শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিবে -অর্থমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হলে অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে এবং তা মোকাবিলার সর্বৎকৃষ্ট উপায় দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর জোর দেয়া। একই সঙ্গে ২০২০ সালের আগে আর্থিক খাতে নতুন কোনো সংস্কার আনা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানের একটি হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘ইমপ্রুভিং ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাহিদ সাত্তারের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন আমেরিকান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জোয়েল রিফম্যান, অর্থনীতিবিদ সিদ্দিকুর রহমান ওসমানি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খান তারেক, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, পিআরআই’র ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মজুরি প্রমুখ। 

মুহিত বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স ১৯৬১ অথবা ১৯৬২ সালে নির্ধারণ করা হয়। এখনও সেটিই আছে। খোকা (সাদেক হোসেন খোকা) এটিকে বাড়ানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং প্রত্যেককে নোটিশও দেন। এটা ছিল বার্ডেন (পীড়াদায়ক)। কারণ এটি আগের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়। এটি নিয়ে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি তার ওপর বিরক্তি প্রকাশ করি। আমি এটি বাস্তবায়ন করিনি এবং তিনি নোটিশটি প্রত্যাহার করেন। তবে এত বেশি না হলেও হোল্ডিং টেক্স বাড়ানো দরকার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় ৬০ বছর হয়ে গেছে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্র্নিধারণ করা হয়নি। বনানীতে আমার ১৪ কাঠার একটি বাড়ি আছে। এর আয়তন ৫ হাজার ৮০০ স্কয়ার ফিট। অথচ হোল্ডিং ট্যাক্স মাত্র ১১ হাজার টাকা। ট্যাক্স রিবেট পাওয়ায় আমি পরিশোধ করি মাত্র ৬ হাজার টাকা।

মুহিত বলেন, আমি মনে করি নির্বাচিত দুই মেয়রের এ বিষয়ে অবশ্যই কিছু করা উচিত এবং তারা করবেন। ঢাকা সিটিতে নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২০ সালের আগে আর্থিক খাতে নতুন সংস্কার আনা সম্ভব না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের এটি শেষ বছর। আগামী বছর নির্বাচনের বছর। সুতরাং আগামী বছর নতুন কোনো সংস্কারের জন্য উপযুক্ত সময় নয়।

তিনি আরও বলেন, মধ্য আয়ের দেশ হতে হলে আমাদের ধারাবাহিকভাবে দারিদ্র বিমোচনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মধ্য আয়ের দেশ হয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হলে দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়ে উদাসীনতা যেন না আসে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। 

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মাঝামাঝি অবস্থায় আছে। এই অবস্থার উন্নতির জন্য স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি নানা পদক্ষেপ নেওয়া এখনই প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ২০১৫ সালের ১ জুলাই ওয়াশিংটন থেকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব দেশের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) এক হাজার ৪৬ থেকে চার হাজার ১২৫ ডলার, সেগুলোকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়। সে তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো তিনটি দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো কেনিয়া, মিয়ানমার ও তাজিকিস্তান। এতদিন এগুলো নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল।

সরকারের দাবি অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হবে। এজন্য সরকারের ‘পার্সপেক্টিভ প্ল্যান (২০১০-২০২১)’ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হবে ২০০০ মার্কিন ডলার, যা বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ