মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তামাকপণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর দাবিতে মানববন্ধন

গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের সামনে এইড ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে তামাক পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্ক বাণীর আইনানুগ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তামাকপণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আইনানুগ বাস্তবায়নের দাবিতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) সহ তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহ গতকাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পরে তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের গায়ে লম্বালম্বিভাবে ব্যান্ডরোল লাগানোর দাবিতে তাদের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, এসিডি, ইপসা, প্রত্যাশা, এইড ফাউন্ডেশন, উবিনীগ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বিসিসিপি, টিসিআরসি, প্রজ্ঞাসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে প্রত্যাশার হেলাল আহমেদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সৈয়দা অনন্যা রহমান, এইড ফাউন্ডেশনের আমিনুল ইসলাম বকুল, তামাক বিরোধী নারী জোটের শাহীদা আক্তার, টিসিআরসির মো: বজলুর রহমান, ইপসার নাজমুল হায়দার প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। 

উল্লেখ্য, ‘তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩’ ও এর বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী গত বছরের ১৯ মার্চ থেকে সকল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী সকল তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের উপরের অংশে ৫০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান থাকলেও সিগারেট কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপের কারণে আইন মন্ত্রণালয় তামাকপণ্যের প্যাকেটের নি¤œভাগে ৫০ শতাংশ স্থান জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণের সাময়িক অনুমতি প্রদান করলে সরকারের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) গত বছরের ১৬ মার্চ এসংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই গণবিজ্ঞপ্তি বাতিলের জন্য তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট সকল পক্ষের শুনানি শেষে গণবিজ্ঞপ্তিটি অবৈধ ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে, চলতি বছরের ৪ জুলাই এনটিসিসি নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর হতে সকল তামাকজাত পণ্যের প্যাকেট, কার্টন বা কৌটার উপরিভাগের অন্যূন ৫০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপে আবারও ভেস্তে যেতে বসেছে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আইনানুগ বাস্তবায়ন। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর হতে সকল তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে উপরের অংশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক মর্মে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করায় বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএমএ) এর বিরোধিতা করে সম্প্রতি এনবিআর’কে একটি চিঠি দিয়েছে। আবারও ব্যান্ড রোল বা স্ট্যাম্পের দোহাই দিয়ে প্যাকেটের নিম্নভাগে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

বক্তারা আরো বলেন, রাজস্ব হ্রাসের হুমকি দিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলো গত বছর যেমন এনবিআর’কে তাদের পক্ষে এনেছিল, সেই সম্ভাবনা এবারও দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সিগারেট কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ (এমডি) একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্ব-উদ্যোগে সিগারেট কোম্পানিসহ, আইন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং এনটিসিসি’র প্রতিনিধি নিয়ে গতকাল বিকাল ৩টায় একটি বৈঠকের আয়োজন করে। 

তামাকবিরোধীরা বলেন, অথচ এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ ধারা অনুযায়ী, তামাক নিয়ন্ত্রণের যেকোনো পলিসি বাস্তবায়নে তামাক কোম্পানির সাথে আলোচনার সুযোগ নেই। সিগারেটের প্যাকেটের সামনে/পিছনের পরিবর্তে পার্শ্বদেশে লম্বালম্বিভাবে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল লাগিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। এতে একদিকে ২০১৭ সালের স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল নির্দেশনাও প্রতিপালন হবে অন্যদিকে ২০১৩ সালের আইন ও ২০১৫ সালের বিধিমালার বিধান প্রতিপালন করে প্যাকেটের উভয়পার্শ্বে উপরিভাগে পঞ্চাশ ভাগ স্থান জুড়ে ছবিযুক্ত সতর্কবাণী অক্ষত (স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোলে ঢেকে যাওয়া থেকে) রাখা সম্ভবপর হবে। কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পার্শ্বদেশে স্ট্যাম্প লাগানোর বিধান প্রচলিত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ