বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বেনাপোল বন্দরে আটকে আছে ৩শ চালবাহী ট্রাক

বেনাপোল সংবাদদাতা : চাল আমদানিতে বিদ্যমান ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহারের প্রত্যাশায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি ও খালাশ বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। গত ছয় দিন ধরে হিলি স্থলবন্দরের ভেতর আটকে আছে প্রায় ৩১০ ট্রাক চাল বোঝাই ট্রাক। ফলে পণ্য লোড আনলোডসহ ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এভাবে চাল খালাস বন্ধ থাকলে বন্দরে বড় ধরনের পণ্যজট সৃষ্টি হতে পারে।
দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রুত চালের মজুদ বাড়াতে চাল আমদানিতে পুরোপুরি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেয়া হয়। গত ৭ আগস্ট মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই বিন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।
চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থাকায় বেনাপোল ন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে কয়েকটি ট্রাক করে চাল আমদানি হতো। পরে গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধারণ করায় বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বেড়ে যায়। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট আ: খালেক জানান, চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় আমদানিকারকরা চাল খালাস করছেন না। ফলে বন্দরের ভেতরে চালের ট্রাক আটকা পড়ে আছে। আমদানিকারকরা ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাস না নিয়ে শুল্কপ্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবেন এমন আলোচনা চলছে গত কয়েকদিন ধরে। এর ওপর গত ৭ আগস্ট সোমবার এ সংক্রাত খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না। কারণ সরকার চাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। ফলে বন্দরে তিন শতাধি চালের ট্রাক আটকা পড়ে আছে।
তারা আরও জানান, এছাড়াও শুল্কপ্রত্যহারের এমন খবরে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকাকরকরা। এর ওপর আবার গত বুধবারে চাল আমদানিতে শুল্কহার ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ৫ ভাগ করতে মন্ত্রীসভায় সিদ্ধাত হয়েছ বলে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর কোন কাগজপত্র বা আদেশের কপি কাস্টমসে আসেনি। এতে করে আমদানিকারকরা দ্বিধায় আছেন।
বর্তমানে চাল আমদানিতে যে ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে। ফলে প্রতি কেজি চালে ৩ থেকে সাড়ে ৩টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। এখন সরকার যদি এই ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।
বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, আগে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১শ’ ট্রাক চাল আমদানি হতো এবং প্রতিদিনই সেসব চাল বন্দর থেকে খালাস হয়ে যেতো। কিন্তু চাল আমদানিতে আরোপিত ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবে সরকার এমন খবর প্রকাশের পর গত সোমবার থেকেই এই বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা।
সি এন্ড এফ এজেন্টকে শোকজ
বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা ২ কোটি টাকা মূল্যের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ’র একটি চালান বন্দরের ওপেন ইয়ার্ড টিটি-১ থেকে শুল্ক গোয়েন্দা আটক করার পর এ পণ্য চালানটি পুনরায় পরীক্ষা করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টম হাউসের স্পেশাল এ্যাসেসমেন্ট গ্রুপের কর্মকর্তারা। ৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে এক যৌথ পুন; পরীক্ষণ প্রতিবেদনে এ গ্রুপের দায়িত্বরত ডেপুটি কমিশনার মারুফুর রহমান ৭ আগস্ট জানান আটক পণ্য চালানটির আমদানীকারক নারায়নগঞ্জের মোহাম্মাদীয়া স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড। এ আমদানীকারক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিক ফার্নেস নামে ৮০ প্যাকেজ মালামাল আমদানি করেন যার মেনিফেস্ট নং- ৩৩৬৭৭/১১, তারিখ ১৩-০৭-২০১৭, বিল অব এন্ট্রি নং ৪১১৭৬, তারিখ ১৭-০৭-২০১৭। পণ্য চালানটির ঘোষিত গ্রোস ওজন ১৩৩,৫৩৯০০ কেজি এবং নীট ওজন ১২১,২৭৫০০ কেজি। কিন্তু চালানটির পণ্যের ওজন ও এইচ এস কোডের ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। যা মিথ্যা ঘোষণা প্রমাণিত হয়।
পুনরায় চালানটির কায়িক পরীক্ষা করে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী ২০০ কেজি ট্রান্সফরমার অয়েল এর স্থলে ৮৩৬ কেজি এবং ৫০ কেজি লুব্রিকেন্ট এর স্থলে ২৫ হাজার ২০ কেজি গ্রিজ বেশি পাওযা যায়। আটককৃত পণ্যের মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা এবং শুল্ক ফাঁকির পরিমান ৭০ লাখ টাকা। পণ্য চালানটি মাত্র ১২ লক্ষ টাকা শুল্ক পরিশোধ করে বন্দর থেকে গোপনে খালাশ নিয়ে যাচ্ছিল সি এন্ড এফ এজেন্ট গনি এন্ড সন্স।
বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের পরিচালক (ডেপুটি কমিশনার) সাদেক হোসেন জানান, বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট  গণি এন্ড সন্স ১৭ আগস্ট ২০১৭ এ পণ্য চালানটির বিল অব এট্রি দাখিল করেন এবং পরীক্ষণ গ্রুপ ৫ এর অধিনে পণ্য চালানটির প্রাথমিক পরীক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করেন ১৮ সেপ্টমবার-২০১৭। প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন সহকারী কমিশনার আলী রেজা হায়দার, রাজস্ব কর্মকর্তা মো; শহীদুল্লাহ ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ। এ তিন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ইনভয়েজ ও প্যাকিং লিস্টে ঘোষণা মোতাবেক পণ্যচালানটির মালামাল সঠিক আছে। কিন্তু আটক পণ্যচালানটি পুন; পরীক্ষণ করে ২৫৬০৬০০ কেজি পণ্য বেশি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বেনাপোল বন্দর এলাকায় রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িতদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার শওকাত হোসেন জানান, পণ্যচালানটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাশ নেয়ার অভিযোগে সংশ্লিস্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট গনি এন্ড সন্সকে শোকজ করা হয়েছে। তাছাড়া শুল্ক ফাঁকির সাথে জড়িতদের এবং সহায়তা কারীদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ