শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

শরীয়তপুরে পদ্মায় ট্রলার ডুবিতে শিশুসহ তিনজন নিখোঁজ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুরের পদ্মায় ট্রলার ডুবিতে তিন যাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ঘটনার পর পদ্মার বিবিন্ন পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ নিখোজ যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ সকাল সাড়ে ৭ টায় শরীয়তপুরের নড়িয়ার ইশ্বরকাঠি এলাকায় এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ যাত্রীদের কোন সন্ধান এবং ট্রলারটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নড়িয়া থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ মজিদ শাহের মাজার থেকে ওরশে অংগ্রহণ শেষে  বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টায় নড়িয়া উপজেলার সাধুর বাজার পদ্মা নদীর পাড় থেকে ১৬ জন যাত্রী নিয়ে জাজিরার উদ্দেশ্যে একটি ট্রলার ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে ট্রলারটি ইশ্বরকাঠি পৌছলে ট্রলারের তেল শেষ হয়ে যায়। এর পর ট্রলার চালক নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের ইশ্বরকাঠি এলাকায় পদ্মার পাড়ে থামিয়ে জ্বালানী তেল আনতে যায়। এ সময় প্রবল স্রোতে নদীর পাড় ধসে পড়লে ট্রলারটি প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা ১৬ যাত্রীর মধ্যে ১৩ জন যাত্রী সাতরে ও স্থানীয় রোখজনের সহায়তায় পাড়ে উঠতে পারলেও এক শিশু সহ তিন জন নিখোজ হয়। তারা হলেন, জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের উত্তর ডুবুলদিয়া ধলুআকনকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হাওলাদারের তিন বছরের শিশু কন্যা আয়েশা, ইব্রাহিম খালাসীর ১৫ বছরের ৯ম শ্রেনী পড়ুয়া ছেলে রোমান হাওলাদার ও মৃত জবেদ আলী আকনের স্ত্রী শিরিন বেগম ৬০। নিখোজদের এখনো পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর পাড়ে নিখোজদের স্বজনরা আহাজারি করছে। খবর পেয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ও নড়িয়া নৌ পুলিশ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পদ্মা নদীর ভাটিতে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার দৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিখোজদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিরিন আক্তারের ছেলে সেলিম আকন বলেন, গতকাল আমার মা মুলফৎগঞ্জ মজিদ শাহের মাজারে উরশে যায়। বাড়ি ফেরার  পথে পদ্মা নদীতে ট্রলার ডুবিতে আমার মা নিখোজ রয়েছে।

জনৈক ট্রলার যাত্রী বলেন, ট্রলারটি সাধুর বাজার থেকে ছেড়ে ইশ্বরকাঠি এলাকায় পৌঁছলে তেল ফুরিয়ে গেলে চালক তেল আনাতে যায়। পদ্মার পাড়ে থামানো ট্রলারে উপর পাড় ভেঙ্গে পরলে ট্রলারটি ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রলারে থাকা ১৬ যাত্রীর ১৩ জন পাড়ে উঠতে পারলেও ৩ জন তলিয়ে যায়। 

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসলাম উদ্দিন বলেন, ট্রলার ডুবির খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ সহ আমরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করি। নিখোজদের সন্ধানে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ