্বলতায় অনিন্দ্য প্রকাশের অপরূপ সুর মূর্ছনায় সংগীত মানবিক সকল মন্ত্রের অনন্য সংযোজনের এক মোহন প্রকাশ। 

এসব অনবদ্য সংগীত-প্রেম মানবতায় মুগ্ধ প্রেমরসের অনুসৃজন ঊর্ধ্বালোকের আবাহন সংগীতের নিরন্তর সুর প্রবাহের লহরী ধারায় হৃদয় আকাশ উন্মনা করে তুলে। যেন গান সাধনাকে গভীরতর করে, যে গান প্রেমকে উচ্চতায় নিয়ে যায়, যে গান মনকে বাউল করে অনন্তের আকাশে বিচরণ করায়, এমন রূপক বৈশিষ্ট্যে সংগীতের তানে সুর লহরী জাগিয়ে নির্জীব মনকে বিহ্বল জাগিয়ে ঢেউয়ের দোলায় চিত্তকে উতরোল করে, তা যেন নজরুলের চির প্রাণবন্ত সংগীত জগতের স্পৃহা থেকেই সঞ্জীবিত হয়। যে গান মহারণেও উজ্জীবিত করে বৈজয়ন্তী চেতনায় উৎসরণে দিক থেকে দিগন্তে সুরের অনবদ্য প্রকাশ ঘটায়। এতোসব রূপক ব্যবহারের ঐন্দ্রজালিক সুরের মেখলায় যিনি নিজেকে একনিষ্ঠভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি সেই নজরুল। যার উপমা তিনি নিজেই। এ কোন মোহন সুর, এ কোন জাগরণের বীণা। এমন সব সৃষ্টিশীল তূর্য নিনাদের বৈপ্লবিক ধারায় অবিরাম জাগিয়ে তুলেছেন সুরের মাধ্যমে অর্ধমৃত দেশ, জাতি ও সমাজকে তা ঐ নজরুলের সংগীত ধারা।

নজরুলের অভীষ্ট লক্ষ্য সেই সুুরই বেজে উঠে এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী/ আর এক হাতে রণতূর্য’। সত্যিই সমাজকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে এ যে এক মহা আহ্বান। জ¦রাগ্রস্ত এবং বিকারগ্রস্ত যুবসমাজ এবং পথহারা পথিকের উদভ্রান্ত গতিকে রুখে দিয়ে তিনি আরো গেয়েছেন, জীবনকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিতে তূর্য নিনাদে বলেছেন, ‘ঐ নূতনের কেতন উড়ে কালবোশেখীর ঝড়/ তোরা জয়ধ্বনি কর!/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর’।

অন্যদিকে নজরুলের বিশাল গানের রাজ্যে অনন্য স্থান জুড়ে আছে ইসলামী গান। যে গানে মুসলিম হৃদয়ে তৌহিদের বাণী, ধর্মীয় ভাবাবেগ, কোরআন হাদীসের মর্মবাণী সমন্বিত ইসলামী ঐতিহ্যের নান্দনিক প্রকাশ। আল্লাহ ও রসূলের প্রতি গভীর প্রেম এবং ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ইসলামী অনুশাসনের নিমিত্তে জীবনের উপলব্ধি ও উন্নত জীবন প্রবাহের সুরেলা প্রকাশ তাঁর অনন্য কীর্তি। যে ভাবে গভীর তত্ত্ব ও দর্শনের সাথে গান রচনার এমন বিরল সৃষ্টি অন্য কারো লেখায় সহজে দৃষ্ট হয় না।

এমনি ধরনের বহুগান ও সুরের কথা নিয়ে অনেক বোদ্ধা ও নজরুল বিশেষজ্ঞগণ গবেষণামূলক বহু লেখা লিখেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সে বিষয়ে উল্লেখ করা যেতে পারে। ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) সম্পর্কে নজরুল যে সব গানে মাহাত্ম প্রকাশ করেছেন। সেই প্রশস্তি তুলনাহীন। যেমন : 

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে,

যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে ॥ .........

এল ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী,

ব্যথিত মানবের ধ্যানের ছবি,

আজি মাতিল বিশ^ নিখিল মুক্তি কলরোলে॥

আবার, যিনি বিশে^র সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহামানব হিসেবে অভিনন্দিত হবেন- তাঁর আগমনে সর্বত্রই একটা বৈশিষ্ট্য বা স্বাতন্ত্র্যে ছোঁয়া বা ছায়া পড়বে এমন কল্পনা অসঙ্গত নয়। বিশ^বাসীর উদ্দেশে তাই কবির সানন্দ আহ্বান : 

সাহারাতে ডেকেছে আজ বান, দেখ যা

মরুভূমি হল গুলিস্তান, দেখে যা॥

সেই বানেরই ছোঁওয়ায় আবার আবাদ হল দুনিয়া,

শুকনো গাছে মঞ্জুরিল প্রাণ, দেখে যা,

বিরান মুলুক আবার হল গুলে গুলে গুলজার।

মক্কাতে আজ চাঁদের বাথান দেখে যা॥

উল্লেখ্য, মরুভূমি শুকনো গাছ, বিরানমুলুক উল্লেখের পাশাপাশি বান, গুলিস্তান, ছোঁওয়ায় আবাদ, মঞ্জুরিল প্রাণ, গুল, গুলজার এবং একটি অত্যাশ্চার্য প্রয়োগ ‘মক্কাতে আজ চাঁদের বাথান নিঃসন্দেহে নব-জীবনের পরিচয়বাহী। আরব ভূমির পরিবেশে কবির গানে এসব প্রসঙ্গ বিচিত্র বিশ^াসে ও বিন্যাসে কল্পচিত্রে, ভাবে ও ভাষার সারল্যে অর্থ দ্যোতনায় এবং এক পরিচ্ছন্ন রূপ মাধুর্যে বারংবার ঘুরে ফিরে এসেছে। 

এ ধরনের গানে হযরত মোহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে দুটি অসাধারণ উক্তি করা হয়েছে যা উচ্চ ভাব, মহৎ কবি কল্পনা ও সার্থক শিল্পকর্মের মর্যাদা লাভ করেছে।  জগতে মহৎ কবিদের কিংবা চিন্তাশীল ভাবুবকদের সৃষ্টি প্রাচুর্যের মধ্যে এমন দু’একটি ‘হিরকের টুকরো’ সদৃশ্য বাণী পাওয়া যায়। যেমন চন্ডী দাসের ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই; স্বামী বিবেকানন্দের ‘জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ^র, রবীন্দ্রনাথের কালের কপোল তলে শুভ্র সমুজ্জল। এ তাজমহল; কিংবা পর্বত চাহিল হতে বৈশাখের নিরুদ্দেশ মেঘ; ইংরেজ কবি কীটসের সেই জগদ্বিখ্যাত চরণটি। ''অ ঃযরহম ড়ভ নবধঁঃু রং ধ ঔড়ু ভড়ৎবাবৎ ... ইবধঁঃু রং ঃৎঁঃয, ঞৎঁঃয রং নবধঁঃু ইত্যাদি। নজরুলসংগীতে বিশেষ করে নাতে রসূলের মধ্যে এই গানটিকে সেই অর্থে অনবদ্য বললে খুব বেশী বলা হবে না। (নজরুল সংগীতে মহানবী : বিচিত্র অনুভবে- লাল মোহাম্মদ দিদার কান্ডারী)

অন্যদিকে নজরুলের ব্যক্তিসত্তায় কাব্য, কবিতা সংগীতের পাশাপাশি ‘বিদ্রোহী চেতনা’ দেদ্বীপ্যমান হয়ে ফুটে ওঠে জীবনের প্রতিটি বাঁকে। তাঁর বিশাল শিল্প সৌন্দর্যের মাঝে সাহিত্য দর্শন বিস্ময়করভাবে প্রতিভাত হয়েছে বিভিন্ন গানের সুর মাধুর্যে। এ বিষয়টিকে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তার একটি গবেষণামূলক লেখায় উল্লেখ করেন ‘নজরুল সাহিত্যে বিশ^ মানস’-এ বলেন, এ প্রতিভাসিত জগতের মধ্যে যাতে কোন অসংগতি বা ভেদাভেদ না থাকে তার জন্যই বিদ্রোহীর এ হুংকার। তবে বিদ্রোহীতেই নজরুল ইসলামের কাব্যজীবনের নানাবিধ সংকেত থাকলেও এখানেই তাঁর কাব্যজীবনের ইতি হয়নি। বিদ্রোহীতে প্রকাশিত এক একটা প্রতীক পরবর্তীকালে তাঁর স্বকীয় পরিধির মধ্যে চমৎকার রূপ লাভ করেছে। বিদ্রোহীতে প্রকৃতি প্রীতি চধমধহরংস-এর যে সুর উঠেছে এবং এ বিশে^র স্থিতি ও ধ্বংসের মধ্যেও তাঁর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অবকাশ পেয়েছে তার পরিচয় আমরা পাই; যেমন-

আমি শ্রাবণ প্লাবন বন্যা

কভু ধরনীরে করি বরণীয়া কভু বিপুল ধ্বংস ধন্যা।

আরো তার একক পরিচয় পাওয়া যায়, আজ কাশ বনে কে শ^াস ফেলে যায়

মরা নদীর কূলে/ ও তার হলদে আঁচল চলতে জড়ায় অড়হরের ফুলে।

আবার তাঁকে প্রথমই অপবাদ দেওয়া হয়, তার কাব্যে বা জীবনের কোন দার্শনিক মতবাদ নেই; সেই অপবাদের জ¦লন্ত প্রতিবাদ হিসেবে বলা যায়;

আমার আপনার চেয়ে আপন যেজন

খুঁজি তারে আমি আপনায়

আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি

আমারি তিয়াসী বাসনায়

আমারই রচিত কাননে বলিয়া

পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া

যে মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া

আপনারই গলে দুলে হায়।’’

(আপনি পিয়াসী, ছায়ানট)

বিশেষত নজরুলের গানে যে বিশ^প্রেম, আনন্দ বেদনা, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালবাসা গভীর আধ্যাত্ম দর্শন ও প্রকৃতি প্রেমসহ সংগীতের নানা স্রোত প্রবাহে বহু সুরেলা ধ্বনিতে অমিয় ধারার মত কলধ্বনিতে চির উচ্ছলতায় দুর্বল ও হতাশা গ্রস্তহৃদয়কে চির জাগরুক করেছে সংগীতের সুর সূধার নির্ঝরণীতে।

নজরুলের সমসাময়িককালে যত বড় বড় কবি সাহিত্যিক ছিলেন তারা প্রায়ই নজরুলের বিস্ময়কর প্রতিভার নানা দিক থেকে সমালোচনা করতেন। নজরুল নিজেও এ ব্যাপারে স্বীকার করতেন। যেমন, নজরুলের উক্তিতে.. রবীন্দ্রনাথ আমায় প্রায় বলতেন, ‘দেখ উন্মাদ তোর জীবন শেলীর মত, কীটসের মত খুব বড় একটা ট্রাজেডি আছে। তুই প্রস্তুত হ’’। এক রূপে সে শেলীর মত স্কাই লার্ক এর মত মিল্টন এর বার্ডস অফ প্যারাডাইস এর মত [বর্তমান বিশ^ সাহিত্য; নজরুল রচনাবলী ২য় খন্ড]

পূর্বেই উল্লেখ করেছি নজরুল যুগ¯্রষ্টা শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার। কবি হিসেবে নজরুল নিজেকে যেমন ‘বিদ্রোহী’ চেতনায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তেমনি সুরের জগতে অদ্বিতীয় গীতিকার হিসেবে ও বিখ্যাত হয়েছেন। নানা ধরনের সুরের ঝংকারে ঝংকৃত করেছেন ভুবনলোকে। বাঁশের বাঁশরীতে প্রেমের ভুবনকে করেছেন আলোড়িত। ভাব ব্যঞ্জনায় হৃদয়তন্ত্রীতে সুরবীণায় উদ্বেল করেছেন । মনের ব্যথার পাথারকে সুরের তরঙ্গে স্বপ্নালোকে বিচরণ করিয়েছেন প্রেয়সীর সান্নিধ্য আবেশে। হাজারো মোহন সুরে বিরহীর হৃদয়কে অতিন্দ্রীয় সুর মূর্চ্ছনায় উদ্বেল করে কল্পনার জগতকে রাঙিয়ে দিয়েছেন প্রেম সুরভিত উচ্ছ্বাসে। সংগীতের প্রতিটি শাখায় নজরুল বিচরণ করেছেন বিশ^প্রেমিক হিসেবে। নানা বর্ণে, নানা ছন্দে প্রকৃতির অনিন্দ্য রূপকে প্রকাশের ক্ষেত্রে নজরুল বিচিত্র উপমা ব্যবহার করেছেন সাবলিল ভাষায়। মুগ্ধ সুরের দ্যোতনায় প্রতিটি হৃদয়কে ভাব সমুদ্রে অবগাহন করে দেয় গভীর চিত্তরসের অনুপম নৃত্যছন্দে। মরুর হাওয়াকে গৈরিক বরণের বালিকার নৃত্যছন্দের উড়–নী হাওয়ায় তাল মিলিয়ে অনুপম ভঙ্গিতে নৃত্য দোলা ফুটিয়ে তুলেছেন বিস্ময়করভাবে কাব্য কলায়। 

এমনিভাবে বন-বীথিকায় ও পাহাড়ী গা বেয়ে ঝরনার ছুটে আশা শব্দ কলকলে নৃত্য নন্দনকে ফুটিয়ে তুলেছে দূরন্ত কিশোরীর ছন্দময়ী চলার ভঙ্গিতে। হরিণী চপলার উপমায় যেমন-

ছন্দের বন্যা,

হরিণী অরণ্যা,

নাচে গিরি কন্যা

ছলছল ঝরনা॥

এমনিভাবে, আকাশে হেলান দিয়ে

পাহাড় ঘুমায় ঐ

ঐ পাহাড়ের ঝরণা আমি

উদাস হয়ে বই

পাহাড় ঘুমায় ঐ॥

নজরুলের গানে এ সমস্ত নিরুপম উপমার ব্যবহার সত্যিই অবাক করার মত। এ যেন কল্পনার জলতরঙ্গে অনিমেশ স্রোতধারার বর্ণিল উর্মীলা তরঙ্গের চির উচ্ছ্বল সুর-ছন্দের মেখলা। সাহিত্যাঙ্গনের চির সবুজের দোলা চলে নজরুলের সংগীত মোহমুগদ্ধতায় ভরিয়ে দেয় প্রতিটি সুর সাধকের হৃদয় মন। ভাবের আবেশে জড়িয়ে পড়ে প্রাকৃতিক অসীম ঔদার্য আর প্রেমভুবনের দিক-দিগন্তে। যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যায় নন্দন-কানন সুরের ফুল্ল কুঞ্জে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ