শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ডিমলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

নীলফামারী সংবাদদাতা: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামে বোনের নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে দিনব্যাপী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এব গৃহবধূকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে বোনের শশুর বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি  নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বিরুদ্ধে দিনদুপুরে গরু চুরির অভিযোগে ডিমলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামের দেবারু ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে একই এলাকার মৃত, মবিয়ার রহমানের মেয়ে আকলিমা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ২০ বছর আগে।
গত বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র আকলিমার দেবর, শাশুড়ীসহ শশুর বাড়ির অন্য লোকেরা তাকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেন। ঘটনাটি জানার পর আকলিমার  ছোট বোন শেফালী বেগম(৩০) শুক্রবার সকালে বড় বোনের বাড়ীতে যান।  কি কারনে বড় বোনকে এভাবে পিটিয়ে  আহত করা হযেছে জানতে চাইলে বড় বোন আকলিমার শশুর বাড়ি লোকেদের সাথে তার বাকবিত-ার এক পর্যায়ে হাতা-হাতিতে রুপ নেয়। এ সময়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকেরাসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী সহযোগীতায় ৭ মাসের অন্তসত্ত¦া শেফালী বেগমকে বেধরক ভাবে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত অবস্থায় মাঠিতে ফেলে রেখে তারাই স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সর্দার রশিদুল ইসলাম সরকারকে খবর দেন। গ্রাম পুলিশ রশিদুল ঘটনাস্থলে এসে আহত অন্তসত্তা নারী শেফালীর মুখে কোনো কিছুই না শুনে উল্টো বড় বোনের মামা শশুর খালিচা চাপানি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক  হামিদুলের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে আহত শেফালী বেগমকে একটি আম গাছের সাথে রশি দিয়ে জোরপূর্বক বেঁধে উক্ত ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে ও বড় বোনের মামা শ্বশুরের ছেলে আতাউর(৩০),ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের, আলী  হোসেন(৩২), বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম (৪৫), দেবর অফিয়ার(২৩) শাশুড়ী ওপেয়া বেগম (৫৫) ও স্থানীয় বেশকিছু প্রভাবশালী ফের শেফালীকে বেধড়ক পিটিয়ে নির্যাতন করেন। এসময় শেফালীর দুই বছরের শিশু সন্তান ইয়াসিন মায়ের নির্যাতনের ঘটনাটি দেখে কাঁদছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। চোখের সামনে বিনা অপরাধে ছোট বোনকে এমন অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে বড় বোন আকলিমা ছুটে আসলে তাকেও গ্রাম পুলিশ রশিদুল লাথি মেড়ে মাঠিতে ফেলে দেয়।
পরে বিকেলে নির্যাতিত অন্তঃসত্ত্বা শেফালীর অবস্থা বেগতিক দেখে বাঁধন খুলে দিয়ে বড় বোনের স্বামী ও শাশুরী ওপেয়া বেগম ডিমলা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে নির্যাতিতা শেফালীর বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় গরু চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। 
ডিমলা থানার এসআই ইমাদ উদ্দিন মোহাম্মদ ফিরোজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত শেফালীকে চিকিৎসা নেবার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উক্ত ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আব্দুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাওকে মারিনি,ওই মেয়েটি  অন্যের গরু চুরি করে নিয়ে যাবার সময়ে আমি বাধা দিলে সেই আমার হাতে কামর দেয় ও আমাকে লাথি মারে।
অভিযুক্ত আলী হোসেন বলেন, আমি শেফালীকে ডাংমারতো দুরের কথা তার শরীরে স্পর্শও করিনি,সে দিনদুপুরে গরু চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে উল্টো নির্যাতনের নাটক সাজিয়েছেন
ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম বলেন,গাছে বেঁধে নির্যাতনের মত  কোনো ঘটনা ঘটেনি, ওই মেয়েটি গরু চুরি করতে গিয়ে  এলাবাসীর হাতে আটক হলে তখন তিনি কয়েকজনকে কামড় দিয়ে আহত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ