বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পেয়াঁজের বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবসায়ী তোষণনীতিই দায়ি -ক্যাব চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম অফিস : কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি নেতারা বলেছেন, পবিত্র রমযান, ঈদ, পূজা পার্বনকে সামনে রেখে একশ্রেণীর মৌসুমী ব্যবসায়ীর আবির্ভাব ঘটে, তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে দামবৃদ্ধির অশুভ তৎপরতায় লিপ্ত হয়। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের উপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে সাধারণ জনগনের স্বার্থ বারবার ভুলন্টিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে পেয়াঁজ এর চাহিদা মেটাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর করে, আর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন তালবাহনায় পেয়াঁজের সরবরাহ সংকট তৈরী করে জনগণের পকেট কাটলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিরব দর্শকের ভুমিকায় অবতীর্ণ। বিশেষ করে ভারতে পেয়াজর মুল্য বৃদ্ধি হলে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, মায়ানমার ও পাকিস্থান থেকে পেয়াঁজ আমদানির কোন উদ্যোগ না নিয়ে ব্যবসায়ীদের পকেট কাটার সুযোগ সৃষ্ঠি করে দিয়েছে। এছাড়াও সংকটকালীন সময়ে পেয়াঁজ সংকট মোকাবেলায় টিসিবিকে কাজে না লাগিয়ে টিসিবিকে অর্থব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে রেখেছেন। অন্যদিকে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার মনিটরিং এ অচলাবস্থা সৃষ্ঠির সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেপরোয়া হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন দিচ্ছে। এমতাবস্থায় জরুরী ভাবে ভারত ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ হতে পেয়াঁজ আমদানি করা, পেয়াঁজ সংকট নিরসনে বর্তমান মজুত গুলির স্ষ্ঠুু বন্টন নিশ্চিত, আমদানিকারক ও খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদেরকে যথাযথ মনিটরিং নিশ্চিত করা, সংকটকালীন সময়ে টিসিবিকে দ্রুত কার্যকর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজার তদারিকতে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ নিয়ে সৃষ্ঠ জঠিলতা নিরসন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে তৎপর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।
 বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন ব্যবসা বানিজ্যে মূল উপসর্গ উৎপাদক, বিক্রেতা, শ্রমিক ও ভোক্তা। আর দেশে ব্যবসা বানিজ্যের স্বার্থ সংরক্ষন করতে হলে এ পক্ষগুলির স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা নীতি নৈতিকতা বাদ দিয়ে যে যেভাবে পারে মজুত করে সরবরাহ সংকট তৈরী করে ১০০-১৫০শতাংশ পর্যন্ত লাভে পণ্য বিক্রি করছে। ভারতে পেয়াজের দামবৃদ্ধির অযুহাত তুললে বর্তমানে মুজত পেয়াঁজগুলি ৩-৬ মাসে পূর্বে আমদানি করা এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্বেও দামবাড়িয়ে জনগনের পকেট কাটলেও সরকার আমদানিকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ীদেরকে যথাযথ নজরদারি করেনি। অন্যদিকে পাইকারী ব্যবসায়ীদের দেখানো পথ অনুসরণ করে খুচরা ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া ভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
 নেৃতবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ক্যাব বছরব্যাপী বাজার মনিটরিং এর দাবি করে আসলেও মোবাইল কোর্ট আইন’০৯ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলার কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে না পারায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে মজুতদারি, সিন্ডেকেট করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজারে আগুন দিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের কোন প্রকার নজরদারি ও হস্তক্ষেপ না থাকায়, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন ও অস্থির হয়ে আছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন দেশে পেয়াজের চাহিদা বার্ষিক ২০-২২ লাখ মেঃ টন আর দেশে উৎপাদিত হয় ১৭-১৮ লাখ মেঃটন। তবে কোরবানীর ঈদে চাহিদা একটু বাড়লেও সরবরাহ জঠিলতায় ও মজুতদারির কারনে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটে কিছু ব্যবসায়ী। তাই দেশীয় উৎপাদক ও কৃষক পর্যায়ে সরকারের প্রণোদনা ও ঋনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সহ-সভাপতি হাজী ইকবাল আলী আকবর ও সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ