বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতাঃ আগৈলঝাড়া উপজেলায় ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ৭টি বিদ্যালয়ের ভবনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে উপজেলা প্রকৌশল ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আবেদন করা হলেও সংস্কারের জন্য কোন বরাদ্দ আসেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ওই সকল বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা ভীতির মধ্যে রয়েছে। এসব বিদ্যালয় ধসে পড়ে যেকোন সময় বড়ধরণের দুর্ঘটনার আশংকায় রয়েছেন তারা। অনেক সময় এসব বিদ্যালয়ের প্লাষ্টার খসে পড়ে শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলো পুনঃনির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পনেরশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে রয়েছে সরকারী ০২টি বিদ্যালয়সহ মোট ৯৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রচন্ডভীতির মধ্যে শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চালাচ্ছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো ১০ থেকে ১৫ বছর পূর্বে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৌশল বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবার জন্য কাজগুলো নিম্নমানের হয়েছে। নির্মাণ কাজের সময় নি¤œমানের মালামাল ব্যবহার করায় কাজের গুণগতমান খারাপ হওয়ায় ওই বিদ্যালয়গুলো অতি তাড়াতাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পূর্ব মোহনকাঠী, পূর্ব বাগধা দাসপাড়া, জয়রামপট্টি, দর্জিপাড়া, পূর্ব গোয়াইল, বাহাদুরপুর, পূর্ব পতিহার, গোপালসেন (নিমারপাড়), আহুতি বাটরা, পশ্চিম গোয়াইলসহ ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। উপজেলা প্রকৌশল ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে সংস্কারের জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় আমাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। তাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে প্রতিমূর্হুত আতংকে থাকি যে কখন দুর্ঘটনা ঘটে।
তারা জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলো পুনঃনির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগে। তারা আরও জানান, বিদ্যালয়গুলো অনেকবার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে কাগজ-কলমের মধ্যেই তা দীর্ঘদিন সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার জানান, উপজেলার ২৩টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দ আসেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ