শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

অপরিকল্পিতভাবে বক্স কালভার্ট নির্মাণ হুমকিতে দাউদখালী নদী

মোঃ রেজাউল ইসলাম, রামপাল (বাগেরহাট) থেকে সংবাদদাতা: মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথের অন্যতম শাখা নদী দাউদখালী নদীতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অর্থায়নে ৫ টি বক্স কালভার্ট, ১টি স্লুইসগেট, নেট-পাটা ও অবৈধ বাঁধ নির্মান করে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ করে ফেলার অভিযোগ খুব পুরনো।
সরকারিভাবে একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সেটা বাস্তবায়ন না করায় হুমকির মুখে পড়েছে ওই চ্যানেলটি। জানা গেছে, ২ বছর পূর্বে ওই চ্যানেলটি সচল করা হয়। এর পাশাপাশি দাউদখালী নদীর ৯ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০১৬ সালে আংশিক খনন করা হয়। বার বার সিদ্ধান্ত গ্রহন ও তা বাস্তবায়ন না করা এবং নতুন করে চলতি অর্থ বছরে সরকারি অর্থায়নে উপজেলা ত্রান দপ্তর আরও ২টি বক্স কালভার্ট নির্মান করে নদীর স্রোতকে আরও বাধাগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থাণীয় সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গের মতামত ও জোরালো দাবিকে উপেক্ষা করে ওই নদীটি হত্যা করার সকল প্রকার আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এই নদীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও নদীটি সচলে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ওই নদীটি আবারও খনন করা হবে এমন আশার বাণী শোনা গেলেও সে সবকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নতুন করে কোটি টাকা ব্যয়ে ২ টি বক্স কালভার্ট নির্মিত হওয়ায় নদীটি সচলে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নদীটির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যত্রতত্র কালভার্ট নির্মাণ, নেট-পাটা দিয়ে ঘিরে রেখে মৎস্য চাষ ও বাঁধা জাল ধরে নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এতে ওই নদীটি দিনকে দিন আবারও মরা খালে পরিনত হচ্ছে। নদী এবং খাল দখল মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, সরকারি অর্থায়নে ছোট ছোট বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে বাধাগ্রস্থ করা এটা খুবই দুঃখজনক। এর পাশা পাশি অসাধু ব্যক্তিদের অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, নেট-পাটা ও বাঁধা জাল ধরে স্রোতকে আরও বেশি স্লথ করা হচ্ছে।
এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামীতে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ সুন্দরবন ও মংলা বন্দর আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয় রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পালের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষা ও এ এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষার স্বার্থে যে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
পানির তোড়ে ভেঙে পড়ে
তালা (সাতক্ষীরা): উপরের পানির চাপে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় নির্মাণাধীন সেতুর শাটারিং ভেঙে পড়েছে পানির মধ্যে। এতে বিপাকে পড়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার। এনিয়ে বির্তকের সৃষ্টি হয় জনমনে। একটি পক্ষ এটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তত্বাবধায়নে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার শাহাপুর বাজারের উপর দিয়ে প্রবাহিত খালের উপর এ সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। পাইকগাছার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চাঁদনী এন্টারপ্রাইজ এ কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার (পার্টনার) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাটারিং সরে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে। নতুন করে আবার কাজ শুরু করেছি।
তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহাফুজুর রহমান জানান, কাজের জন্য শাডারিং করছিল। সেই সাটারিং ভেঙ্গে পড়ে। কিন্ত ঠিকাদার আবার কাজ শুরু করেছে। কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন বলেন, ঠিকাদার সিডিউল মোতাবেক কাজ না করলে বিল পাবে। তাকে সিডিউল মোতাবেক কাজ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ