মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

সন্তানসহ আটক বিদেশী দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ  শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে  

গাজীপুর সংবাদদাতা : কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারা কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে বিদেশী নাগরিককে নিয়ে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বৃহস্পতিবার হঠাৎ অবতরণ করে। এ নিয়ে ওই কমপ্লেক্সের চারটি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কারারক্ষীরা এঘটনায় হেলিকপ্টারের আরোহী মালেয়েশিয়ার এক মহিলা নাগরিক, তার স্বামী বাংলাদেশী বশোদ্ভুত মালেয়েশিয়ার নাগরিক এবং তাদের তিন সন্তানকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা হলো- মালয়েশীয় স্ত্রী হাসনা আরা বিনতি, তার স্বামী কুমিল্লার হোমনা এলাকায় জন্ম গ্রহণকারী মালেয়েশিয়ার নাগরিক বিল্লাল হোসেন (৫০), তাদের দুই বছরের ও আট বছরের দুই মেয়ে এবং পাঁচ বছরের এক ছেলে সন্তান। 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলসুপার সুব্রত কুমার বনিক জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আকাশে চক্কর দিয়ে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টর মালেয়েশিয়ার কয়েক নাগরিককে নিয়ে কারা চত্বর এলাকায় আরপি গেইটের পাশে কারাস্কুল মাঠে আচমকা অবতরণ করে। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে হেলিকপ্টারটি দ্রুত উড়ে চলে যায়। পরে কারা রক্ষীরা হেলিকপ্টারের আরোহী মালেয়েশীয় দম্পতি ও তাদের তিন শিশু সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দুপুর দেড়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা কারাকর্মকর্তাদের জানায়, কুমিল্লার হোমনা এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন বিল্লাল হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মালেয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর বিল্লাল হোসেন সেদেশের এক নারী হাসনা আরা বিনতিকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি স্বপরিবারে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন বিল্লাল হোসেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বিল্লাল হোসেন গাজীপুরের কোনাবাড়ির আমবাগ কুদ্দুস নগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তারা মেঘনা কোম্পানি থেকে ভাড়া করা একটি হেলিকপ্টার যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে রওনা হন। কিন্তু পাইলট ভুল করে কোনাবাড়ি কুদ্দুস নগর স্কুলের পরিবর্তে কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে অবতরণ করে এবং তাদের নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরে কারারক্ষীরা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তবে কড়া নিরাপত্তা পাহারার মধ্যে কীভাবে হেলিকপ্টারটি কারা ক্যাম্পাসে নেমে আবার বিনা বাধায় এলাকা ত্যাগ করতে পেরেছে সে বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ