শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতায় প্রকৃতিপ্রেম

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ : গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও কবি ও ছড়াকার হিসেবেও মতিউর রহমান মল্লিক এক স্বতন্ত্র ধারার প্রবর্তক। আবর্তিত তৃণলতা, অনবরত বৃক্ষের গান, চিত্রল প্রজাপতি, তোমার ভাষায় তীক্ষœ ছোরা, নিষণœ পাখির নীড়ে এবং ছড়াগ্রন্থ ‘রঙিন মেঘের পালকি’ তাঁর প্রকাশিত ছড়া-কবিতার গ্রন্থ। আলোচিত কাব্য ও ছড়াগ্রন্থসমূহ ছাড়াও তাঁর অনেক কবিতা ও ছড়া অগ্রন্থিত আছে। কবি মল্লিকের সকল কবিতায় গীতলতাকে ধারণ করে আধুনিক শব্দচয়ন, উপমায় শেকড়ের ডাক, ঐতিহ্যের অনুসন্ধান এবং বিষয়বস্তু নির্বাচনে বিশ্বাস ও মানবতাকে ঠাঁই দিয়েছেন অবলিলায়। শিল্পের জন্য শিল্পচর্চা, যৌনতা বা অশ্লীলতা কিংবা নারীদেহের রসালো বর্ণনা ছাড়াই মননশীল কবিতা রচনার মাধ্যমে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় মতিউর রহমান মল্লিক তা প্রমাণ করে গেছেন। তাঁর কোন কবিতাতেই অশ্লীলতার কোন ছোঁয়া নেই, নেই কোন সীমালঙ্ঘনের ইঙ্গিত। কবিতার প্রতিটি শব্দ-বাক্য, উপমা-উৎপ্রেক্ষা, আঙ্গিক নির্মাণ সবকিছুতেই তিনি মননশীলতার পথে হেঁটেছেন। তৈরি করেছেন নিজস্ব কাব্যভাষা- যা একজন কবির জন্য অপরিহার্য বিষয়। তাঁর কাব্যভাষার যে আধুনিকতা, শব্দের তৎসম ব্যবহাররীতি, নন্দিত শব্দের উৎসারণ সবকিছু তাঁর নিজস্ব ঢঙে। 

সমাজ, পরিবেশ ও প্রতিবেশসহ ইতিহাস-চেতনা একজন কবির কাব্যভাষাকে শাণিত করে। কবিতার বেঁচে থাকার জন্য কবিতায় এ সব বৈশিষ্ট্য নিয়ামক উপাদান হিসেবে কাজ করে। ইতিহাস সচেতন কবি হিসেবে মতিউর রহমান মল্লিক এক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় একদিকে যেমন ইতিহাস চেতনা অত্যন্ত প্রখর অন্যদিকে স্বদেশ, জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের স্রোতধারা সমভাবে বহমান। বাংলাদেশের বিশ্বাসী ধারার ইতিহাস সৃষ্টিতে যেসব মহামনীষীর ভূমিকা আছে তিনি তাদেরকে তুলে এনেছেন কবিতার ছত্রে ছত্রে। বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী থেকে শুরু করে মীর নিসার আলী তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, হযরত শাহজালাল, হযরত শাহমখদুম, হযরত শাহপরান, ইশা খাঁ ও মুসা খাঁর সংগ্রামী চেতনাকে যেমন ধারণ করেছেন তেমনি সাহাবী কবি হযরত হাস্সান বিন সাবিত, হযরত আব্দুল্ল¬াহ বিন রাওহা, হযরত আলী রা. এর আধ্যাত্মিকতাকে তিনি তাঁর কবিতায় সন্নিবেশিত করেছেন। যেহেতু কবি মতিউর রহমান মল্লিক একটি সুন্দর সমাজ বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন তাই তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে সেই বিপ্লবের সুরধ্বনিই গুঞ্জরিত হয়েছে। 

কবি মতিউর রহমান মল্লিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া। সবুজ মনের এ কবি সবুজের সাথেই কবিতার ঘর-সংসার গড়েছেন। বিশ্বাসের শেকড় থেকে শরীরের লোমকূপ পর্যন্ত তিনি ছুঁয়ে দিয়েছেন কবিতার পরশপাথর; নির্মাণ করেছেন উর্বর পলিমাটির ফসলী আস্তরণ- ফলিয়েছেন কবিতার সোনালি ফসল। তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত শব্দদ্যোতনার ভাঁজে ভাঁজে মানবিক উচ্চারণ; ‘বৃক্ষ বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, বাঁচাও প্রাণের স্পন্দন-মনুষ্য সমাজ।’ কারণ বৃক্ষ শুধু বৃক্ষই নয়- জীবন্ত প্রাণী; মানুষও শুধু প্রাণী নয়, জীবন্ত বৃক্ষ। বৃক্ষের শেকড় ছুঁয়েই উঠে আসে সবুজাভ প্রেম, নির্মিত হয় শান্তিময় আবাস। তাইতো বৃক্ষের বাকল ছুঁয়েই তিনি নির্মাণ করেছেন বিশ্বাসের নতুন ক্যানভাস, কবিতার মানবিক শিল্পকলা। তাঁর শব্দদর্শনে জন্ম নিয়েছে নতুন চেতনা, আবিষ্কৃত হয়েছে বিশ্বাসের বিজয়ী পতাকা।

ঋতুবৈচিত্র্যের সাথে সাথে প্রকৃতিতেও বৈচিত্র্য নেমে আসে। বাংলাদেশের এ প্রিয় ভূখ-ে ছয়টি ঋতুতে ছয় রকমের পরিবেশ খুঁজে পাওয়া যায়। এ বিষয়টিকে কবি মতিউর রহমান মল্লিক নান্দনিকতার সাথে উপভোগ্য করেছেন তাঁর কবিতার শিল্পকলায়। গ্রীষ্মের দাবদাহ ও বর্ষার ছান্দিক ঢঙ তাঁর কবিতাকে ঋদ্ধ করেছে। তিনি গ্রীষ্মের দাবদাহে বৈশাখের উন্মাতালকে দেখেছেন নতুন সৃষ্টির বেদনা হিসেবে। সমস্ত, জরাজীর্ণতা, পুরাতন কুসংস্কার ও ঐতিহ্য বিরোধী জঞ্জাল সরাতে তিনি গ্রীষ্ম ও বৈশাখকে টেনে এনেছেন। গাছের পাতায় বৃষ্টির ছন্দময় অনুরণনকে তুলনা করেছেন নবদম্পতির প্রথম মিলনের অনিমেষ শিহরণের সাথে। গাছের পাতায় বৃষ্টির ফেঁাঁটার স্পর্শ সেই অনন্ত ভালোবাসার জন্ম দেয়। বৃষ্টির ফোঁটার পরশে গাছের পাতার উঠানামার ছন্দময় গতিকে মানবজীবনের উত্থান-পতনের সাথে তুলনা করেছেন তিনি। তবে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসকে তিনি নিষেধ করেছেন ভাঙার সুর নিয়ে আসতে। এতে  জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতিসাধিত হয় তা চিত্রিত করেছেন দরদ ও ভালোবাসার সাথে।

শরৎ ও হেমন্তকালও কবি মতিউর রহমান মল্লিকের একটি প্রিয় ঋতু। কবি মতিউর রহমান মল্লিক হেমন্ত প্রকৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে নীল আকাশকে পটভূমি হিসেবে ধরে এটাকে শিল্পীর হাতের ক্যানভাস বানিয়েছেন। শিল্পীরা যেমন পরম মমতা ও যতেœ ক্যানভাসের উপর রং তুলির আঁচড় কাটেন কবিও তেমনি আকাশের নীল ক্যানভাসে হেমন্তের রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। নীল আকাশে শাদা মেঘের ভেলা, নদীকূলের কাশফুল, মিষ্টিরোদ গায়ে মেখে শাদা বকের উড়াউড়ি, শিউলী ফুলের মনকাড়া সৌন্দর্য, নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ কবির মনে যেমন দাগ কাটে- কবি সেটি কাব্যে ধারণ করে পাঠকের হৃদয়েও মাদকতা তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন।

হেমন্ত যে প্রাচুর্য এনে দেয়, শীতে তা আরো মজাদার ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নতুন ধানের হরেক রকমের পিঠাপুলি, খেজুর রসের মজাদার পায়েস, গ্রামগঞ্জে জারি সারি গান ও ওয়াজ মাহফিলের আসর, ইষ্টিকুটুমের ঘুরাঘুরি- এ সবের মজাই আলাদা। তবে শীতের মজা যেন বিত্তবানদের জন্যই নির্ধারিত। শীতের নিষ্ঠুরতায় অভাবীদের কষ্টের যেন শেষ থাকে না। গরম কাপড়ের অভাব, শীতের তীব্রতা মাড়িয়ে পেটের দায় পূরণে নেমে পড়তে হয় কর্মক্ষেত্রে; এ সবও কবি মতিউর রহমান মল্লিকের দৃষ্টি এড়ায়নি। মজাদার শীতকাল যে নিঃস্ব অসহায় ও গরীবদের জন্য বেদনাময় তাও তিনি দরদী মনের উদারতা দিয়ে চিত্রিত করেছেন। এ সময় অসহায় ও সম্বলহীন এ সব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি কবিতার ভাষায় বিত্তবানদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। 

বসন্ত মানেই প্রকৃতির নবজাগরণ। মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টাকেও তিনি বসন্তের সাথে তুলনা করেছেন। বসন্ত বাতাস অন্তরে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়, নতুন জীবনে সুন্দরের সূচনা করে। নতুন সাজে সজ্জিত হয় প্রকৃতি, গাছে গাছে নতুন পাতা, তাজা ফুলের আশার সম্ভাবনাকে নতুন ভাষায় জাগিয়ে তোলে। পুরনো দুঃখ বেদনা ভুলে নতুনকে বরণ করে নেবার প্রত্যাশায় বুক বাঁধে মানুষ। এ প্রত্যাশা নতুন জীবনের, এ প্রত্যাশা সুখ সমৃদ্ধি আর সুরভিত স্বপ্নের। কবি মতিউর রহমান মল্লিক ‘বসন্ত কাব্য’ কবিতার মাধ্যমে বসন্তের আগমনী বার্তা দিয়ে সবাইকে আশান্বিত করতে চান। সম্ভাবনার আলোতে তিনি ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলতে সদা তৎপর থাকতে পছন্দ করেন।

কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতায় প্রকৃতিপ্রেমের এক নান্দনিক ছবি অঙ্কিত হয়। প্রকৃতি বন্দনা কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একদিকে তিনি যেমন প্রকৃতি প্রেমিক হিসাবে তাঁর রূপের বর্ণনায় মশগুল অন্যদিকে তেমনি মানবজীবনে প্রভাব বিশ্লেষণেও তৎপর। প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ তাঁর কবিতায় বর্ণিল রূপ ধারণ করেছে। আবার মানব জীবনে তাঁর গুরুত্বের কথাও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। তাই তাঁর কবিতায় প্রকৃতি বন্দনার পাশাপাশি মানবতার কথাও আছে। আর এ দুটির মেলবন্ধন সম্ভব হয়েছে তাঁর অসাধারণ কাব্যশৈলীর ব্যবহারে।

কবি মতিউর রহমান মল্লিক তাঁর কাব্য সাধনার ঐতিহ্য সংগ্রহ করেছেন পূর্বসূরীদের মন্থন করে। আল্লামা ইকবাল ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রিয় কবি। ইকবালের রচনাবলী তিনি পাঠ করেছেন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে। ইকবাল যেহেতু শেকড়ের সন্ধান করতে গিয়ে সাহাবী কবিদের রচনাও পড়েছেন- কবি মতিউর রহমান মল্লিকও ছুটে গিয়েছেন সেই কাব্যধারার কাছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি জীবনানন্দ দাশ, কবি জসীমউদ্দীন, সর্বোপরি কবি ফররুখ আহমদকে আত্মস্থ করেছেন হৃদয়ের মমতা দিয়ে। বাংলা ভাষার কবিদের পাশাপাশি তিনি শেখ সাদী, রুমী, হাফিজ ও অন্যান্য ভাষাভাষী প্রধান কবিদের রচনাশৈলী হৃদয়ে ধারণ করেছেন। তাঁদের লিখনীকে মন্থন করে কাব্যব্যাকরণের সমৃদ্ধ জ্ঞানে ইসলামের সুমহান মর্মবাণীকে তিনি বিন্যস্ত করেছেন তাঁর রচনায়। তাইতো তাঁর রচনায় ভিন্ন মাত্রার স্বাদ পাওয়া যায়। 

কবিতা শব্দের খেলা হলেও ছন্দ, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, বিষয়ের গভীরতা এবং ইঙ্গিতময়তাকে কবিতার প্রাণ বলা চলে। আবার যুতসই অন্ত্যমিলও কবিতাকে পাঠকপ্রিয়তা দান করে। কবি মতিউর রহমান মল্লিক এ সব বিষয়ে অত্যন্ত যতœশীল ও পরিচ্ছন্ন কবি। ‘জ্বলতে জ্বলতে আরো জ্বলে যেতে চাই’ এমন অসংখ্য অনুপ্রাস, ‘মনের মধ্যে মন পাখির মতন’ কিংবা ‘প্রতিটি পাতাই লালিত সিঁথির নদী/ প্রতিটি পাতাই প্রজাপতি পাল তোলা’ এমন অসাধারণ সব উপমা, ‘তুমি নির্জন, নীরবতা যেন রহস্যঘেরা সুদূরিকা’র মতো অসংখ্য মনোমুগ্ধকর উৎপ্রেক্ষা মল্লিকের কবিতাকে করেছে সমৃদ্ধ। সেইসাথে ‘হৃদয়ে উঠেছে চাঁদের অধিক চাঁদ/ চাঁদের ভেতরে সাম্যের মতবাদ’ এমন অজস্র রূপকের ব্যবহার, ‘সাত সাগরের ঢেউ থামানোর জন্যে বালুর বাঁধ’ এর মতো অগণিত শ্লেষ এবং ‘কী চমৎকার দেখানো‘র মতো পেন্টাগনের/ ভূগোল থেকে জঠর থেকে বেরিয়ে আসে ইরাকের কঙ্কাল/ ফিলিস্তিনের খুলি এবং হাড়গোড়’ এর মতো অসাধারণ সব চিত্রকল্প মল্লিকের কবিতাকে জীবন্ত করে তুলেছে। অন্যদিকে বহুমার্তৃক ছন্দের ব্যবহার কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কাব্যসম্ভারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। স্বরবৃত্ত ছন্দের পাশাপাশি অক্ষরবৃত্ত ছন্দ, মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ছন্দ, মাত্রাবৃত্ত ছন্দসহ নানাবিধ ছন্দের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাঁর কবিতাকে পাঠক হৃদয়ে বিশ্বাসের বীজ বুনতে সহায়তা করেছে। এমনকি তাঁর অষ্টক ও ষটকে লেখা অক্ষরবৃত্তের অনেক সনেট তাঁর কবিতার জগতে স্থায়ী আসন গাড়তে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে।

কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতার মধ্যে আলাদা একটা গন্ধ, ভিন্নরকম একটি ঘ্রাণ, অন্যরকম একটা মজাদার স্বাদ পাওয়া যায়। এ সব মুগ্ধতার মূলে যে ফুলটি সৌরভ ছড়িয়েছে তা হচ্ছে তাঁর নিখাঁদ বিশ্বাস। হৃদয়ে প্রভুপ্রেমের ফোয়ারা থাকলে বিশুদ্ধতার সুবাস বেরিয়ে আসে অবলীলায়- কবি মতিউর রহমান মল্লিকের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতাই মূর্ত হয়ে উঠেছে। আরশের প্রভুর সামনে মল্লিক ছিলেন বিশ্বাসী কবিপ্রাণ। বিশ্বাসের ঝা-া উঁচু রাখতে তাঁর জীবন ছিল উৎসর্গিত। মৃত্যু তাঁকে সকলের সান্নিধ্য থেকে আড়াল করেছে, তার অবদান কেড়ে নেয়নি। তাই বলা যায়- কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণার কবি, ফররুখ আমাদের চেতনার কবি, আল মাহমুদ আমাদের প্রাণের কবি আর মতিউর রহমান মল্লিক আমাদের বিশ্বাস আর ভালোবাসার কবি। সত্যিকার অর্থে এ কবিপ্রাণ হাজার বছর ধরে জাগরুক থাকবেন আমাদের মাঝে কবিতার ডানায় ভর করে- এ কথাটি সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। কেন না ঐতিহ্যের আবরণে যে কবিতা নির্মিত, দেশজ ভালোবাসায় যে কবিতার হৃদয় উদ্বেলিত সে কবিতা মরে না, মরে না সে কবিও। মতিউর রহমান মল্লিকও তাই বেঁচে থাকবেন বাংলা সাহিত্যের কোল জুড়ে আদুরে দুলালের মতো। সত্যিকার অর্থে কবিপ্রাণ এ মহাপুরুষ হাজার বছর ধরে জাগরুক থাকবেন আমাদের মাঝে কবিতার ডানায় ভর করে- এ কথাটি সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ