মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিচারপতি খায়রুল হক ও আ’লীগের  নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে কোনও অমিল নেই  -----মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের মধ্যে কোনও অমিল নেই মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের ৫ম, ৭ম ও ১৩তম সংশোধনী বাতিলের ফলে আজ দেশে যে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ভঙ্গুর করে ফেলেছে। তিনি বলেন, বিচারপতি খাইরুলের বক্তব্যই আওয়ামী লীগের বক্তব্য। বিচারপতি হকের রায়ের পরেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থীতিশিলতা এবং হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করেছেন। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক, দার্শনিক দিক-নির্দেশনামূলক দলিল এই রায়টির মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি ম্যাগনাকার্টা বলেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে নির্ভিকভাবে। হতাশাগ্রস্ত জাতি এই রায়ের মাধ্যমে আশার আলো দেখতে পেয়েছে। আমরা সেজন্যই এই রায়কে স্বাগত এবং আপিল বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়েছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার বা সরকারী দল আওয়ামী লীগ কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগেই সাবেক প্রধান বিচারপতি বর্তমান আইন কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি খায়রুল হক রায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেন। মনে হলো-এই রায়ের ফলে তাঁর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আইন কমিশনের আসনে বসে সুপ্রীম কোর্টের রায় ও প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে তিনি যেসব উক্তি করেছেন তা শুধু অশালীনই নয়, তা রীতিমত আদালত অবমাননার সামিল।

বিচারপতি খায়রুল হক তাঁর সময় যেসব রায় দিয়েছেন তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা দেশের মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ম, ৭ম ও ১৩তম সংশোধনী বাতিলের ফলে আজ দেশে যে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ভংগুর করে ফেলেছে। 

বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের মধ্যে কোনও অমিল নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচারপতি খাইরুলের বক্তব্যই আওয়ামী লীগের বক্তব্য। বিচারপতি হকের রায়ের পরেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থীতিশিলতা এবং হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার হয়ে উঠেছে লাগামহীন। এ রায়ের ফলে তত্তাবধায়ক সরকার বাতিলের ফলসরূপ আওয়ামী লীগ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দর্শনের মূল উৎপাটন করে প্রায় একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক সরকার চাপিয়ে দিয়েছে। কোন কার্যকরী পার্লামেন্ট নেই।

সরকারের কোন জবাবদিহীতা নেই মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, খায়রুল হকের রায়ের কারণে সকল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জলাঞ্জলী দিয়ে একদলীয় দু:শাসনে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। দূর্নীতি আজ সকল নজির ছাড়িয়ে গেছে। জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের জনগণের কোন ম্যান্ডেড নেই- পার্লামেন্টও নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা, বাকি ১৪৭ আসনে প্রকৃত পক্ষে কোন ভোটারই ভোট দিতে যাননি। সেই পার্লামেন্টে বিচারকদের অভিসংশন, অপসারনের দায়িত্ব পেলে শেষ ভরসার জায়গাটুকু হারিয়ে যাবে। বিচারপতি খাইরুল হকের বক্তব্যকে আমরা ধিক্কার জানাই। 

 মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিচারপতি খায়রুল তার কৃতকর্মের জন্য কোন অনুশোচনা তো করেননি বরং একটি অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। গত পরশু এবং গতকাল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই রায়ের উপর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তারা হতাশ হয়েছেন, সংক্ষুদ্ধ হয়েছেন। তাতো হবেনই। তাদের সৃষ্ট দানব যে তাদেরকেই গ্রাস করতে চলছে তা এখনও তারা বুঝতে পারছেন না।

তিনি রায়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগকে আর একবার ধন্যবাদ জানাই এই জন্য যে তাঁরা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। সীমাহীন দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অহংকার আজ স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল স্বপ্ন ও অর্জনগুলিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে। এই দুঃসময়ে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের এই রায় সুশাসনের জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, মানবাধিকারের জন্য, নিঃসন্দেহে আশার আলো।

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, আমরা সংগ্রাম করছি, সুশাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্রের জন্য। আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্তু এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টর মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, নিতাই চন্দ্র রায় প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ