বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রায় নিয়ে সরকার রাজনৈতিক ইস্যু দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে বিতর্ক তুলে সরকার এটিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, এই বিতর্ক দেশের জন্য আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। সরকারের পতনের জন্য আরও দ্রুত কাজ করবে।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘অর্ণব’ আয়োজিত সরকারের নির্যাতনের শিকার কয়েকটি পরিবারকে সাহায্য প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৫টি পরিবারকে সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
মওদুদ বলেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। সরকার বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা বিচার বিভাগকে খাটো করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। অথচ তাদের দায়িত্ব হচ্ছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা।
সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের যে আচরণ আমরা দেখতে পারছি এই বিচার বিভাগের ওপরে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি, তাদের যে প্রতিক্রিয়াগুলো আমরা দেখছি তাতে আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিপক্ষে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমি বলতে চাই, এই যুদ্ধে আপনাদের পরাজয় ঘটবে, এই যুদ্ধে জনগণের জয় ঘটবে।
 প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণার রায় গত ১ অগাস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।  ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।
সরকারের মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন,  একেক মন্ত্রী একেক কথা বলছে। আমি অবাক হয়ে যাই যে কেউ কেউ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ পর্যন্ত চাচ্ছেন। এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তারা জনমত সৃষ্টি করছেন, সারা বাংলাদেশে কর্মসূচি দিচ্ছেন। কীসের জন্য?
 আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিচার বিভাগকে যদি অবমূল্যায়ন করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে যদি অবমূল্যায়ন করেন আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, যারাই বিচার বিভাগের ওপর হাত দিয়েছে, তাদেরই হাত পুড়ে গেছে। বিচার বিভাগ থাকবে ভবিষ্যতে, সংসদ চলে যাবে, সরকার চলে যাবে, রাজনৈতিক প্রশাসনও চলে যাবে কিন্তু বিচার বিভাগ থেকে যাবে।
সরকারের প্রতি আহবান রেখে তিনি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব হলো সরকার হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আজকে আপনারা এমন একটা ক্রুসেড শুরু করেছেন- যে কী করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, খুব খাটো করা যায়, ছোট করা যায়- সেই প্রচেষ্টায় আপনারা লিপ্ত। এর চাইতে দুঃখজনক আর কিছু একটি গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না।
আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সাম্প্রতিক বক্তব্য টেনে মওদুদ আহমদ বলেন, তার (খায়রুল হক) লজ্জা হওয়া উচিত। আপনি দুইটি অপরাধ করেছেন। একটি অপরাধ হলো আপনি যখন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দিলেন তখন আপনি ওপেন কোর্টে রায় ঘোষণায় বলেছিলেন, জাতীয় স্বার্থে আগামী দুই টার্ম নির্বাচন অর্থাৎ ১০ বছর এই নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু ১৬ মাস পরে (অবসরকালীন সময়ে) আপনি যে রায়টা দিলেন সেই রায়তে দুই টার্মের  নির্বাচনের বিধানটি সরিয়ে দিলেন। এটা কী ধরনের  নৈতিকতা হতে পারে? এটা একটা অপরাধ, জুডিশিয়াল ক্রাইম।
আরেকটা অপরাধ উনি করেছেন, এখন বলছেন যে, মার্শাল‘ল ফরমান অনুযায়ী যে বিধান করা হয়েছিলো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এটা এখন রাখা হয়েছে। আপনি তো নিজেই এটা রেখেছিলেন অন্য কেউ রাখে নাই। বিচারপতি খায়রুল হক সরকারের বেতনভুগ কর্মকর্তা হয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তিনি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন এখন। এজন্য বিচারপতি খায়রুল হকের আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ খেকে নিজেই সরে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন মওদুদ।
সংগঠনের সভানেত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আজিমের পরিচালনায় আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয়তাবাদী যুব দলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্র দলের সেলিনা সুলতানা নিশিতা, ‘অর্ণব বাংলাদেশ’ এর   সৈয়দ সোহেল, শ ই রাহী, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, মো. ইলিয়াস,  শৈবাল হোসেন, রমিজ রাসেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ