বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বাগমারায় পাটের দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

বাগমারায় মাঠে শ্রমিকেরা পাট আঁশ ছোড়াতে ব্যস্ত

আফাজ্জল হোসেন বাগমারা (রাজশাহী) থেকে: রাজশাহীর বাগমারায় এবার পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। তবে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাট ধোয়ার কাজে পর্যাপ্ত শ্রমিক না পেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন চাষীরা। বাড়তি শ্রমিক মজুরীতে লোকশানে শঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়ছেন পাটচাষীরা
পাট চাষী সূত্রে জানা গেছে, পাটের বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও পরবর্তীতে সময় মত বৃষ্টিপাত হওয়াতে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে পাট চাষীরা পাট কাটা ও পানিতে পাট পচানী দেওয়া শুরু করেছেন। অনেকে পচানী দেওয়া পাট ধোয়া শুরু করেছেন। তবে পাট ক্ষেতের আশেপাশে পর্যাপ্ত জলাশয় ও পাট ধোওয়া শ্রমিক সংকটের কারণে পাট চাষীরা বড়ই বেকায়দায় পড়েছেন। বর্তমানে বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় একবেলা খাবার দিয়ে একজন পাট ধোয় শ্রমিকের মজুরী ৩শ টাকা থেকে ৪শ টাকা লাগছে। সারা দিনে একজন শ্রমিক ১৮ থেকে ২০ বিড়া(৮ মুঠায় এক বিড়া) পাট ধুতে পারে।
উপজেলার বাসুপাড়া ও গণিপুর ইউনিয়নের কয়েকজন পাট চাষীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমি পাট চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা, পচানী দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পাট ছিলা ও রোদে শুকিয়ে তা ঘরে তোলা পর্যন্ত ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এর মধ্যে পাট কাটা ও তা পরিবহন সহ পাট গাছ জাগ দেওয়ার জন্য সেগুলো কোন জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পরিবহন খরচ সহ বিঘা প্রতি খরচ হয় ১৫/১৬ হাজার টাকা। তাদের মতে, এ বছর পাটের আশ মোটা না হওয়ায় বিঘা(৩৩ শতক) প্রতি ৭  থেকে ৮ মণ হারে উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার কয়েকটি হাটে নতুন পাট বেচা কেনা শুরু হয়েছে। মানভেদে এসব পাটের দর প্রতি মন ১৬শ থেকে ১৭শ টাকা। পাট চাষীদের মতে, শুরুতেই পাটের বাজার নি¤œমুখী। তারা জানান, পাট কাটা, জাগ দেয়া ও আশঁ ছাড়াতে প্রচুর শ্রমিক খরচ হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরীতে বেহাল অবস্থায় তারা বলে দাবি করেছেন। 
শ্রমিকের মজুরী বাদে অন্যান্য খরচ দিয়ে লোকশান অবস্থায় পড়তে হচ্ছে পাটচাষীদের। এলাকার কৃষকরা ধানের মত পাটের বাজারও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারি ভাবে পাটের দাম নির্ধারন ও পাট ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহনের দাবী জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান পাট একটি পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিত আখ্যায়িত করে বলেন,  বাগামারা ও আশেপাশর এলাকায় পাটের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরতে শুরু করেছে। বিগত তিন বছরের ব্যবধানে এখানে ৫০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, বর্তমান নতুন অবস্থায় দাম কম। তবে পরে বাজার বাড়তিতে পাট চাষ করে কৃষকের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ